খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

শায়খ রহমান থেকে আব্দুল্লাহ; জঙ্গি দমনে অভূতপূর্ব সাফল্য র‌্যাবের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
শায়খ রহমান থেকে আব্দুল্লাহ; জঙ্গি দমনে অভূতপূর্ব সাফল্য র‌্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জঙ্গি দমনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুধু জঙ্গি দমনই নয়, দেশের অভ্যন্তরে যেকোনো অপরাধ ‘মূলোৎপাটনে’ অগ্রণী দায়িত্ব পালন করে চলেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব।

আরও পড়ুনঃ জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা ধরে রাখতে হবে: র‌্যাব ডিজি

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মোজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সাফল্যমন্ডিত অ্যাকশন শুরু। এরপর ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এ শীর্ষ জঙ্গি গুরুর মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত হয়।

এরপর জেএমবির হাল ধরেন নজরুল ইসলাম। তিনি পরিচিত ছিলেন ‘ডাক্তার নজরুল’ নামেই। কিন্তু তার হাতে নেতৃত্বের পর দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে জঙ্গি সংগঠনটি। কারাবন্দি মাওলানা সাঈদুর রহমানের গ্রুপকে জেএমবি ভেতরের গ্রুপ আর আবদুর রহমান ওরফে সারওয়ার জাহান মানিক ও ডা. নজরুল ইসলামের গ্রুপকে বাইরের গ্রুপ হিসেবে নিজেদের মধ্যকার বিভক্তি প্রকাশ্যে আসে।

আরও পড়ুনঃ করোনার মধ্যেও জঙ্গিরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে : ডিএমপি কমিশনার

কঠিন এ দ্বন্দ্বের জেরেই ঠান্ডা মাথায় খুন করে দৃশ্যপট থেকে ডা: নজরুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পালাক্রমে আবু ইউসুফ ও সারোয়ার জাহান মানিক জেএমবি’র আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। মানিক ছিলেন শায়খ রহমানের পুরনো লোক। সারোয়ারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কানাডা থেকে ফিরে আসেন তামিম চৌধুরী।

এ সময় জঙ্গি সংগঠনটিতে রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিন, মামুনুর রশিদ রিপন, নুরুল ইসলাম মারজান ও শফিক-শুরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তামিম-সারোয়ারের যৌথ নেতৃত্বে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্য দিয়ে পুনরায় নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয়।

পরবর্তীতে আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে জেএমবির প্রধান সারোয়ার জাহান পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যায়। মৃতপ্রায় জঙ্গি সংগঠনটিকে গুছানোর চেষ্টা করেন কবুতর ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ নেওয়া আব্দুল্লাহ। র‌্যাবের অভিযানে আব্দুল্লাহও মারা গেলে একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে এ জঙ্গি সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। ২০০১ সালের পর নানা সময় অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৮৯ জন জঙ্গিকে আটক করেছেন ফোর্সটির সদস্যরা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, র‌্যাবের এসব অভিযনে আটক হয় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, আব্দুর রহমানের ভাই আতাউর রহমান সানি, জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন ও খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে ফারুক।

আদালতের আদেশে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়। এরপর ঘাপটি মেরে যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ও তাদের নেতারা। তবে ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান হামলার মাধ্যমে পুনরায় জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব ফুটে ওঠে।

হলি আর্টিজান হামলা
২০১৬ সালের ১ জুলাই, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা সংগঠিত হয়। বিপথগামী জঙ্গিরা জিম্মির পর বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে। জঙ্গি দমনে অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তাও।

র‌্যাব সূত্র জানায়, জঙ্গি দমনে বিগত সময়ের অভিজ্ঞতায় হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় প্রাথমিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় র‌্যাব। ঘটনার পরপরই হোটেল ও তার আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করেন র‌্যাব সদস্যরা। এর মাধ্যমেই মূল অভিযান তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযানে র‌্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছেই জান-মালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকল বাহিনীর সমন্বয়ে মূল অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্র তৈরি করেন তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক ও বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)।

শুধু তাই নয়, হলি আর্টিজান হামলার পর দেশজুড়ে জঙ্গিদের ধরতে সক্রিয় থাকে র‌্যাব। সূত্র জানায়, ওই ঘটনার পর বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠনের আমিরসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।

এসব অভিযানে জেএমবির কেন্দ্রীয় দাওয়াতী শাখা প্রধান, সূরা ও শরিয়া বোর্ড সদস্য, মহিলা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং বেশ কয়েক জন অতি গুরুত্বপূর্ণ আইটি বিশেষজ্ঞকে গ্রেফতারের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনকে দুর্বল করে দেয় র‌্যাব।

এভাবে র‌্যাবের সময়োচিত পদক্ষেপ ও তীক্ষ্ণ গোয়েন্দা নজরদারি, অঙ্কুরেই নসাৎ করে দেয় জঙ্গি হামলা এবং হামলার সকল পরিকল্পনা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ০৮ অক্টোবর রাজধানীর আশুলিয়ায় র‌্যাবের একটি অভিযানে জেএমবির প্রধান সারোয়ার জাহান পালাতে গিয়ে ছাঁদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যায়। সে ছিল হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। এছাড়া ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি গ্রেফতার হয় জেএমবির শুরা সদস্য মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন। এই জঙ্গি নেতা হলি আর্টিজান ঘটনার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, অস্ত্র ও বিষ্ফোরক সরবরাহ করেছিল।

একই বছরের ২৬ জানুয়ারি চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হয় হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি জেএমবি শীর্ষ নেতা শরিফুল ইসলাম ওরফে খালিদ। জঙ্গি খালিদ হলি আর্টিজানে হামলায় অর্থ সরবরাহসহ প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ পরবর্তী হামলাকারীদের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি।

র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, হালি আর্টিজান হামলার পর র‌্যাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলে র‌্যাবের তৎপরতায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৬ জঙ্গি সদস্য আটক হয় এবং বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয় ২৫ জঙ্গি।

র‌্যাবের জঙ্গিবিরোধী সফল অভিযান
জঙ্গিদমনে দেশজুড়ে নানা অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এসব অভিযানে জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জঙ্গিদের আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

শোলাকিয়া অভিযান
হলি আর্টিজানের পরপরই জঙ্গিদের টার্গেট ছিল কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ ময়দান। ২০১৬ সালের ০৭ জুলাই ঈদগাহ মাঠে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেয় র‌্যাব। ঘটনাস্থল থেকে পলায়নরত এক জঙ্গিকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

আশুলিয়া, টাঙ্গাইল এবং হাড়িনাল অভিযান
২০১৬ সালের ০৮ অক্টোবর একই দিনে পৃথক তিন জায়গায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় র‌্যাব। এর মধ্যে আশুলিয়ার একটি বাড়িতে বিভক্ত জেএমবির একটি গ্রুপের প্রধান সারোয়ার জাহান ওরফে আব্দুর রহমান ওরফে শাইখ আসীম আজোয়াদ ওরফে শাইখ আবু ইব্রাহীম আল হানিফের খোঁজে অভিযান চালানো হয়।

র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ভবন থেকে পালাতে যেয়ে লাফিয়ে পড়ে সে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এসময় বাসায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় জঙ্গি কর্মকান্ডের বিপুল পরিমাণ গোপন নথি, বিস্ফোরক এবং প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা।

আর টাঙ্গাইলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয় জেএমবি এর গ্রুপের দুই সদস্য। উদ্ধার হয় অস্ত্রগুলিসহ নগদ টাকা।এছাড়া একই দিন গাজীপুরের হারিনালে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয় জেএমবির দুই সদস্য। সেখান থেকে উদ্ধার হয় রাইফেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র। উদ্ধার হওয়া একই রকম রাইফেল গুলশানের জঙ্গি হামলায় ব্যবহার করে জঙ্গিরা।

দারুস সালামের কমল প্রভায় জঙ্গি অভিযান
বিভিন্ন জঙ্গি হামলা অন্যতম মদদদাতা, পরামর্শদাতা, আশ্রয়দাতা ও প্রথম সারির জঙ্গি নেতাদের গুরু হিসেবে খ্যাত জঙ্গি আব্দুল্লাহর আস্তানার সন্ধান পায় র‌্যাব। এরই আলোকে ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে মিরপুর দারুস সালাম এলাকায় ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে শীর্ষ এই জঙ্গি কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেসহ ৭ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র।

জানা যায়, সাধারণ মানুষের বেশে প্রায় ১০/১২ বছর কবুতর ও ফ্রিজ ব্যবসার অন্তরালে ‘কমলপ্রভা’ নামে ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো ওই জঙ্গি নেতা। এই আস্তানায় জেএমবি জঙ্গিদের আমির সারোয়ার, অন্যতম শীর্ষ নেতা তামীমসহ প্রায় ৩৫ জন জঙ্গি নেতাদের আসা যাওয়া ছিল। যাদের অধিকাংশ ইতোমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অভিযান
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিদের কয়েকটি ঘাঁটি ছিল ঝিনাইদহে। ঝিনাইদহের পোড়াহাটি এলাকা হতে জেএমবি’র ২ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার করে র‌্যাব। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় মাটির নিচে লুকানো সুইসাইডাল বেল্ট, নিওজেল ও বিস্ফোরক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে ২০১৭ সাল এর শেষের দিকে জঙ্গিরা শহর হতে দুর্গম চরাঞ্চলের আস্তানা তৈরির পরিকল্পনা করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোদাগাড়ীর চর আলাতুলিতে জঙ্গিদের এরকম একটি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানের সময় ৩ জঙ্গি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহুতি দেয়। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, পাওয়ার জেল ও আইইডি।

সাভারে র‌্যাবের অভিযান
র‌্যাবের সশস্ত্র অভিযানে সাভারের নয়ার হাট জঙ্গি আস্তানা হতে ৪ জঙ্গি জীবিত অবস্থায় আটক হয়।

সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান
২০১৭ সালের ২৪ মার্চ সিলেটের আতিয়া মহলের অভিযান পরবর্তী বিস্ফোরক মুক্ত ও অন্যান্য উদ্ধার কার্যক্রম জীবনের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতা, পেশাদার মনোভাব ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছিল র‌্যাব।

নাখালপাড়ার রুবি ভিলায় অভিযান
২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁয়ের নাখাল পাড়া এলাকার ‘রুবি ভিলায়’ র‌্যাব জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালায়। যেখানে জঙ্গিরা একটি মেসে সাধারণ মানুষদের সাথে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। গভীর রাতে বাড়িটি ঘিরে ফেলে র‌্যাব।

আত্মসমর্পণের আহ্বান প্রত্যাখান করে প্রতিরোধ করে জঙ্গিরা। ঝুঁকির্পূণ এ অভিযানে দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত হয় ৩ জঙ্গি। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক।

জোড়ারগঞ্জ এলাকায় অভিযান
২০১৮ সালের ০৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের মিরসরাইরে একটি জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে ০২ জন জঙ্গি নিহত হয়। উদ্ধার করা হয় একে ২২ রাইফেলসহ অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

বসিলায় অভিযান
২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল রাজধানীর বসিলায় র‌্যাবের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ০২ জন জঙ্গি নিহত হয়।

জঙ্গিবিরোধী প্রচারণা ও সচেতনমূলক অনুষ্ঠান
সূত্র জানায়, শুধু অভিযানই নয়, এসব হেয় কর্মকান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত এবং এর পেছনে অর্থের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় এনেছে র‌্যাব। পাশাপাশি জঙ্গি প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ডও হাতে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে প্রচারণা, সুধী সমাবেশের আয়োজন করে র‌্যাব। জঙ্গিবিরোধী প্রচারণায় ‘ঘৃণায় নয়, বাঁচো ভালোবাসায়’ শিরোনামে টিভিসিও নির্মাণ করা হয়েছে।

দেশজুড়ে স্থাপন করা হয় বিলবোর্ড ও স্টিকার। এছাড়া ডিজি র‌্যাব ফোর্সেসসহ অন্যন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা ও সেমিনার এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টকশো এর মাধ্যমে জঙ্গিবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন।

আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সক্রিয় অংশগ্রহণে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থা করে র‌্যাব। মূলত তখন থেকেই শুরু হয় বিপথগামী জঙ্গি সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে র‌্যাবের তৎপরতা। র‌্যাবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বগুড়া, রংপুর, কুষ্টিয়াতে আত্মসমর্পন করে সাতজন বিপথগামী তরুণ। পুনর্বাসনের জন্য তাদের প্রত্যেককেই ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেয় র‌্যাব।

‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’ চালু
জঙ্গিসহ অন্যান্য অপরাধবিরোধী কর্মকান্ডে জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করতে হলি আর্টিজান হামলার ১০ দিনের মধ্যেই ‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়।

সাইবার অপরাধ দমন
র‌্যাবের নবগঠিত ‘র‌্যাব সাইবার মনিটরিং সেল’ অনলাইনে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

কী বলছেন র‌্যাবের হাইকমান্ড?
বুধবার (০১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে গুলশানে হলি আর্টিসান হামলার ঘটনাস্থলে এসে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার।

র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে জঙ্গি কার্যক্রম যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপরেও আমরা কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে সফলতা অর্জন করেছি সেই সফলতাকে ধরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করছি।

আমরা এক ধাপ এগিয়ে আছি, জঙ্গিরা যখনই কোনো পরিকল্পনা করছে আমরা তখনই গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী কাজ করছি এবং তাদের আটক করতে সক্ষম হচ্ছি।’

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ‘জঙ্গি দমনের ম্যানডেট নিয়েই র‌্যাব গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানকে চার সময়কাল অনুসারে ভাগ করা যায়। আর তা হচ্ছে হুজি, জেএমবি, হিজবুত তাহেরি এবং বিভক্ত জেএমবি ও এবিটি/আনসার আল ইসলাম।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে র‌্যাব অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা জঙ্গিবাদ দমনে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা আমাদের ক্রমাগত গোয়েন্দা ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বোরাস্ট অপারেশন পরিচালনা করছি। জনগণকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদে অর্তভুক্তি প্রতিহত করছি। এ বিষয়ে আমরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি।’

জঙ্গিদের পুনর্বাসনের কথা উল্লেখ করে কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার আরও বলেন, ‘জঙ্গিরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে আমরা সেজন্য আত্মসমর্পন ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছি। এভাবে ব্যাপক সাফল্যের মাধ্যমে দেশবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা অর্জন করেছি।’

কালের আলো/এসআর/আরআর

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে