খুঁজুন
                               
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

স্বর্ণদ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণে বন্ধুপ্রতীম দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভূক্তির প্রত্যাশা সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
স্বর্ণদ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণে বন্ধুপ্রতীম দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভূক্তির প্রত্যাশা সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো, স্বর্ণদ্বীপ (নোয়াখালী) ঘুরে এসে :

সিঙ্গাপুরের অর্ধেকেরও বেশি আয়তনের সুবিশাল স্বর্ণদ্বীপ। বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে ওঠা বিস্তৃত এই ভূখন্ডে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০১৩ সাল থেকে দেশপ্রেমিক এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত এই দ্বীপটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় ও আন্তর্জাতিক মানের সেনা প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘অপারেশন বিজয় গৌরব’;শত্রুপক্ষ দমনে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

ইতোমধ্যেই এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার সেনাসদস্য। ফলশ্রুতিতে স্বর্ণদ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণের পরিসর বৃদ্ধি করে বন্ধুপ্রতীম দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভূক্ত করতে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিজের এই প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে আমাদের যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ স্বর্ণদ্বীপে পরিচালিত হলে আন্তজার্তিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতার ভাবমূর্তি আরও উজ্জল হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ, নির্দেশনা ও পরামর্শে স্বর্ণদ্বীপের অভূতপূর্ব উন্নয়নের বিষয়টিও কৃতজ্ঞচিত্তেই স্মরণ করেন সেনাপ্রধান। একই সঙ্গে স্বর্ণদ্বীপকে একটি পূর্ণাঙ্গ রণকৌশলগত প্রশিক্ষণাগার হিসেবে তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সর্বক্ষণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর জাহাইজ্জ্যার চর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে শীতকালীন এক প্রশিক্ষণ মহড়ার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী পদক্ষেপেই এই দ্বীপটি সেনাবাহিনীর বহুমুখী প্রশিক্ষণ এলাকার দীর্ঘদিনের অভাব যেমন পূরণ করেছে তেমনি সরকারের ফোর্সেস গোল ২০৩০ অর্জনে ভূমিকা রাখছে। নিজের বক্তব্যে অকাট্য যুক্তির মধ্যে দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়াদি উপস্থাপন করেন সেনাপ্রধান।

২০২০ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ নিজের বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো দেশকে শত্রুমুক্ত করতে।

যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা পায়। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৭ বীরশ্রেষ্ঠসহ সকল শহীদদের, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন অভিযান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ও বিডিআর বিদ্রোহে আত্মদানকারী সর্বমোট ১ হাজার ৮৮০ জন সেনাসদস্যকে।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘২০২০ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়। কারণ এই বছরেই আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে উদযাপন করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালির স্বপ্নপুরুষ, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।

মুজিববর্ষ শুরুর ক্ষণগণনাকালে এই মহতিক্ষণকে সামনে রেখে আমাদের হৃদয়ে বইছে মহাআনন্দ। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এ দুটি নাম একে অপরের সমার্থক। মুজিবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতির পিতার স্বপ্ন সোনার বাংলা একটি বাস্তবতা। আর এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটেছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে।

মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে আনন্দিত-গর্বিত
জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এই মাহেন্দ্রক্ষণে আজ আমরা আপনাকে আমাদের মাঝে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। আপনার শত ব্যস্ততার মাঝেও সেনাবাহিনীতে নবসংযোজিত অত্যাধুনিক সাজ সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে আয়োজিত মহড়ায় মূল্যবান সময় দিয়ে এই অনুশীলনকে অর্থবহ করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে রনাঙ্গণেই অভ্যুদয় হয়েছিলো আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর বাঙালি সদস্যগণ এদেশের আপামর জনসাধারণের সাথে কাঁধে কাধঁ মিলিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিলো। স্বাধীনতার পর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কঠিন সংগ্রামের মধ্যেই দেশের জন্য একটি অত্যাধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের সেনাবাহিনী আজ একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় প্রয়োজনে যে কোন দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা অর্জন করেছে।’

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী
প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ও দৃঢ় সাংগঠনিক ভিত্তিতে বলিয়ান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আজ সম্পূর্ণ প্রস্তুত মন্তব্য সেনাপ্রধানের। তিনি বলেন, ‘জাতির জনকের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে চলেছে।

জাতির পিতার নির্দেশিত প্রতিরক্ষা নীতি ১৯৭৪ এর আলোকে বাংলাদেশের নতুন প্রতিরক্ষানীতি ২০১৮ ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রবর্তিত হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।’

সেনাবাহিনীকে স্বর্ণদ্বীপ হস্তান্তর
সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপযুক্ত প্রশিক্ষণে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষে নোয়াখালীর মেঘনা নদীর মোহনায় জেগে উঠা জাহাইজ্জ্যার চরটি যা বর্তমানে স্বর্ণদ্বীপ নামে পরিচিত গত ২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর করেছিলেন।

এই চরটি তখন থেকেই দেশের স্বাভাবিক নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে ছিলো এবং সময়ের পরিক্রমায় চরটি জলদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিলো। এই চরটি জলদস্যুমুক্ত করে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষাপূর্বক একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক প্রশিক্ষণাগারে রূপান্তরের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই সময়োপযোগী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রত্যয়ব্যক্ত করছি যে, এই ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনী তার অভিষ্ট লক্ষে পৌছাতে সক্ষম হবে, ইনশাআল্লাহ।’

প্রাকৃতিক বৈরিতার সেই গল্প
সেনাবাহিনী স্বর্ণদ্বীপের দায়িত্বগ্রহণের পর অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারনে এই দ্বীপে চাষাবাদ উপযোগী ছিল না, এ বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই উপস্থাপন করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লবণাক্ত পানি প্রবেশরোধে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করে। ২০১৭ সালে এই দ্বীপে ৬০ একর জমিতে ৩৫০ মণ ধান উৎপাদিত হয়।

চাষের আওতা সম্প্রসারণ ও লবণাক্ত পানিতে চাষ উপযোগী ধানবীজ সংগ্রহ ও রোপণকল্পে গত বছর ৩৫০ একর জমিতে ৪ হাজার ৫০০ মণ ধান উৎপাদিত হয়েছে। ভবিষ্যতে ১০ হাজার একর জমি কৃষি কাজের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে ধান ছাড়াও অন্যান্য ফসলাদি আবাদ করা হবে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান বলেন, ‘আমরা আশা করি স্বর্ণদ্বীপে উৎপাদিত কৃষিদ্রব্য বাংলাদেশের চাহিদার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও পূরন করতে সক্ষম হবে। ইতোমধ্যে স্বর্ণদ্বীপে মিলিটারি ফার্ম স্থাপন করা হয়েছে। এখানে গরু ও মহিষ, ভেড়া, হাস ও কবুতর পালন করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে স্বর্ণদ্বীপে ১০ হাজার উন্নত জাতের মহিষ পালনের উপযুক্ত খামার তৈরির পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এই ফার্মে উৎপাদিত দুধ ও মাংস দেশের ক্রমবর্ধমান আমিষের চাহিদা পূরণ করবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করি।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জেনে খুশি হবেন যে, স্বর্ণদ্বীপে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং সেনাবাহিনী ইঞ্জিনিয়ার কোরের তত্বাবধানে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মানের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। উক্ত হাসপাতালে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যসহ দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার লোকজন স্বাস্থ্যসেবা পাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনায় স্বর্ণদ্বীপের উন্নয়ন
সেনাপ্রধান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আরও জানিয়ে রাখতে চাই ভবিষ্যতে স্বর্ণদ্বীপের উন্নয়ন লক্ষে আপনার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা মৎসচাষ সম্প্রসারন, খামার স্থাপন, ১০০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন, ভূমি উন্নয়ন ও সম্পূর্ণ দ্বীপ জুড়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হবে ক্রমান্বয়ে। স্বর্ণদ্বীপের এ উন্নয়ন বাংলাদেশে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা আশা করি।

আপনার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বর্তমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এরই লক্ষ্য হিসেবে ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক ট্যাংক, আর্টিলারি গান, ট্যাংক ও বিমান বিধ্বংসী মিসাইলসহ নানাবিধ অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের সম্মিলন ঘটেছে।

ইতোপূর্বে আপনারা অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি সমন্বয়ে একটি মহড়া প্রত্যক্ষ করেছেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান আধুনিক সক্ষমতার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।’

একুশ শতকের নিরাপত্তার হুমকি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘একুশ শতকের নিরাপত্তার হুমকিসমূহ অত্যন্ত জটিল ও ব্যাপক। প্রথাগত সামরিক হুমকির পাশাপাশি অপ্রচলিত সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। তবে সেনাবাহিনীর শক্তিমত্তা কেবল আধুনিক অস্ত্র বা সরঞ্জামের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয় বরং কঠোর প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা এবং সর্বোপরি দেশপ্রেমে বলিয়ান মানব সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে যেকোন হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘আপনার সদয় আন্তরিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্রমাগত আধুনিকায়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে যে সক্ষমতা অর্জন করেছে তা ধরে রাখার পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আমরা প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে পরাভূত করার দক্ষতা অর্জন করবো বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

আমরা জানি আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এই সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করত; বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্ম ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত উৎকর্ষতার মান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইনশাআল্লাহ।’

জেনারেল আজিজ আহমেদ আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি অবহিত আছেন যে স্বর্ণদ্বীপে আরও দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই লক্ষে বাঁধ নির্মাণ করে বা মাটি ভরাট করে স্বর্ণদ্বীপকে বর্ষাকালেও পানিমুক্ত রাখা এবং প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণদ্বীপে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নজরুল ইসলাম এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী তাকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ, নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য বেগম আয়েশা ফেরদাউস, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ এজাহার খান ও ফরিদা খানম সাকী, প্রতিরক্ষা সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসিন চৌধুরী, সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: মাহফুজুর রহমান, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস.এম.শফিউদ্দিন আহমেদ, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসুল হক প্রমুখ।

কালের আলো/এএমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে