খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রায় শুভ্র সুন্দরের বারতায় নাগরিকদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রায় শুভ্র সুন্দরের বারতায় নাগরিকদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা

কালের আলো রিপোর্ট:

গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে সবার চক্ষুশূল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ পুলিশ। সরকার পতনের পর জনরোষে থানাগুলো পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে। লুট হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। এরপর পুলিশে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর ‘যুদ্ধ’। ভেঙে পড়া মনোবল ফিরে পেতে কঠিন এক সংগ্রাম। বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর খোলনলচে বদলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অতীতের দুর্নাম ঘুচিয়ে বাহিনীটির জনআস্থা অর্জনে গভীর মনোযোগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের মনোবল ফেরানো ও নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করে চলেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। কঠিন এই বাস্তবতার মধ্যেই ‘আমার পুলিশ আমার দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’-প্রতিপাদ্য নিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে চলতি বছরের পুলিশ সপ্তাহ।

প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপী আয়োজন থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার মাত্র তিনদিনেই শেষ হয়েছে সব আয়োজন। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার (০১ মে) প্রথমবারের মতো এই পুলিশ সপ্তাহে নাগরিকদের জন্য নতুন মাত্রার একটি আয়োজন করে বাংলাদেশ পুলিশ। এদিন দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘নাগরিক ভাবনায় জনতার পুলিশ : নিরাপত্তা ও আস্থার বন্ধন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভাটিকে ঘিরে ছিল স্বভাবতই উৎসবমুখর এক পরিবেশ। দুর্গম পথ পেরিয়ে যেন অপার সম্ভাবনায় স্বপ্নের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া। প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে শুভ্র সুন্দরের বারতায় নাগরিকদের প্রাণবন্ত এক মিলনমেলা। মৈত্রী ও সম্প্রীতির যেন এক উদার মিলনক্ষেত্র! ঠিক যেন বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রা। যেখানে দেশের বিশিষ্টজনরা বাংলাদেশ পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনতার পুলিশ হিসেবে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন।

নিজেদের পরিবর্তনে একাট্টা হওয়ার শপথে অনন্য মহিমাময় এই দিনটিতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, প্রথিতযশা চিন্তাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান, সাবেক আইজিপি মো. আব্দুল কাইয়ুম, সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিন কাশেম, বিশিষ্ট আইনজীবী মানজুর আল মতিন, সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরাজী, নির্মাতা ও পরিচালক আশফাক নিপুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ নতুন স্বপ্নে, নতুন সাহস ও অঙ্গীকারে ‘জনতার পুলিশ’ গড়তে প্রতিটি পুলিশ সদস্য নিজেদের আন্দোলিত করেছেন প্রবলভাবেই। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ বাহারুল আলম বিপিএম। সমাপনী বক্তব্য রাখেন নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সংক্রান্ত উপ-কমিটির সভাপতি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল। বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রার এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীর আকুন্ঠ সমর্থন আর পুলিশ-জনতার হৃদয় দিয়ে হৃদয় কেনার বার্তাও ধ্বনিত হয়েছে নিজেদের অবিনাশী চেতনার মর্মমূলে।

এই সংলাপ পুলিশ সপ্তাহের একটি নতুন সংযোজন ও নতুন ভাবনা
‘নাগরিক ভাবনায় জনতার পুলিশ : নিরাপত্তা ও আস্থার বন্ধন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আজকের এই সংলাপ পুলিশ সপ্তাহের একটি নতুন সংযোজন ও নতুন ভাবনা। মূলত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। পুলিশ নাগরিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত, তাঁরা কেমন পুলিশ চান এসব বিষয় আরেকটু ভালোভাবে জানতে চাই আমরা। পুলিশ সম্পর্কে নাগরিক ভাষ্য ও নাগরিক প্রত্যাশা আমরা জানতে চাই। আমরা জানি, রবার্ট পিল ১৮২৯ সালে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করেন। এর আগের পুলিশী কার্যক্রম ব্রিটিশ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। পুলিশের কাছে নাগরিকদের কাছে স্বত:স্ফূর্ততা বা নাগরিক অংশীদারিত্ব ছিল না। নাগরিকদের আস্থা ছিল অনেক কম। অনেকেই মনে করতেন আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তিরা নিজেদের সুবিধার জন্য কাজ করে। পুলিশ একধরনের কর্তৃত্ববাদী আচরণে অভ্যস্ত ছিল ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা কমে গিয়েছিল। রবার্ট পিল এসব শৃঙ্খলা ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে একটি পেশাদার, নিয়মিত ও জনসেবামূলক পুলিশ বাহিনী গঠনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসেন। তাঁর ই ইলিয়ান প্রিন্সিপালস বলে পরিচিত নীতিগুলোর মধ্যে জোর দেওয়া হয় পুলিশ জনগণের মধ্যে থেকে জনগণের জন্য কাজ করবে।

  • পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনতার পুলিশ হিসেবে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ মতামত
  • এই সংলাপ পুলিশ সপ্তাহের একটি নতুন সংযোজন ও নতুন ভাবনা
  • পুলিশের সঙ্গে জনতার বিভক্তির গোড়ায় যেতে হবে
  • রাষ্ট্র যখন নিপীড়ক হয়ে ওঠে তখন পুলিশকে আর জনতার পুলিশ হয়ে উঠতে দেয় না
  • পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে
  • রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুলিশের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে
  • সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে
  • আমরা জনতার মুখোমুখি থাকবো না, পাশাপাশি থাকবো

আইজিপি নিজের বক্তব্যে আরও একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, ‘১৯৩০ সালে ভারতবর্ষে লবণ আইন ভঙ্গ করার প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ‘লবণ মার্চ’ হয়। আন্দোলন ছিল একেবারেই অহিংস। কিন্তু ইন্ডিয়ান পুলিশ সদস্যদের ছিল ভিন্ন ভূমিকা। তাদের দায়িত্ব ছিল এই অহিংস আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা। তৎকালীন দায়িত্বরত এক পুলিশ অফিসার তাঁর ডায়েরিতে লিখেন-‘আমি বেত্রাঘাত করেছি এমন মানুষের ওপরে যারা একটিবারও আমাদেরকে প্রতিরোধ করেনি। আমার হৃদয় ভেঙে গিয়েছে। আমি আজ বুঝেছি শক্তি নয় নৈতিকতা বড় অস্ত্র।’ তিনি বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে- অস্ত্র নয়, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের প্রকৃত শক্তি। পুলিশ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে থাকে, তবে তারা ‘ভয়ের প্রতীক’ নয়, বরং হয়ে ওঠে ‘ভরসার আশ্রয়’। আজকের এই দিনে আমরা সবার কাছে এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চাই।’

পুলিশের সঙ্গে জনতার বিভক্তির গোড়ায় যেতে হবে
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথিতযশা চিন্তাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, ‘পুলিশের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। পুলিশের যে পজিশনে থাকার কথা ছিল সে পজিশনে নেই। পুলিশ যে আইনে চলে সেখানে পদে পদে সমস্যা আছে। এসব বিষয়ে মাঝেমধ্যে আলোচনা করা উচিত এবং খোলাখুলি আলোচনা হওয়া উচিত। পুলিশ শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ নয় পুলিশ সমাজের অংশ।’

দেশের প্রখ্যাত এই লেখক আরও বলেন, ‘পুলিশের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস আমার নেই। এটি নতুন ঘটনা বলা যায়। পুলিশ সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁরা প্রস্তাব করেছেন অলটারেনেটিভস ফর দ্য পুলিশ। কিন্তু আমি প্রত্যাশা করেছিলাম অলটারনেটিভ টু দ্য পুলিশ। পুলিশের মধ্যে কী ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কোন সমাজের জন্য আমি পুলিশের কাজের জন্য বলছি এবং যেসব সমাজে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিরাজ করে সেখানে পুলিশের কাজ কী?’

পুলিশের বলপ্রয়োগের কাজটি জনপ্রিয় নয় মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোন বিতর্ক করতে এখানে দাঁড়াইনি। আমাদের দেশে পুলিশ যে আইনে চলছে সেটি ঔপনিবেশিক আইন। আমাদের সংবিধান আছে আমরা সেই সংবিধান অনুযায়ী চলি না। ২০২৪ স্মরণে আপনারা এই অভূতপূর্ব অনুষ্ঠান করছেন। কোন রাষ্ট্র জোরের ওপর টিকে থাকতে পারে না। জনসমর্থন যখন হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় তখন পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। পুলিশ কথার মধ্যে রাষ্ট্র কথাটি লুকিয়ে রয়েছে।’

ড.সলিমুল্লাহ আরও বলেন, ‘পুলিশ সমাজের অংশ। পুলিশের বিকল্প সিভিল সোসাইটি নয়। পুলিশের সঙ্গে জনতার বিভক্তির গোড়ায় যেতে হবে। এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে জনতার বিভক্তি। এই রাষ্ট্র জনগণের রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারছে না। গণতন্ত্র বলতে আমরা স্বভাবতই বুঝি ৫ বছরের পর নির্বাচন। মানুষকে চিন্তায় উদ্ধৃত না করে সত্যকে আলিঙ্গন করার সাহস না দিয়ে তাকে শুধু মঙ্গল আর সুন্দরের আবরণে আচ্ছন্ন করে রাখে এটি ফ্যাসিবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি।’

রাষ্ট্র যখন নিপীড়ক হয়ে ওঠে তখন পুলিশকে আর জনতার পুলিশ হয়ে উঠতে দেয় না
নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত হয়ে উঠবার জন্য প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই অর্থে পাকিস্তানিরা যখন প্রথম আক্রমণ এই রাজারবাগে পুলিশের ওপরই করেছিল। একটি সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের পরিস্কারভাবে অফিশিয়ালি যুদ্ধ শুরুর আগে তৎকালীন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ মানুষকে বলেছিল, পাকিস্তানকে তাড়িয়ে আমরা স্বাধীন দেশ তৈরি করবে। নতুন রাষ্ট্রের মূল নীতি হবে সমতাভিত্তিক সমাজ। যেখানে জাস্টিজ প্রতিষ্ঠিত হবে। নাগরিকের মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। কিন্তু রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে নিপীড়নমূলক বৈশিষ্ট্য নিয়ে। রাষ্ট্র যখন নিপীড়ক হয়ে ওঠে তখন পুলিশকে আর জনতার পুলিশ হয়ে উঠতে দেয় না।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশকে জনতার পুলিশ হতে হলে কতগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হবে। ন্যায় বা অন্যায় দেখার মত বুদ্ধিমত্তা থাকতে হবে।’

পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে
এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ফিরে যান প্রায় ৩৫ বছর আগের ঘটনাপ্রবাহে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা। পুলিশের সামনে কথা বলার অভিজ্ঞতা প্রথম। আমি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবাখাতে কাজ করি। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে যখন সফিপুরে আমরা কাজ করি তখন পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তা সহায়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কাছে কোন গাড়িই ছিল না। আমরা চারটি ফ্যাক্টরি তাদের টেম্পু ভাড়া করে দেই। ভাড়ার টাকাও কারখানাকে দিতে হতো। সেখান থেকে পুলিশের এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখি, আমরা শুনেছি রাস্তায় একজন ব্রিটিশ পুলিশকে দেখলে মানুষ সম্মান করে সালাম বা হ্যালো বলতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেটি নেই।’

পুলিশের আস্থা বাড়াতে পুলিশ সার্ভিসে কারা যান এই ব্যাপারে আরও মনোযোগী হওয়াসহ তিনটি বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাকে পুলিশে নিচ্ছেন, কীভাবে ট্রেনিং দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে কী সেবা দেওয়ার মনোযোগ তৈরি করতে পারছি? এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে সমতা। আমরা কী আইন সবার জন্য প্রয়োগ করি। বাংলাদেশে যারা ইনভেস্ট করে তারা বলে, বাংলাদেশে অনেক ল আছে কিন্তু অর্ডার নেই। আইনের সমান প্রয়োগ দেশে নেই। একজন পুলিশ অফিসার কী এটি প্রয়োগ করতে পারেন? তৃতীয় হচ্ছে শৃঙ্খলা। শিল্প পুলিশ এখন বাস্তবতা। এটি ছাড়া আমরা আমাদের কারখানা নিরাপদ রাখতে পারি না। শিল্প পুলিশও যখন আরেকজনের হাতিয়ার হয়ে যায় সেটি আমরা কীভাবে রোধ করবো? পুলিশকে সত্যি সত্যি স্বাধীনতা কি দিতে পারছি? আমরা আশা করবো এটি নিয়ে আপনারা কাজ করবেন। আপনারা যেন সমাজের জন্য কাজ করতে পারেন সেই জায়গাটি তৈরি করে দিতে হবে। তাঁরপর সেটি ধরে রাখার দায়িত্ব আপনাদের।’

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুলিশের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুলিশের অপব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানান সাজ্জাদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তাহলে পুলিশের ইমেজ বাড়বে।’ অধ্যাপক চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘পুলিশ যদি সত্যের পথে থাকে তাহলে ‘নতুন বাংলাদেশে’ তাদের আস্থার জায়গা হবে।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশকে অসহায় মানুষের মাঝে দাঁড়াতে হবে।’ ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের অন্যায় আদেশ পালন থেকে বিরত থাকার জন্য পুলিশ সদস্যদেরকে লড়াই করতে হবে।’

সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে
সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে বলে মন্তব্য করেন সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘এত বড় পরিবর্তন হয়ে একটা গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল। বাচ্চা ছেলেরা তারা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছে তারা নতুন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়। একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল স্বাধীনতার পর। কিন্তু সঠিকভাবে আমরা এগোতে পারিনি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই যে একটা সম্ভাবনার ধার উন্মোচিত হয়েছে। অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক স্বপ্ন এই স্বপ্ন যেন ব্যর্থ না হয়। সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত আমরা যা দেখলাম তা কল্পনা ও ধারণা করা যায় না। গণতন্ত্র থাকলে যে সুবিধা হয় সেটা হচ্ছে যে পাঁচ বছর পর আপনাকে ভোটারদের কাছে যেতে হবে এবং মেন্ডেট নিতে হবে আপনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন না। ২০০৯ সালের নির্বাচনে যে খুব নিখুঁত হয়েছে তা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব না। তার পরবর্তী তিনটা নির্বাচনে যা হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। যখন একচ্ছত্র ক্ষমতা এসে যায় তখন প্রশাসন ভেঙে পড়ে। এটা ভয় খুন-গুম ওর সন্ত্রাস দ্বারা সম্ভব হয়েছে। এ সময় শুধুমাত্র এক শ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তা না সব সেক্টরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা অতি উৎসাহিত হয়ে কাজ করেছে। যা হবার হয়েছে আমাদের আবার নতুন করে মানুষদেরকে সেবা দিতে হবে। সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং করতে হবে।’

পুলিশ সংস্কার কমিশনকে ব্যর্থ বলে মনে করেন সাবেক আইজিপি
সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা পুলিশ সংস্কার কমিশনকে ব্যর্থ উল্লেখ করে বলেন, ‘সংস্কার কমিশন পুলিশের বিষয়ে বলছে অনেক বিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা দরকার। পরীক্ষা-নিরীক্ষা যদি দরকার এই কথা বলা হয় তাহলে এই সংস্কার কমিশনের কি দরকার। এই পুলিশ কমিশন ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন নিয়ে কিছু বলে না কিন্তু গন্ডগোল ওইখানেও আছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা যদি না থাকে তাহলে পুলিশ কিভাবে কাজ করবে। যাদের সুবাদে আমরা আজকে কথা বলতে পারছি সেটা কতদিন বলতে পারব সেটার কোনো গ্যারান্টি নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর যদি সদিচ্ছা না থাকে তাহলে সম্ভব না। এই সমাজে বিষাক্ত একটা বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। এটা আমাদেরকে বুঝতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কিন্তু ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এটা বদলানো পুলিশের হাতে নাই। পুলিশের অনেক অফিসাররা দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। আমাকে একজন আইজিপি বলেছিলেন ঘুষ খাওয়ার থেকে শ্বশুরবাড়ি থাকা ভালো।’

আমরা জনতার মুখোমুখি থাকবো না, পাশাপাশি থাকবো
সমাপনী বক্তব্য রাখেন নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সংক্রান্ত উপ-কমিটির সভাপতি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল। তিনি বলেন, ‘আমরা জনতার মুখোমুখি থাকবো না, পাশাপাশি থাকবো। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যেতে চাই; জনগণের পুলিশ, সাধারণ মানুষের পুলিশ হতে চাই।’

স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই অতিরিক্ত আইজি আরও বলেন, ‘আজ থেকে ৬ থেকে ৭ মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশকে একটি কিলারস ফোর্স হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছিল। আমাদের বিশেষ সহকারী স্যার এই শব্দটি আমাকে বলেছেন। আল্লাহর অশেষ কৃপায় সবার সমর্থন ও মাঠ পর্যায়ের সহকর্মীদের ঐকান্তিক প্রয়াসে উই টার্নড দি ফোর্স লাইক দিস। আজ আমরা সামনা সামনি বসতে পেরেছি। মুখোমুখি জায়গার থেকে আজকের সমাবেশের উদ্দেশ্যে ছিল আমরা পাশাপাশি থাকবো। আমরা যে জনতার কাতারের পুলিশ এই বার্তাটি দেওয়ার জন্য এই আয়োজন। আমরা সকল শ্রেণি-পেশাকে ধারন করার চেষ্টা করেছিলাম। সারা দেশে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, জুলাই-আগস্টের যে পুলিশ ছিল সেই পুলিশ থেকে আমরা নিজেরা পরিবর্তিত হয়েছি। আজ আমরা এমন একটি পুলিশ হয়েছি যে পুলিশ নিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যেতে চাই। আমরা এদেশের সাধারণ জনগণের জন্য। বাংলাদেশ পুলিশের নবযাত্রাকে নতুনভাবে সামনের দিকে উদযাপন করতে চাই।’

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে