খুঁজুন
                               
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

প্রধানমন্ত্রীর অভিভাবকত্বে সুসংগঠিত র‍্যাব, স্মার্ট বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশে দৃঢ়প্রত্যয় ডিজির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৩, ১১:০২ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর অভিভাবকত্বে সুসংগঠিত র‍্যাব, স্মার্ট বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশে দৃঢ়প্রত্যয় ডিজির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিভাবকত্বে র‌্যাব ফোর্সেস অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্মার্ট, সুসংগঠিত, আত্মপ্রত্যয়ী, নির্লোভ ও অপরাধ দমনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন, বিপিএম (বার), পিপিএম। ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূলমন্ত্রকে বুকে লালন করে আগামীতে আরও উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা যেমনি জানিয়েছেন তেমনি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে রূপান্তরের অংশ হিসেবে র‌্যাব ফোর্সেস একটি স্মার্ট বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশে দৃঢ়প্রত্যয়ের কথাও।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত বার্তায় উজ্জীবিত-গৌরবান্বিত র‍্যাব

রবিবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদর দপ্তরে র‌্যাবের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সমুন্নত রেখে র‌্যাব ফোর্সের্সের অর্জনের আলোকরেখাকে উদ্ভাসিত করেন গোটা বাহিনীর কর্মের দ্যুতি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় প্রজ্জ্বলিত করেন নিজেদের সত্যনিষ্ঠ চেতনাবোধকে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো.আমিনুল ইসলাম খান, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন অনুষ্ঠান মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জননিরাপত্তায় আস্থায় র‍্যাবের অর্জনে উচ্চকন্ঠ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহাবুব আলী, সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদসহ সরকারের মন্ত্রী এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল হামিদুল হক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক এ কে এম নাজমুল হাসান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আমিনুল হক প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে অভূতপূর্ব উন্নয়নের গতিধারায় নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে র‌্যাব ফোর্সেস মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (গ্রেড-১) এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আপনার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির ফলে দেশ আজ শতভাগ বিদ্যুতের মাইলফলক অর্জন করেছে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের রূপকল্পের পর লক্ষ্য এবার স্মার্ট বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের মাধ্যমে মহাকাশে নিজেদের গর্বিত পদচিহ্ন আঁকা, দ্রুত গতির মেট্রোরেলের যাত্রা, দেশীয় আন্তর্জাতিক বাঁধা অতিক্রম করে সম্পুর্ণ দেশের অর্থায়নে দেশবাসীর আশার প্রতীক স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণ ও পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন, চট্রগ্রামকে সাজানোর লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণসহ অসংখ্য অবকাঠানো নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামাজিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন আপনার একাগ্র কর্মস্পৃহা আর অনন্য সাধারণ দেশপ্রেমের বহি:প্রকাশ।

এছাড়াও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তব করতে গৃহীত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, দোহাজারি থেকে রামগঞ্জ-কক্সবাজার ও ধুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প আজ দৃশ্যমান হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের আপামর জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে আপনার এই ক্লান্তিহীন পথচলার কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসনে আসীন।’

ত্রিমাত্রিক র‌্যাব রুখে দিয়েছে ব্যর্থ রাষ্ট্রের অপচেষ্টা
‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাব ফোর্সেস জঙ্গিবাদ, চরমপন্থী, জলদস্যু, সন্ত্রাস দমন, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, কিশোর গ্যাং নির্মূল, সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের আসামি গ্রেফতারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আপনার বদান্যতায় এই বাহিনী জল, স্থল ও আকাশে অভিযান পরিচালনায় সক্ষমতা সম্পন্ন একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে’-বলেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল এদেশে জঙ্গিবাদের বীজ বপণ করে জঙ্গিবাদের মাধ্যমে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টাকে রুখে দিয়েছে র‌্যাব। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে র‌্যাব চরমপন্থীকে সমূলে উৎপাটন করেছে। বাংলাদেশের মানুষের মনে আজও ভেসে ওঠে ২১ আগস্টের সেই ভয়াল স্মৃতি। কোন একটি পরিকল্পিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সারা দেশে একযোগে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের শক্তিতে কবর দিতে চেয়েছিল। যারা আপনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে জাতির পিতার নাম চিরতরে মুছে দিতে এই ঘৃণ্য চক্রান্ত চালিয়েছে আমরা তাদেরকে শক্তহাতে প্রতিহত করেছি। একই সঙ্গে র‌্যাব ফোর্সেস ২১ আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলা মামলার চার্জশিটে থাকা ২৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গি দমনে আপনার জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে র‌্যাব ফোর্সেস নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।’

র‌্যাব জঙ্গিদের পরিকল্পনাকে নসাৎ করে দিয়েছে
র‌্যাব ডিজি এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে একটি রোল মডেল। র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হয় জেএমবি শীর্ষ নেতা শায়েখ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ অনেক নেতৃস্থানীয় জঙ্গি সদস্য। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র দেশে সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন থেকে কতিপয় সদস্যকে একীভূত করে ২০১৯ সালে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া নামক একটি জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে। এই সংগঠনটির একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল। তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। ইয়েমেন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পরবর্তীতে তারা নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ইতোমধ্যে সংগঠনটির প্রায় শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে যদি অভিযান পরিচালনা করা না হতো তাহলে হলি আর্টিজান থেকে বড় ধরণের নাশকতা হতে পারতো। যখনই জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়েছে তখনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সাহসী অভিযানের মাধ্যমে র‌্যাব জঙ্গিদের পরাজিত করেছে এবং তাদের পরিকল্পনাকে নসাৎ করে দিয়েছে। জঙ্গিবাদ বিরোধী যুদ্ধে জয়লাভ করতে এবং জনসম্পৃক্ততা অর্জনে র‌্যাব ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।’

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগান মানুষের মুখে মুখে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে দেশকে মাদকমুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথাও উচ্চারণ করেন র‌্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে র‌্যাব ফোর্সেসকে যে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন সেই আলোকে মাদক বিরোধী অভিযানের ওপর গুরুত্বারোপ করে র‌্যাব দেশব্যাপী নিয়মিত মাদক বিরোধী জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে।

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ র‌্যাবের এই স্লোগান এখন সারা দেশের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। র‌্যাব ফোর্সেসের এই অর্জন শুধুমাত্র আপনার সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই বাস্তবায়িত হয়েছে। র‌্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বড় ধরণের আইস ও ইয়াবার চালান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। যুব সমাজকে ধ্বংসকারী মাদকের অবাধ বেচাকেনা ঠেকাতে ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আপনার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে দেশকে মাদকমুক্ত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আপনার দিকনির্দেশনা ও প্রজ্ঞায় সুন্দরবন আজ জলদস্যু মুক্ত। পহেলা নভেম্বর ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার যে ঘোষণা আপনি দিয়েছেন এতে করে আমরা প্রতিটি র‌্যাব সদস্য হয়েছি গর্বিত। এই অঞ্চলের মানুষ আজ শান্তিতে বাস করছি। একই সঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলে পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটছে। আত্মসমর্পণকারী ৩২৮ জন জলদস্যুকে পুনর্বাসন করতে আপনার অনুদান সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।’

র‌্যাবের অভিযানে বাজার স্থিতিশীল
নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে র‌্যাবের ভূমিকার কথাও মোটা দাগে তুলে ধরেন র‌্যাব ডিজি। তিনি বলেন, ‘দেশের একটি অপশক্তি সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে বাজারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করে দেশের বিরাজমান শান্তি পরিস্থিতি বিঘ্ন করতে চাইছে। র‌্যাবের অব্যাহত অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, ভেজাল পণ্য উৎপাদনকারীদের প্রতিহত করা ও অবৈধ মজুদদারদের শাস্তির আওতায় আনতে অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছে, যা জনগণের কাছে প্রশংসা পাচ্ছে।’

দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদানে সদা প্রস্তুত র‌্যাব
র‌্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘মাননীয় প্র্রধানমন্ত্রী র‌্যাব ফোর্সেসকে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দু’টি হেলিকপ্টার দিয়েছেন। এই বাহিনীর এয়ার উইং পাইলট ব্যবস্থা, সম্মিলিত হেলিকপ্টারের সহায়তায় আমরা অত্র সংস্থার দক্ষ পাইলট দ্বারা যেকোন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আভিযানিক কার্যক্রমে অধিকতর মনোবল ও দক্ষতার সহিত পরিচালনা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমরা হেলিকপ্টার দু’টি ব্যবহার করছি। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, রান্না করা খাবার শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল দল সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতায় মানুষের অসহায়ত্ব উপলব্ধি করে র‌্যাব শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। র‌্যাব যেকোন দুর্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদানে সদা প্রস্তুত।’

র‌্যাব ফোর্সেসের উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা র‌্যাব ফোর্সেসের উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট বলেও মন্তব্য করেন র‌্যাব মহাপরিচালক। নিজের স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি র‌্যাব ফোর্সেসের উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি সব সময় থাকবে। সারা দেশে র‌্যাবের সকল ব্যাটালিয়নের স্থায়ী ভবন, ফোর্সেস ব্যারাক ও পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণের কার্যক্রমও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও র‌্যাবের কারিগরি উপযুক্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে নি:সন্দেহে আমাদের কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি পাবে। আপনার এই সময়োচিত পদক্ষেপের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞ।’

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে