খুঁজুন
                               
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

‘বাঁকবদল’ করেই ‘ইতি’ আইজিপি ড.জাবেদ পাটোয়ারী!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
‘বাঁকবদল’ করেই ‘ইতি’ আইজিপি ড.জাবেদ পাটোয়ারী!

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

প্রাণসংহারি নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণেই কিনা জমকালো কোনো আয়োজন নেই। তবুও সবার কানে কানেই বেজেছে তার বিদায়ের সুর! কী আবেগ-হাহাকারই না খেলে যাচ্ছে সহকর্মী-সতীর্থদের হৃদয়ে।

আর মাত্র দুইদিন বাদেই তার পদবীর আগে বসবে ‘সাবেক’ শব্দটি। ফলত শেষ মুহূর্তে সময় যেন এভাবেই লিখে যাচ্ছে সফল পুলিশ প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর বিদায়ের কাব্য!

হ্যাঁ, একটা কথা ঠিক যে, দীর্ঘ চাকরি থেকে তার বিদায়ের ক্ষণে অজস্র আলোকরেখার বিচ্ছুরণে প্লাবিত হচ্ছে বেশিরভাগ পুলিশ সদস্যর হৃদয়ের জমিন। এই মানুষটি-ই তো নিজ বাহিনীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে অনড় থেকেছেন শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত। বদলি বাণিজ্যের রাশ টেনে পুলিশে ফিরিয়ে এনেছিলেন ইতিবাচক ধারা।

কখনও গায়ে লাগতে দেননি বিতর্কের পূতিগন্ধময় পানি। নিজের নেতৃত্বের সময়ে দু’টি কনস্টেবল ও সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগেও ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ শব্দযুগলকে যেন রীতিমতো ‘হিমাগারে’ পাঠিয়ে ছেড়েছেন তিনি।

মাত্র দুই বছর তিন মাস সময়েই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার শক্ত ভিত রচনা করেই অর্জনের চূড়ায় নিয়ে গেছেন নিজের প্রিয় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে।

ইলিশের রাজধানী চাঁদপুরে জন্ম নেওয়া ক্ষণজন্মা এ মানুষটি নিজের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে এক রকম নির্মল-নিষ্কলুষ রেখেই বাহিনীকে ‘গুডবাই’ বলতে পারার পরম সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যিনি বাংলাদেশ পুলিশকে পরিণত করতে পেরেছেন ‘জনতার পুলিশে’।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে পুলিশ প্রধান হিসেবে তার দুই বছর তিন মাসের পথচলা। ইতি টানতে হচ্ছে দীর্ঘ ৩৪ বছরের পুলিশ ক্যারিয়ারের কঠিন এক মঞ্চেরও!

চলতি বছরের পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিদায়ী আইজিপি ড.জাবেদ পাটোয়ারী।

আলো বিলিয়ে দেওয়া সূর্যকেও যেমন দিন শেষে অস্ত যেতে হয় তেমনি সব কিংবদন্তিকেও একদিন বিদায় বলতে হয়। তবে এই কিংবদন্তিরা নিজ নিজ আকাশে তারা হয়ে বিকিরণ ছড়িয়ে যান অর্জনে; সবার হৃদমাঝারে।

ঠিক তেমনি সেরাদের সেরা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবেই বিউগলের করুণ সুরে নয়, কৃষ্ণচূড়ার রঙিন আভাতেই হচ্ছে ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর চাকরি জীবনের সূর্যাস্ত।

পুলিশ সম্পর্কে জনমনে ধ্যান-ধারণা বদলে দেওয়ার কারিগর, অসাধারণ বাঁকবদলের নেতৃত্ব দেওয়া এই কাপ্তানের সোয়া দুই বছর বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে নতুন করে লেখা থাকবে- সোনালী অক্ষরে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তার নেতৃত্বের দূরদর্শিতা আলো ছড়িয়ে যাবে বর্ণিল হয়ে!

ফিরে দেখা সেই দুই বছর তিন মাস
২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের ২৯ তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)। সেদিনই পুলিশ সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় তিনি সরকারের জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’র নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থানাকে সেবা প্রদানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। প্রতিটি সদস্যকে পরামর্শ দেন, সাধারণ মানুষের সাথে ভালো আচরণের।

সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে গণভবনে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন আইজিপি।

কামনা করেন, পুলিশের ইমেজ পরিবর্তনের জন্য সবার সম্মিলিত প্রয়াসের। আর এসবের মাধ্যমেই বাংলাদেশ পুলিশকে একটি ব্যতিক্রমী উচ্চতায় পৌঁছাতে পেরেছেন তিনি।

আক্ষরিক অর্থেই নিজের আইজিপি পদে দায়িত্বের এই সময়ে দুর্নাম ও অপবাদ ঘুচিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় গড়ে উঠা পুলিশ বাহিনীকে মর্যাদার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করতে কৃত্রিমতা ও লোক দেখানো কাজ বর্জন করে সরল, সোজা ও সত্যের পথই বেছে নেন ড. জাবেদ পাটোয়ারী।

জাতির জনকের স্বপ্নের পুলিশের দীপ্ত পদযাত্রার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গাইড লাইন’ আর জাদুকরী স্পর্শে তিনি অটল-অবিচল থেকেছেন। নতুন করে ক্লিন ইমেজে গোটা পুলিশ বাহিনীকে উদ্বেলিত করেছেন পুনরুজ্জীবনের মহামন্ত্রে।

অপূর্ব দক্ষতায় তিনি পুলিশের প্রতিটি সদস্যের মাঝে এনেছেন ‘টিম স্পিরিট’।

প্রথাগত কাঠামোর মধ্যে থেকেই তিনি নিজের বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ ও বিকাশকে উচ্চতর পর্যায়ে উত্তীর্ণ করেন। বঙ্গবন্ধুকন্যার বিশ্বস্ততার ঐতিহ্য লালিত হয়ে তাঁর নেতৃত্বের প্রতি নিরঙ্কুশ থেকেছেন। সব মহলেই পুলিশের নতুন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা নিয়েছেন বিদায়ী এই পুলিশ প্রধান।

এমন কর্মের মাধ্যমেই সোয়া দুই লাখ সদস্যের বিশাল পুলিশ বাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্যের নিখাদ ও অকৃত্রিম ভালবাসা পেয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, পুলিশ প্রধান হিসেবে ব্যতিক্রমধর্মী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ড. জাবেদ। প্রথমবারের মতো তিনি কথা বলেছেন প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে। আইজিপির সঙ্গে ওসিদের এই ‘ওয়ান টু ওয়ান’ সংযোগের প্রভাব হচ্ছে খুবই ইতিবাচক।

মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার। তিন মাস আগে পুলিশ সপ্তাহের ছবি।

পুলিশ সদর দপ্তরে পর্যায়ক্রমে রেঞ্জভিত্তিক সব থানার ওসিকে নিয়ে বসেছেন। জনবান্ধব পুলিশিং এর লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা এ বিশেষ বৈঠক বা কর্মসূচি পুলিশে গুণগত পরিবর্তনেরই একটি কার্যকর প্রয়াস বলেই মনে করছেন অনেকেই।

একই সূত্র বলছে, ‘থানা হবে সেবার কেন্দ্রবিন্দু’ এই থিমকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতেই পুলিশ প্রধান কাজ করছেন নিবিষ্টমনে। তাঁর মূল টার্গেট ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘জনগণের পুলিশ’ বাস্তবায়নের।

জনবান্ধব পুলিশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ‘পুলিশবান্ধব’। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল থিম ছিল- মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার। আর এই রূপকল্প বাস্তবায়নে পুলিশের বিদায়ী মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার) বিশদ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেন। জনবান্ধব পুলিশিংকে অর্থবহ ও সফল করতে তিনি বিদ্যমান বাস্তবতার গভীরে আলোকপাত করেছিলেন।

ড. জাবেদ পাটোয়ারীর মতে, ‘দেশের প্রতিটি থানার ওসি যদি ভালো হন তবেই সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে কাঙ্ক্ষিত ও উন্নত সেবা পাবে। তখনই পুলিশ হবে জনতার।’

এই ধারণাকে মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই ‘আইজিপি-ওসি’ ‘ওয়ান টু ওয়ান’ কন্টান্ট হয়েছে। ইতোপূর্বে যা কখনও হয়নি।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও একই লক্ষ্যে ভূমিকা রেখেছেন। গড়ে তুলেছেন টিমওয়ার্কের নতুন রোল মডেল। পরিবর্তন সূচিত হয়েছে পুলিশের কার্যক্রমে। সত্যিকার অর্থেই বদলে যাচ্ছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির সাথে ওসিদের বৈঠকে উদ্ধুদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে নয়, আইজিপি এক্ষেত্রে তার বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বে গ্রহণ করেছেন বহুমাত্রিক উদ্যোগ।

তিনি গোটা দেশ সফর করেছেন। তৃণমূলের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে থানা পর্যায়ে প্রচলিত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

৩৬ তম বিসিএস (পুলিশ) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বিদায়ী আইজিপি ড.জাবেদ পাটোয়ারী ও সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

তার মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন কার্যক্রম, ওসিদের সাথে সরাসরি কথা বলার ফলে ইতোমধ্যেই থানা পুলিশের মাঝে ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বিদায়ী আইজিপি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, ‘মানুষ নির্ভয়ে থানায় যাবে, হাসিমুখে থানা থেকে বের হয়ে আসবে। পুলিশী সেবার প্রতি মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার মূল্যবোধ বিকশিত হবে।’

প্রায় সোয়া দুই লাখ সদস্য নিয়ে গর্বিত দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনী। অস্বীকার করা যাবে না, অপরাধ দমনে নিয়োজিত পুলিশের কিছু সদস্যের মধ্যে অপরাধে জড়িয়ে যাওয়া, অনৈতিকতা, ঘুষ-দুর্নীতির প্রবণতা রয়েছে। সুদূর অতীত থেকে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।

অনেকক্ষেত্রে সেবার বদলে জুটেছে হয়রানি। এসবই মান্ধাতা আমল থেকে চলে আসা বৈশিষ্ট্য। যা পুলিশের ইমেজ ক্রাইসিসের কারণ। এখানেই নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে পুলিশকে বের করে আনার লক্ষ্যে সমূহ উদ্যোগের বাস্তবায়ন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বলেন, পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তখনই পুলিশ আস্থাহীনতার সংস্কৃতিকে বিদায় করে বিবর্তনের মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে জনবান্ধব নীতিতে। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পুলিশ শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা সুরক্ষা, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা, সামাজিক শান্তি শৃঙ্খলা, তদন্ত ও রহস্য উদঘাটন, গোয়েন্দা নজরদারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে পুলিশ জোরদার ভূমিকা পালন করছে।

নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অগ্রসৈনিক হিসেবে দেশবাসীর সুরক্ষায় নিজেদের জীবনবাজি রেখে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পুলিশ সদস্যদের বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে পেশাগত দক্ষতা, মেধার গুরুত্ব দিয়েছেন বিদায়ী এ পুলিশ প্রধান। অপরাধ করলে যথাযথ শাস্তির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা নিশ্চিতেও কাজ করেছেন জাবেদ পাটোয়ারী।

পুলিশ সদর দপ্তরে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশ্যে দিক নির্দেশনামুলক বক্তব্য রাখছেন পুলিশ প্রধান ড.জাবেদ পাটোয়ারী।

চলতি বছরের ০৫ জানুয়ারি গণভবনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) এখন আর হয়তো পুলিশের দুর্নামের কথা শুনতে হয় না। এখন পুলিশ যে এগিয়ে যাচ্ছে সেই কথাই হয়তো শুনেন। মাঝেমধ্যে দুই চারটি কথা অবশ্যই শুনেন। সেগুলো পুলিশের আইজিপি সরাসরি অ্যাকশন নেন বলেই এই বাহিনীতে শৃঙ্খলা অটুট রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’

কনস্টেবল ও এসআই পদে নিয়োগ যেন ইতিহাস!
অতীতে পুলিশের চাকরি বাণিজ্যের নজিরবিহীন অভিযোগ ছিল। কিন্তু আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর জামানায় গত দুই বছরে দু’টি কনস্টেবল নিয়োগে স্বচ্ছতার রেকর্ড গড়ে পুলিশ। ঘুষ বাণিজ্য বা তদবিরের জোরে নয়, গরিব ও অসহায় পরিবারের সন্তানদের চাকরি জুটে কেবলমাত্র মেধা ও যোগ্যতার নিরিখেই।

দুদক চেয়ারম্যান এ বিষয়ে পুলিশ প্রধানকে ‘থ্যাঙ্কস লেটার’ পাঠান। সারা দেশের মিডিয়ায় পুলিশের নিয়োগের স্বচ্ছতার বিষয়টি উচ্চকিত হয়ে উঠে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাধিকবার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি এই মডেল অন্যদেরও অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছেন।

কনস্টেবলের মতোই এসআই পদে নিয়োগেও ঘুষমুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতায় দরিদ্র পরিবারের মেধাবী তরুণদের চাকরি দিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাহিনীটি।

২০১৮ সালের বহিরাগত এসআই (নিরস্ত্র) পদে ২ হাজার ও ২০১৯ সালে বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদে ১ হাজার ৪০২ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। যেখানে কাঠমিস্ত্রি, নরসুন্দর, কৃষক, শিক্ষক, শ্রমিক, জেলে, খেটে খাওয়া দিনমজুর বা অতি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানরা নিয়োগ পেয়েছেন।

এ নিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতার নজির সৃষ্টি হয়েছে। যা অভূতপূর্ব ও কল্পনাতীত। পুলিশের মহাপরিদর্শক যা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে। ফলে পুলিশে পেশাদারিত্বের মূল্যবোধ বিকশিত হচ্ছে।

পুলিশে নিয়োগে স্বচ্ছতার স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রীর
কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন, দুর্নীতি, অনিয়ম ও তদবির ছাড়াই স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অকপটে কমপক্ষে তিনবার নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০২৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর)গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মালকানাধীন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ দুর্নীতির একটি বদনাম ছিল। পুলিশ সেখানে এবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

একটি অনুষ্ঠানে পুলিশের আইজি জাবেদ পাটোয়ারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

‘ঘুষ, দুর্নীতিমুক্তভাবে যেভাবে নিয়োগ হয়েছে অতি সাধারণ পরিবারের গরিব ছেলে-মেয়েরা চাকরি পেয়েছেন। প্রত্যেকে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সকলের এ বিষয়টি অনুসরণ করতে হবে।’

নিজের এই বক্তব্যের চারদিনের মাথায় ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানের বক্তৃতাতেও পুলিশ বাহিনীর মনখোলা প্রশংসা করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেদিন স্পষ্ট ভাষায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ বাহিনী যে এবার নতুন রিক্রুট করেছে সেখানে একটি লোকও কোন দুর্নীতি বা ঘুষ দেওয়ার কথা বলতে পারেনি। এ নিয়োগে এতো স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার জন্য এ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আপনারা (পুলিশ) এগিয়ে যাবে।’

গত ৫ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের প্রশংসা করে আবারও বলেন, ‘আমি মনে করি পুলিশ বাহিনী একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি টিআইবি’রও
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আগে পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে সরব ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে টিআইবিরও পুলিশ সম্পর্কে যেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ, নাগরিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে এখন পুলিশ পজেটিভ।

জনগণের পুলিশ, মানবিক পুলিশ হচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণাকে পাল্টে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। এলক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে পুলিশ ইদানিং অর্জন করেছে জনগণের ইতিবাচক মূল্যায়ন।

উন্নত বিশ্বের পুলিশের সাথে এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ যুগান্তকারী পরিবর্তন ধারার সূচনা করেছে।

পুলিশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার সূচনায় আইজিপি ড. জাবেদ সাসটেনেবল পুলিশিং ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেছেন। বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সচেতন ও সক্রিয় করেছেন।

চিরাচরিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বদনাম থেকে পুলিশ ক্রমশ বেরিয়ে আসার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। জবাবদিহিতা, নৈতিকতার মানদণ্ড, সেবার মনোবৃত্তি, অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতায় পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা প্রাধান্য পাচ্ছে।

সিআইডির একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীকে ক্রেস্ট উপহার দিচ্ছেন সিআইডি প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বর্তমানে তাকে র‍্যাবের ডিজি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সরকার প্রধানের ইচ্ছায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত
পুলিশের আইজি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদানের কোনো নজির নেই। ফলে ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকেও চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া না হলেও তার ভালো কাজের উপহার হিসেবে তাকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত করছেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই দেশের বর্তমান রাষ্ট্রদূত হিসেবে গত ৫ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মসীহ। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।

এবার এ পদে সরকার প্রধান বেছে নিয়েছেন বিদায়ী আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীকে। এর মাধ্যমে জাবেদ পাটোয়ারীর দুই বছর তিন মাস ১৫ দিন সময়ের কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেই মনে করছে ওই সূত্রটি।

তবুও বলতে হয় ‘হে বন্ধু বিদায়’
অমোঘ নিয়মে একজনকে চাকরি থেকে একদিন ‘বিদায়’ বলতে হয়। ঠিক সময়ে ‘বিদায়’ বলতে পারাটাও আবার নেতৃত্বেরই একটি বড় গুণ। কালে কালে পুলিশের আইজি হিসেবে এসেছেন অনেকেই। কিন্তু একজন ড. জাবেদ পাটোয়ারী যেন সবার চেয়ে আলাদা।

দ্রোহ ও প্রেমের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছেন ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়- বিচ্ছেদ নয়/চলে যাওয়া মানে নয় বন্ধন ছিন্ন-করা আর্দ্র রজনী/চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে/আমার না-থাকা জুড়ে।’

কবির সঙ্গে কণ্ঠ না মিলিয়ে বরং বিদায়ী আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী সব সময় ধারণ করেছেন স্বদেশী আন্দোলনের যুগের কবি রজনীকান্ত সেনকে।

নিজের হৃদয়তন্ত্রিতে গাঁথা কী না রজনীকান্তের বিখ্যাত সেই গান-

‘আমি অকৃতি অধম বলেও তো
কিছু কম করে মোরো দাওনি
যা দিয়েছো তারই অযোগ্য ভাবিয়া,
কেড়েও তো কিছু নাওনি
তব আশিষ কুসুম ধরি নাই শিরে
পায়ে দলে গেছি, চাহি নাই ফিরে
তবু দয়া করে কেবলই দিয়েছো
প্রতিদান কিছু চাওনি।’

সময়ের আহ্বানে জীবনকেই একদিন ছাড়তে হয়। আইজিপি পদটি জীবনের বড় সেই ক্যানভাসেরই হয়তো বা একটি অংশ।

তখন সদ্য আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড.জাবেদ পাটোয়ারী। ওই সময় পুলিশ সদর দপ্তরে তার সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন কালের আলোর অ্যাকটিং এডিটর এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান।

পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব শ্রেণি পেশার মানুষের মনের মন্দিরে যেন জায়গা করে নিয়েছেন এ দায়িত্ব পেয়েই।

পুলিশ প্রধান হিসেবে তার বিদায়ের ‘দুঃখ’ হয়তো পদ্মা-মেঘনা, যমুনায় বহমান। তবে বঙ্গোপসাগরের অতল সাক্ষী এই বিদায়ে কোনো খেদ নেই।

তবুও আনমনেই হয়তো বা তার কণ্ঠ গুঞ্জরিত হচ্ছে কবিগুরুর সেই বিখ্যাত কবিতার অমর পঙক্তিমালা-

‘আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম।
ফিরিবার পথ নাহি
দূর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায়
হে বন্ধু, বিদায়।’

পুলিশের নেতৃত্বে সৎ ও চৌকস ড. বেনজীর আহমেদ
বাংলাদেশ পুলিশের ৩০ তম আইজিপি হিসেবে ইতোমধ্যেই নিয়োগ পেয়েছেন আরেক মেধাবী, সৎ ও চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, এলিট ফোর্স র‌্যাবের ইতিহাসের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ।

পূণ্যভূমি গোপালগঞ্জের এই কৃতি সন্তান র‌্যাব ডিজির দায়িত্ব পালনের আগে প্রায় সাড়ে চার বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ছিলেন।

সেই সময়ে রাজধানীসহ দেশজুড়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দল হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব শক্তভাবে দমন করেন বেনজীর আহমেদ। পরে তাকে র‌্যাব ডিজি করা হয়। গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাবেদ পাটোয়ারী। পাশেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগে চিফ অব মিশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদেও কাজ করেছেন পুলিশের নয়া প্রধান।

কর্মদক্ষতার জন্য তিনবার অর্জন করেছেন জাতিসংঘ শান্তি পদক। এছাড়া পুলিশের পেশাগত সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) তো উঠেছেই কর্মঠ এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার গলায়।

সরকার প্রধান শেখ হাসিনাসহ সবার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেই পরবর্তী আইজিপি হিসেবে তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে