খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

ভরসার নাম পিসিএসডব্লিউ, দু:সাহসী নারীদের অভিবাদন আইজিপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১, ৮:২১ অপরাহ্ণ
ভরসার নাম পিসিএসডব্লিউ, দু:সাহসী নারীদের অভিবাদন আইজিপির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে তাঁদের ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ করেন না। সাইবার হয়রানির শিকার হলেও লোক লজ্জার ভয়ে অনেকেই থাকেন নিশ্চুপ। কিন্তু সেই প্রথা ভাঙতে শুরু করেছে। সাইবার অপরাধের মুখে পড়া নারীরা নির্দ্বিধায় অভিযোগ করতে পারছেন।

তাঁরা পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের (পিসিএসডব্লিউ) অল-উইমেন ইউনিট থেকে সব রকমের সহযোগিতা নিচ্ছেন। পেয়েছেন আইনী সহায়তার পাশাপাশি মানসিক শক্তি-সাহসও। ফলশ্রুতিতে, মাত্র এক বছরেই নারী সেবা প্রার্থীদের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের এই ব্যতিক্রমী প্ল্যাটফর্ম। দ্রুত সেবা আর সমস্যার সমাধান হওয়ায় তাঁরা হৃদয়ের অতল থেকে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়াম থেকে এই সেবার উদ্বোধন করেছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এই সার্ভিসে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৮০ জন ভুক্তভোগী নারী যোগাযোগ করেছেন। যার মধ্যে ১২ হাজার ৬৪১ জন নারী ভুক্তভোগী হয়রানির শিকার হয়ে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ২২১ জনের অভিযোগের বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

স্বল্প সময়েই বিস্ময়জাগানিয়া সাফল্যের পর পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের (পিসিএসডব্লিউ) এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড.বেনজীর আহমেদ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে এবং সতর্ক থাকতে সুপরামর্শ দিয়েছেন।

আহ্বান জানিয়েছেন, সাইবার ঝুঁকি না জেনে সোশ্যাল মিডিয়ার অজানা বিশ্বে ঝাঁপ না দেওয়ারও। একই সঙ্গে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে এই সার্ভিস থেকে সেবা নেওয়া দু:সাহসী নারীদেরও অভিবাদন জানিয়েছেন তিনি। নিজেদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইন্টারনেট দুনিয়াকে নিরাপদ করতে চেয়েছেন সবার সহযোগিতা। সুদৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন ভার্চুয়াল জগতের অপরাধীদের নিশ্চিহ্নেও।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিসের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দিকনির্দেশনা ও প্রেরণামূলক এমন সব অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করেন আইজিপি।

আইজিপির ‘ব্রেইন চাইল্ড’ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের হয়রানি করার ধরণ ও মাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা নারীর উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় বলে মনে করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ। নিজের দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি চালু করেন পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন সার্ভিস।

যুগোপযোগী এই সার্ভিস জেন্ডার রেপসন্সিভ পুলিশিং’র অনন্য এক উদাহরণ। শুধুমাত্র নারী পুলিশ অফিসার দ্বারা পরিচালিত এই সার্ভিসে নারীরা তাদের অভিযোগের বিষয়ে নিসঙ্কোচে জানাতে পারছেন। বিগত ১ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী সেবা প্রত্যাশীকে সাইবার স্পেসে হয়রানি সংক্রান্তে তাদের তথ্যের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও সংবেদনশীলতা রক্ষাপূর্বক পেশাদারিত্বের সঙ্গেই প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’কে আইজিপির ‘ব্রেইন চাইল্ড’ হিসেবেই উল্লেখ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) খালেদা বেগম। তিনি পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন এক বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, সাইবার স্পেসে নারীর দৃপ্ত পদচারণা নিশ্চিত করতে সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ভুক্তভোগী নারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রযুক্তিগত ও আইনী সহায়তা প্রদানে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন বদ্ধপরিকর।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে হয়রানি করার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি যা মোট অভিযোগের ৪৩ ভাগ। নারীর প্রতি সাইবার স্পেসে অপরাধের ধরন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুয়া আইডি থেকে মেসেজ/তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি, আইডি হ্যাক করে হয়রানি, ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং, মোবাইলে কল করে হয়রানি, আপত্তিকর ছবি/ভিডিও/ মেসেজ পাঠিয়ে হয়রানি ইত্যাদি।

ভুক্তভোগী নারীদের বয়স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীদের শতকরা ১৬ ভাগের বয়স ১৮ বছরের কম। শতকরা ৫৮ ভাগ ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ভুক্তভোগী শতকরা ২০ ভাগ এবং ৬ ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ৪০ বছরের বেশি।

অভিযোগসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে মামলার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে আগ্রহী হননি। তারা শুধু আইডি বন্ধ করে বা মেসেজ ডিলিট করে সমস্যা সমাধান করতে চেয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে মাত্র ১২ ভাগ আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জিডি বা মামলা করেছেন যার মধ্যে মাত্র ১৩ ভাগ ভুক্তভোগী অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আইজিপির চোখে পরিবর্তন-রূপান্তর
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সবাইকে মুজিববর্ষের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অল উইমেন ইউনিট। এখানে সকল কর্মকর্তা ও সদস্য হচ্ছেন নারী। এই নারী কর্মকর্তা এবং সদস্যরা নারীদের জন্য কাজ করেন।’

তিনি বলেন, ‘সাইবার ওয়ার্ল্ড আমাদের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সহজ করে দিচ্ছে। আমরা সেই জেনারেশন যারা অনেক কিছু দেখেছি। ছোটবেলায় আমরা কুপিবাতি, হারিকেন, মোমবাতি, টেবিল ল্যাম্প, টিউব লাইট দেখেছি এখন এলইডি লাইট দেখছি।

পাকিস্তান আমলে যখন টেলিভিশন চালু হয় তখন মফস্বলে টেলিভিশন দেখা যেতো না। তখন লম্বা বাঁশের সঙ্গে বাঁশ জোড়া দিয়ে তার মাথায় প্লেইড, ডিশ যুক্ত করে টিভি আমরা দেখেছি। তারপর ক্যাবল টিভি দেখেছি এখন ডাইরেক্ট টু হোম দেখি। টেসলা যদি স্টারনেট নিয়ে আসতে পারে তাহলে আমরা সরাসরি মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট দেখবো। তখন ওয়াইফাই লাগবে না। এই জেনারেশন খুব লাকি জেনারেশন। অল্প সময়ের মধ্যে এতো পরিবর্তন-রূপান্তর দেখেছি।’

ড.বেনজীর বলেন, ‘টেকনোলজি আমাদের সবকিছুকে আরামদায়ক করেছে। আবার টেকনোলজিকে ভিত্তি করে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের দেশে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি ২৫ লক্ষ। ফেসবুক ব্যবহার করেন ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। গ্রামেগঞ্জে যারা থাকেন তারাও ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। এটাকে পুঁজি করে সাইবার সন্ত্রাস, সাইবার বুলিং, সাইবার ট্রলিং হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় রাষ্ট্রও ভিকটিম। আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার ওয়ার্ল্ডে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ফলস নিউজ, মিস নিউজ, কন্সপাইরেসি থিওরি আমরা নেটে দেখছি।

সাইবার বুলিং ও সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে নারীদেরও একটি বড় অংশ ভিকটিম। এই প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে একজন সেবা গ্রহীতা বললেন, যখন তারা এই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল তার পরিবার কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছে এটা তারাই অনুভব করতে পেরেছেন। যখন কোন ব্যক্তি বা পরিবার সঙ্কটের মধ্যে পড়ে তারাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তারা গিয়েছেন। এগুলো অবর্ণনীয় পরিস্থিতি। কখনও ব্যক্তির মানবিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটে।’

‘সোশ্যালি এলিনিয়েশন মানুষকে একা করে দেয়’
পুলিশ মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা একটি ট্রানজেশনাল সোসাইটির মধ্যে বসবাস করি। আমাদের এখানে সাইক্রিয়েটিক কাউন্সিলিং খুব একটি নেই। এক সময় কাউন্সিলিংর কাজ করতো যৌথ পরিবার। অর্থাৎ, হয়তো একটি পরিবারের কোন একজন ভিকটিম হয়েছেন তখন তার দাদী বা নানীর সঙ্গে শেয়ার করতে পারতো। তারা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এক ধরণের কাউন্সিলিং করতে পারতো। অনেক সময় চাচা-ফুফু, খালারাও কাউন্সিলিং’র কাজ করতে পারতো।

এখন যৌথ পরিবার ভাঙতে ভাঙতে অনু এবং পরমাণু পরিবারে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষ এখন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন। এই সোশ্যালি এলিনিয়েশন মানুষকে একা করে দেয়। একা মানুষ মানেই অসহায় মানুষ। এক্ষেত্রে ট্রমাটাইজড হয়ে গেলে পারিবারিক, সামাজিক কাউন্সিলিং পাওয়া যায় না। আবার মনোবিদ পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে মনে করা হয় মনোবিদের কাছে কেউ পাগল হলেই যায়। এগুলো আমাদের দেশে উন্নতি ঘটেনি। এগুলো খুবই চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশন।’

সামাজিক ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে নারীদের
ড.বেনজীর বলেন, ‘সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ প্ল্যাটফর্মে গত এক বছরে ১৭ হাজার সেবা গ্রহীতা যোগাযোগ করেছেন। প্রতি মাসে দেড় হাজার ভিকটিম যোগাযোগ করেছেন। ১২ হাজার অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু একটি বিরাট অংশ মামলা মোকদ্দমা করতে চায় না। তারা চায় ফায়ার ফাইটিং, অর্থাৎ, ভুয়া আইডি থেকে সাইবার বুলিং করা হয়েছে ওটাকে বন্ধ করে দিলেই ভিকটিম খুশি।

সবচেয়ে মুশকিল, সনাক্ত করার পর কোনক্রমে গ্রেফতার বা গ্রেফতারের পর্যায়ে গেলে তখন যদি ভিকটিম ব্যাকআপ করে তখন বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যাই আমরা। এটিকে মোকাবেলা করতে হবে। কেউ যদি সন্ত্রাসের কার্যক্রম করে এটিকে বিচার করতে হবে। ইয়াং উইমেন মোস্ট ভিকটিম। সমাজ, সম্মান ও মানহানির জন্য তারা অভিযোগ করতে চায় না। সামাজিক মূল্যবোধে তাড়িত হয়ে তারা এটি করতে চায় না। এক্ষেত্রে আমাদের দু:সাহসী হতে হবে এবং সামাজিক ট্যাব্যুকে ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ইন্টারনেট ব্যবহারে কেন সতর্কতায় জোর আইজিপির?
ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইজিপি। এ প্রসঙ্গে তিনি মোটা দাগে একটি উদাহরণ উপস্থাপন করেন। বলছিলেন, ‘কিছুদিন আগেও একজন ইয়াং লেডি অনেক ছবি আপলোড করেছেন তার ফেসবুকে। এগুলো ছিল একটু ডিফারেন্ট টাইপের ছবি। অনেকেই এই ছবিগুলো কপি করেছে। মজার ব্যাপার হলো একটি নুড সাইটে, কমার্শিয়াল সাইটে ছবিগুলো পোস্ট করা হয়েছে।

এভাবে ব্যবসা করা হচ্ছিল তার ছবিগুলো দিয়ে। ওই নারী জানেন না আরেকজন তার ছবি নিয়ে ব্যবসা করছেন। বিয়েশাদির ব্যাপারের সময়ে তিনি জানতে পেরেছেন বিষয়টি। ফলে তিনি ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছেন। আমরা তাকে সাইবার সাপোর্ট ইউনিট দিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার আগে সবাইকে ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে হবে। এটি না জেনে যাওয়া ঠিক হবে না। কোন ব্যক্তিগত তথ্য, সেনসেটিভ ইনফরমেশন, স্পর্শকাতর ছবি একবার যদি সামাজিক মাধ্যমের দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এটি কোটি কোটি মানুষের কব্জায় চলে যায় মুহুর্তের মধ্যে। ভুয়া আইডি হলে সেই আইডি ব্লক হবে। কিন্তু সেখান থেকে শেয়ার হয়ে যাবে কোটি কোটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে পুরুষ-নারী সবাইকে সতর্ক হতে হবে। এটির ঝুঁকি জানতে হবে।

ঝুঁকি না জেনে, সেফটি এবং সিকিউরিটি মেজারস না জেনে কেউ দয়া করে কেউ সোশ্যাল মিডিয়ার অপরিচিত পৃথিবীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়বেন না। প্রত্যেকেই কিন্তু ঝুঁকিতে, বিপদে পড়বেন। পশ্চিম ইউরোপের একটি বিশাল সমস্যা আইডেন্টি থ্রেপড। যতো বেশি আমাদের দেশে ডেটাবেজ ব্যবহার হবে। মাঝখানে ই-কমার্সের জোয়ার বয়ে গেলো। আমরা কোটি কোটি মানুষ আমাদের অনেক প্রাইভেট তথ্য দিয়ে দিয়েছি, না জেনে, না বুঝে। দেড় লাখ টাকার মোটরসাইকেল ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে এটা শুনেই আমরা হামলে পড়েছি। হামলে পড়ে অনেক তথ্য দিয়ে দিয়েছি। এই সমস্ত ইকমার্স সাইটের কাছে এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য।

এসব তথ্যের সিকিউরিটি, সেফটি কী? আপনার টেলিফোন নাম্বার, অ্যাড্রেস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ নাম্বার দিয়েছেন। সবই আপনার ব্যক্তিগত জিনিস। এখন চাইলেই কিন্তু হ্যাকাররা এসব বিষয় আপনার স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। না জেনে ইন্টারনেটের ওয়ার্ল্ডে ইনভলব হলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে আসে। এই ঝুঁকি নরমাল অপরাধের ঝুঁকি থেকে বেশি। ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টুইটার যারা ব্যবহার করেন তারা কোন ধরণের কোন অপরিচিত লোককে এক্সেস দিবেন না। চেনা-জানা মানুষের মধ্যেই নিজস্ব নেটওয়ার্ক হতে হবে। একদিন, দু’দিনের চেনা-জানা মানুষকে এক্সেস দিলেই বিপদে পড়বেন।

কারও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে, কারও বিহেভিয়ার প্যাটার্ন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে, ক্যারেক্টার প্যাটার্ন সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার পারসোনাল নেটওয়ার্কে কাউকে এন্ট্রি দিবেন না। আমরা দেখি, ফেসবুকে একদিন, দু’দিনের পরিচয় তাদের সঙ্গে দেখা করতে বেড়িয়ে পড়েন। এজন্য অনেকেই ভিকটিম হয়েছেন, কেউ বলেন কেউ বলেন না। এগুলো অপরিমাণদর্শী কাজ।

সাহস দেখিয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলা ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতা নারীদের অভিবাদন জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমরা চাই না কোন নারী-পুরুষ ভিকটিম হোক। কেউ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভিকটিম হলে লুকিয়ে রাখবেন না। এগুলোর জন্য আমাদের সহযোগিতা নিবেন। আমরা চাই এই অপরাধীদের শাস্তি হোক। আমরা চাই আমাদের ইন্টারনেট আমাদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ হোক। আমরা ভালো কাজটিকেই ব্যবহার করতে চাই। অপরাধের জায়গাটিকে সবাই মিলে নিশ্চিহ্ন করতে চাই।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ড.মঈনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মো.শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি মোশাররফ হোসেন, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, ইব্রাহিম ফাতেমীসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে