খুঁজুন
                               
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের ময়না তদন্ত, কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২১ অপরাহ্ণ
শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের ময়না তদন্ত, কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?

কালের আলো রিপোর্ট:

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অপতথ্যের তাণ্ডব থামছে না। দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে জ্বলা এই আগুনকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের মাত্র ৩০ সেকেণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে যোগ দেয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটিং ইউনিটসমূহ। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টির ওপর ফায়ার ফাইটিং দল নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এমনকি ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পরও বিমানবন্দরের কার্গো অপারেশন এক দিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি। ৯ নম্বর গেট দিয়ে সচল রয়েছে কার্যক্রম। প্রায় ৭ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় উড়োজাহাজ উঠানামার কার্যক্রমও। অথচ বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি, এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) পরিচালককে অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি অ্যাপ্রোণ এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এপিবিএন’র প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, বিমান বাহিনী সেদিন নিষ্ক্রিয় ছিল এমন ইত্যাকার অসত্য ও কল্পিত কিচ্ছা-কাহিনী প্রচার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর মাধ্যমে গুজববাজরা বিশৃঙ্খলা পাকানোর এক ট্রায়াল রান চালাচ্ছে অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতির বাঁক ঘুরিয়ে দিতে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিজিও জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের কোন গাড়ি প্রবেশে সেদিন বাধা প্রদান করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী থেকে শুরু করে গণমাধ্যম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিকই ঘুরপাক খাচ্ছে জীবনবাজি রেখে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, বেবিচক, এভসেক, ফায়ার সার্ভিস ও এপিবিএন থেকে শুরু করে অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে সবার সম্মিলিত প্রয়াসের নানান ভিডিও। বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা। তবুও নানা অসিলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে সার্বভৌমত্বের স্তম্ভকে দুর্বল করার অপচেষ্টা আরও বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পাশাপাশি ফন্দি হাসিলে তৎপর চক্রটি নীতি-আদর্শের পাশাপাশি রুচি, শালীনতা বা সৌজন্যবোধকেও ধুলায় মিশিয়েছেন। কারও চামচায়ে উজির নাজির হতে মুসাবিদা করে অথবা কর্পোরেট বাটপারি হাসিলের মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে অস্থিরতা তৈরিতে ‘চিলে কান নিয়েছে’ প্রবাদ বাস্তবায়নেই কোমর বেঁধে নেমেছেন। চলমান অপকৌশলের ফাঁদে তথ্য আর অপতথ্যের ফারাকও ঠাহর করতে পারছেন না নেটিজেনদের অনেকেই। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতায় এসব অপচেষ্টা মার খাচ্ছে, পানি পাচ্ছে না হালে।

  • কল্পিত কিচ্ছা-কাহিনীর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা পাকানোর ট্রায়াল রান গুজববাজদের
  • কোন অবস্থাতেই যেন বিমানবন্দরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে আগুন ছড়াতে না পারে সেই বিষয়টিতেও ছিল বাড়তি নজর
  • অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এক মুহুর্তও নিষ্ক্রিয় ছিল না বিমান বাহিনী
  • বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ৪০টির বেশি ফায়ার ফাইটার দল ২৬ ঘণ্টা লড়াইয়ের পর সফল
  • ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই চিঠির মাধ্যমে শাহজালাল থেকে বিমান বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল
  • জুলাই অভ্যুত্থানের সময়েই বিমান বাহিনী প্রধানকে শাহজালালের দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব
  • বিমান বাহিনীকে টার্মিনাল ও এয়ার সাইড এবং এপিবিএনকে ল্যান্ড সাইটে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দুই মন্ত্রণালয়ের

স্বাভাবিকভাবেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়েছে দেশের রপ্তানি খাত। বড় ধাক্কা লেগেছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলেও। আসন্ন বড়দিনের বিক্রির মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি চালান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পণ্য ডেলিভারিতে বিলম্বের পাশাপাশি অনেক অর্ডারও বাতিল হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। তবে কেউই অগ্নিকাণ্ডে দায়িত্বশীল কোন বাহিনীর গাফিলতি বা অবহেলার কোন রকম অভিযোগ করেননি। উল্টো আগুন নেভাতে প্রত্যেকের প্রাণপণ চেষ্টার প্রশংসা করেছেন সবাই। এককভাবে কাউকে ক্রেডিট না দিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। ভয়াবহ এই আগুনের সূত্রপাত ইমপোর্ট কুরিয়ার সেকশন থেকে হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।

শাহজালালে আগুনের সঙ্গে ২৬ ঘণ্টার নিরন্তর লড়াই
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রথম ধোঁয়া উড়তে দেখেন বিমানবন্দরের এয়ার সাইডের কার্গো গেইট সিতে দায়িত্বরত এভসেকের একজন আনসার সদস্য। তিনি তাৎক্ষণিক এভসেক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। কালবিলম্ব না করে এভসেক সুপারভাইজার বেবিচকের নিজস্ব ফায়ার ব্রিগেডকে ফোন করেন। মাত্র ৩০ সেকেণ্ডের মধ্যেই ফায়ার ফাইটার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে বেবিচক চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এয়ারপোর্ট ডিউটি সিকিউরিটি অফিসার (ডিএসও) বেঙ্গল ফায়ার, উত্তরা ফায়ার, টঙ্গি ফায়ার ও কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনকে অবহিত করে। একই সঙ্গে তিনি এপিবিএন, বাংলাদেশ আনসার ও পদ্মা অয়েলকেও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানান। বেবিচকের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং দল অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা শুরুর পর বিমান বাহিনী টাস্কফোর্স, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এভসেক, র‌্যাব ও আনসার সবাই মিলে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। টঙ্গি, কুর্মিটোলাসহ অন্যান্য এলাকা থেকে আসা ফায়ার ব্রিগেডসমূহ যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দক্ষিণ গেইটের অদূরে বিজিএমইএ’র বেশ কিছু কার্গো নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন এভসেক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য এয়ার লাইন্সের সদস্যরা।

কোন অবস্থাতেই যেন বিমানবন্দরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে আগুন ছড়াতে না পারে সেই বিষয়টিতে বাড়তি জোর দেওয়া হয়। কারণ উত্তর পাশে বিমানের মেইনটেনেন্সের হ্যাঙ্গার ও দক্ষিণ পাশে মূল টার্মিনাল ভবন ছিল। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা প্রদান করেন। উপদেষ্টার গাইডলাইনে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি তদারকি করেন। কুর্মিটোলাস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে বিমান বাহিনীর ৫টি ও তেজগাঁওস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার থেকে আরও ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিটও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই শুরু করে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেপিআই এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ফায়ার ইউনিটসমূহের সব গাড়িকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। পরে নৌবাহিনীর ফায়ার ফাইটার দলও এগিয়ে আসে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, র‌্যাব ও পুলিশ বিমানবন্দরের বাইরের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে। বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার ৪০টির বেশি ফায়ার ফাইটার দল প্রায় ২৬ ঘণ্টা আগুনের সঙ্গে নিরন্তর লড়াইয়ের পর সফল হয়। নিয়ন্ত্রণে আসে ইতিহাসের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড। তবে তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা যাত্রীদের নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এভসেক, বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে কুর্মিটোলায় বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেছেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ৩০ সেকেন্ডের ভেতর আমাদের নিজস্ব ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি আমরা ঢাকা শহরের অন্যান্য ফায়ার স্টেশনগুলো থেকে সহযোগিতা চাওয়া শুরু করি। ২০ মিনিটের মধ্যে বিমান বাহিনীর দুটি ঘাঁটি থেকে চারটি আগুন নেভানোর গাড়ি আসে। পরে নৌবাহিনী থেকেও একটি আগুন নেভানোর গাড়ি পাঠানো হয়। সেনাবাহিনী বাইরে ক্রাউড কন্ট্রোলের দায়িত্ব পালন করেছে। পুলিশ বাহিনীও বাইরে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। সব মিলিয়ে ৪০টি বেশি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এই আগুন নির্বাপণে কাজ করে।’

কার স্বার্থে বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্টের দিনে বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অরক্ষিত রেখে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে পালিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা উড়োজাহাজ উঠা-নামা বন্ধ থাকে। সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বেবিচকের অনুরোধে বিমান বাহিনী শাহজালালের নিরাপত্তা ও অপারেশন কার্যক্রম সচলে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আগে বিমানবন্দরটিতে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। এখন বেবিচক ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে সেখানে যাত্রীসেবার আমূল পরিবর্তন এসেছে। লাগেজ কাটা ও চুরি নিয়ে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর শোনা যায় না। প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রীর কাছে ১৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারি নিশ্চিত হয়েছে। লাগেজ বহনের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে নতুন সংযোজনের পর ট্রলির সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৬০০টিতে দাঁড়িয়েছে। ক্যানোপি থেকে বের হয়ে বহুতল পার্কিং ও রাস্তার পর্যন্ত প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ট্রলিতে করে লাগেজ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছর বিমানবন্দরে ওয়েটিং লাউঞ্জের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যাত্রীসেবার যখন অক্ষুণ্ন রাখতে বেবিচক তৎপর ঠিক তখনই পুনরায় বিমান বাহিনীর সঙ্গে এপিবিএনকে মুখোমুখি করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চায় না বিমানবন্দরটি গত স্বৈরাচার সরকারের সময়কার চেহারায় ফিরে যাক। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব রকমের রেষারেষি বন্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে টার্মিনাল এবং এয়ার সাইড ও এপিবিএনকে ল্যান্ড সাইটে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও একই রকম নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়েই শাহজালাল থেকে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে গুজবের ঢোল বাজানো হয়।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার এবং বেবিচকের নিরাপত্তা কর্মীদের সমন্বয়ে এভসেক গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিমানবন্দরটি থেকে বিমান বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই বছরের ২০ জুন পতিত সরকারের ইস্যুকৃত একটি চিঠির মাধ্যমে এই অপতৎপরতা শুরু হয়। এখনও ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার সেই চিঠিকেই নিজেদের অনৈতিক মতলব হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মহলবিশেষ। পরবর্তীতে গত বছরের জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে স্বয়ং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব হযরত শাহজালালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা, অপারেশনাল কার্যক্রম সচলসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে মোতায়েনের অনুরোধ জানায়। এরই মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলে এপিবিএন বিমানবন্দরটি অরক্ষিত রেখে চলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজেদের চরম কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলে মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আরও একটি দল এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অপারেশন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ফলে অনেক আগেই পতিত সরকারের সেই চিঠি কার্যকারিতা হারায় এবং বিমান বাহিনী শাহজালালের দায়িত্বে বহাল থাকে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র।

  • ‘আমি তদন্ত করে দেখেছি, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কিন্তু কেউ বলেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে’
    এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক
    চেয়ারম্যান
    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)

শাহজালালে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অতিকথনের মাধ্যমে নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা চলছে কীনা এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এ ঘটনায় বিমান বাহিনী, এভসেক ও বেবিচককে নিয়ে নানা মনগড়া কথা ছড়ানো হচ্ছে। গণতন্ত্র উত্তরণে নির্বাচনী ট্রেন থামাতে ভজঘট পাঁকানোর ফন্দি-ফিকির চলছে। এর মাধ্যমে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিমান বাহিনী ও এপিবিএনকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস নিয়েছে। বিশেষ করে সরকারের নির্দেশে বিমান বাহিনী দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বহাল থাকায় ওই চক্রটির মাথায় বাজ পড়েছে। অথচ গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের দিনে এপিবিএন যখন শাহজালাল থেকে স্বেচ্ছায় সটকে পড়ে তখন তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিমান বাহিনীরই দ্বারস্থ হয়েছিল। ওই সময় এপিবিএন সদস্যরা বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকারস্থ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলায় আশ্রয় নিয়েছিল। বিমান বাহিনী এপিবিএন’র সদস্যদের খাবার, চিকিৎসাসহ সব রকমের বন্দোবস্ত করে। এরপরেও বাহিনী দু’টির মধ্যে তৃতীয় শক্তি প্রবেশ করে আকথা-কুকথা ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিজস্ব ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে দোষারোপের নোংরা মহোৎসব অব্যাহত রেখেছে।

অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এক মুহুর্তও নিষ্ক্রিয় ছিল না বিমান বাহিনী
শাহাজালালে অগ্নিকাণ্ডে বিমান বাহিনী হাতগুটিয়ে বা নিষ্ক্রিয় ছিল না এক মুহুর্তও। সঠিক সময়ে বাহিনীটির সদস্যরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অগ্নি নির্বাপণে জোরদার লড়াই শুরুর ফসলই ছিল মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যেই উড়োজাহাজ উঠানামার কর্মযজ্ঞ শুরুর মাধ্যমে শাহজালাল সচল হওয়া। ওইদিন বিমান বাহিনীর ৮টি ফায়ার ফাইটিং ইউনিটের পাশাপাশি আরও অতিরিক্ত ১১০ জন সদস্যকে নিয়োজিত করা হয়েছিল ফায়ার ফাইটিংয়ে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে। অথচ নিজের পছন্দ না হলেই অন্যকে নি:শেষ করে দেওয়ার ঘৃণ্য প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না মহলবিশেষ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সবাইকে স্মরণে রাখতে হবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী। কোন অবস্থাতেই সার্বভৌমত্বের এই স্তম্ভকে দুর্বল করা যাবে না। অযাচিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে তাদের ঘৃণ্য কায়দায় ঘায়েল করতে চাইলে আখেরে বহি:শত্রুরাই লাভবান হবে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও এই বিমান বাহিনী সেনা ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র-জনতার পাশে এসে দাঁড়িয়ে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছে। অতীতেও যখনই রাষ্ট্র দুর্বল হয়েছে, তখন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি বিমান বাহিনীও পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও বলের মাধ্যমে দেশের পথচলাকে মসৃণ ও নিরবচ্ছিন্ন করেছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) প্রোটোকল মেনেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে সপ্তাহে এক দিন ফায়ার ড্রিল (অগ্নিনির্বাপণ মহড়া) করা হয়। এমনকি আগুন লাগার পরও আইসিএওর সব নিয়ম মেনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিককে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় বেবিচকের অনুমতি না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের কাজ করতে দেরি হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি তদন্ত করে দেখেছি, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, কিন্তু কেউ বলেনি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তারপর কোনো কর্তৃপক্ষ যদি এ অভিযোগ করে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবো। এ অভিযোগ যারা করছেন, সেটা সত্যি নয়।’

ইমপোর্ট কার্গো সেকশনের সামনে খোলা আকাশের নিচে থাকা মালামালের কারণে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো পক্ষকে দোষ দিতে যাবো না। ওই ভবনটি আমরা (বেবিচক)। কিন্তু ভবনের ভেতরে যে কার্যক্রমের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, কাস্টমস, সিআন্ডএফ এজেন্ট ও কুরিয়ার এজেন্টদের। কার্গো সেকশনের সামনে এপ্রোনে যে মালামাল স্তূপ হয়ে থাকে সেটা ২১ দিনের মধ্যে ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার কথা। যদি এর মধ্যে ক্লিয়ার না হয়, তাহলে এ তিন কর্তৃপক্ষ মিলে সেগুলো ক্লিয়ার করে। মালপত্র জমে থাকার দায়-দায়িত্ব তাদের। এ মালপত্রগুলো না সরানোর কারণে ফায়ার সার্ভিস যেতে দেরি হয়েছে।’

ওয়াচ টাওয়ারে বিমান বাংলাদেশের নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু উপস্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সম্পুর্ণ সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে বেবিচক’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র। সূত্রটি জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরের এয়ারসাইড থেকে গোডাউনে প্রবেশের মুখে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারে বিমান বাংলাদেশের নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করছেন। কার্গো এলাকাসমূহে এভসেক এবং বিমান বাংলাদেশ নিয়মিত ফুট পেট্রোল পরিচালনা করে। তাছাড়াও এপিবিএনের গোয়েন্দা কার্যক্রমেও কখনও কোন বাধা প্রদান করা হয়নি। কার্গো এলাকায় এভসেক এবং বিমান বাংলাদেশ এর নজরদারি, পেট্রোলিং, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রমের কোন ধরণের ঘাটতি নেই। গত ১৮ অক্টোবর কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এয়ার সাইডে এভসেক ও ল্যান্ড সাইডে এপিবিএন যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহযোগিতায় তাঁরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। এতে প্রমাণিত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা বিদ্যমান এবং সেটি ফলপ্রসূভাবে কার্যকর। এ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি বা মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এপিবিএন ইস্যুকে সামনে এনে বেবিচক ও এপিবিএনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি ও সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এই দুর্ঘটনা-পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের অপতথ্য একটি গোষ্ঠীর হীনমন্যতা এবং উসকানিমূলক প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এটি বেবিচকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি দুঃখজনক এবং অনাকাক্সিক্ষত প্রচেষ্টা। এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সতর্ক থাকা উচিত।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএসআইপি

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে