খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

পুলিশকে কতটা ভালবাসেন প্রধানমন্ত্রী?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
পুলিশকে কতটা ভালবাসেন প্রধানমন্ত্রী?

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর জন্য অর্থ খরচ করাকে ব্যয় মনে করেন না কখনও। নিজেই উচ্চারণ করেন-‘পুলিশের কোন দাবি করতে হয় না’। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলা পুলিশ বাহিনীর মনের কথা তিনি বোঝেন। নিজেই উদ্যোগী হয়ে পুলিশের সমস্যা সনাক্ত; চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেন। ‘পুলিশবান্ধব’ একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও গোটা বাহিনীতেই তিনি জনপ্রিয়।

আরও পড়ুন: পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ ‘ইতিহাসের পাতায়’, তৃতীয় বারের মতো স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রীর

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার জন্য পুলিশের নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকার প্রশংসা করেন অকপটে। অনীহা দূর করে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই কথাটিও উচ্চারণ করেন সানন্দে। কখনও বলা হয়নি কিন্তু যৌক্তিক বিষয় এমন দাবি নিজেই শিখিয়ে দিয়েছেন জননিরাপত্তার অগ্রদূত বাহিনীর কর্মকর্তাদের।

পুলিশের জন্য আলাদা মেডিকেল কোর-এই দাবি কেউ না তুললেও নিজের অভিজ্ঞতার আলোকেই বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। পুলিশের কর্মযজ্ঞে সন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষে বাহিনীটির নির্ধারিত প্রতিপাদ্যে মুগ্ধতার কথাও প্রকাশ করেছেন।

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এই প্রতিপাদ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে পুলিশকে জনতারই হতে বলেছেন। মানুষ কোন অন্যায় দেখলে পুলিশকে ফোন দিচ্ছে, পুলিশ পৌঁছে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে এমন দায়িত্ববোধেরও নজির স্থাপনের বিষয়টিও দৃঢ়কন্ঠে তুলে এনেছেন। গর্ব করেন পুলিশের নারী সদস্যদের নিয়েও।

আরও পড়ুন: আইজিপির জবানীতে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পুলিশ’, প্রধানমন্ত্রীর বাস্তবধর্মী পদক্ষেপে বেড়েছে সক্ষমতা!

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী সদস্যরা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের পুলিশের সঙ্গে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সেই উদাহরণ টানেন। জাতিসংঘের সেক্রেটারী জেনারেলের নারী সদস্যদের আরও বেশি করে সেখানে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান।

মাস পাঁচেক আগে দশ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত অনুসরণে অন্যদেরও তাগিদ দিয়েছেন। ৮০’র দশকে যখন গোপালগঞ্জে ডাকাতি হতো তখন স্থানীয় পুলিশকে সহায়তার জন্য নিজের স্পিডবোট দিয়ে দিতেন। তেল খরচের টাকাও নিজেই সরবরাহ করতেন।

বাবা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসার এমন নানা উদাহরণও তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত পিতা মুজিবের কাছ থেকেই এমন গুণাবলী পেয়েছেন তিনি। পুলিশ পরিবারেরও চরম আপন যেন তিনি!

পাক হানাদারদের শাসন আর শোষণের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে একটি স্বাধীন মাতৃভূমির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মহামানব বঙ্গবন্ধু। নীল আকাশে লাল-সবুজের স্বাধীন পতাকা উড়বে, চোখে মুখে আর কল্পনার জগতজুড়ে ছিল এমন স্বপ্ন। জাতির পিতার নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন স্বার্থক করতে মুক্তি সংগ্রামে প্রথম ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পুলিশই। হয়তো এ কারণেও পুলিশ বাহিনীর প্রতি হৃদয়:নিসৃত এমন আবেগ ভালোবাসা প্রধানমন্ত্রীর।

বরাবরই প্রধানমন্ত্রীর প্রগাঢ় স্নেহের ছোঁয়াও পেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী কতটুকু ভালোবাসেন, তাদের প্রতি তার প্রশ্নাতীত আন্তরিকতার মাত্রাও যেন প্রকাশ পেয়েছে পুলিশ প্রধান ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর উক্তিতেই-‘বিগত এক দশকে প্রধানমন্ত্রীর ঔদার্য্য ও আন্তরিক ছোঁয়ায় বদলে গেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

তার ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ পুলিশ আজ হয়ে উঠছে দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় অধিকতর দক্ষ ও যোগ্য।’ ‘প্রধানমন্ত্রীর বদৌলতেই পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল যেমন এমনটি বলেন।

তেমনি জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনেরও গুরুত্বপূর্ণ উচ্চারণ-প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে অনেক কিছু দিয়েছেন। ২০০৯-১০ সালে প্রধানমন্ত্রী যখন ক্ষমতায় আসেন তখন পুলিশের ডেভেলাপমেন্ট বাজেট ছিল ৮৫ কোটি টাকা। এখন সেটি ১ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা।’

প্রতিটি পুলিশ সপ্তাহেই প্রথম দু’টি দিনের বেশিরভাগ সময়ই পুলিশের সঙ্গে নিজের পারিবারিক আবহের মতোই কাটান প্রধানমন্ত্রী। ব্যতিক্রম হয়নি চলতি পুলিশ সপ্তাহেও। রোববার (০৫ জানুয়ারি) রাজারবাগে পুলিশের প্যারেড অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সোমবার (০৬ জানুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তাদের স্বজন হয়েই যেন কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

প্রধানমন্ত্রীর নতুন মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউসের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতিবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তার বাম পাশে বসা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে হাসিমুখে, ফুরফুরে মেজাজেই বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের বক্তব্যে যেমন গভীর মনোযোগ দিয়েছেন তেমনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ, খুলনার পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির ও চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার বিষয়টিও ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন।

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা এনে দিয়েছেন বাঙালির মুক্তি ও চিরকাঙ্খিত স্বাধীনতা। আপনি দিয়েছেন স্বনির্ভরতা, সমৃদ্ধি এবং স্বচ্ছলতা’ প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথির ভাষণের অনুরোধ করতে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস।

সরকার প্রধানের মূল্যবান দিক নির্দেশনামূলক ভাষণের পর তিনি বলেন, ‘আপনার প্রগাঢ় আন্তরিকতায় আমরা সিক্ত; আমরা সমৃদ্ধ। দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের ধারা অব্যাহত থাকুক। যাতে করে আমরা দেশে ও দেশের বাইরে মাথা উঁচু করে নিজেদের প্রমাণ করতে পারি।’

পুলিশের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি
ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম পুলিশ বাহিনীর কাঠামো সংস্কারের দাবি তোলেন। বাহিনীতে নতুন করে ১৭টি অতিরিক্ত আইজিপির পদ সৃষ্টির দাবির পাশাপাশি ৭১টি ডিআইজি, ১৮৪টি অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ১৩৩টি এসপিসহ মোট ৪০৫টি নতুন পদ সৃষ্টির দাবি জানান। অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের সঙ্গে পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তার সংখ্যা সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পুলিশ কাঠামো অনেক সংস্কার করে দিয়েছি। যে কোন একটি প্রতিষ্ঠানে প্রমোশন হয় পিরামিড আকারে, এটা বাস্তবতা। আমরা জনবলের সাথে সাথে যারা দায়িত্ব বা লিডারশিপ দিবেন আনুপাতিক সেই পদগুলোও সৃষ্টি করতে হবে। এরই মধ্যে পুলিশে ২১৫ টি নতুন পদ সৃজন হয়েছে। পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২১ জনে উন্নীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীতে নতুন নতুন ইউনিট খোলা হচ্ছে। শিল্প পুলিশসহ বিশেষায়িত বিভিন্ন ইউনিট খোলা হয়েছে। সেসব ইউনিটে পদোন্নতি এবং পদায়নেরও সুযোগ রয়েছে।’

ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন-অর-রশিদ প্রবাসীদের আইনগত সহায়তার জন্য বিভিন্ন দূতাবাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যেমন : ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিআরটিএ, বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন সংস্থায় পুলিশ সদস্যদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

এমন প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে ইতোমধ্যেই পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও পুলিশের প্রতিনিধি থাকা দরকার বলে আমি মনে করি। সেটা আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোন গ্রেফতার করার এখতিয়ার নেই। মাঝখানে আমরা শুনেছিলাম..।

তাদের গ্রেফতারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেই বলতে হবে। এক্ষেত্রে তারা নির্দেশনা দিতে পারে। তারা ধরে এনে হাজতখানা বানাবে, হাজতে রাখবে এটা দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ না। যার যার কাজ তার তার করতে হবে, এ কথাটা মাথায় রাখতে হবে।’

তবে বিভিন্ন দূতাবাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দূতাবাসগুলোয় নিয়োগের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যারা আছেন তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেখানে পুলিশ সদস্যদের খুব একটা কাজ নেই। বিদেশে কোনো কাজ করতে গেলে স্থানীয়রা দূতাবাসের কর্মকর্তাদেরই প্রাধান্য দেন।’

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার লুৎফুল কবীর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানদের আলাদা আবাসিক বাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন। অন্য ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মতো পুলিশ কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়ি ক্রয়ের ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথাও বলেন। গাড়ি ক্রয়ে ঋণ সুবিধার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

আবাসিক বাড়ির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে গুলশানে বিশাল প্লট দেওয়া হয়েছে। ১১৮/১১৯ কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বানানো হচ্ছে পুলিশের উর্ধ্বতনদের জন্য। প্রতিটি ইউনিট প্রধানের জন্য ফ্ল্যাটগুলো ডেডিকেটেড থাকা ভাল। যে যেখানে পদায়ন হবে সে সেখানে থেকে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

ঢাকার বাইরে যারা থাকে তাদের জন্য আমরা ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি প্রতি উপজেলায় ফ্ল্যাট সিস্টেম করে দিতে। সরকারি কর্মকর্তারা যারা যাবেন তাদের সেই ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। যাতে নিরাপদে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে, সেইভাবে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম প্রধানমন্ত্রীর কাছে নারী পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা দ্বিগুণ করার দাবি জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে পুলিশে মাত্র ১৫০০ নারী সদস্য রয়েছেন। এ সংখ্যা ৩ হাজার করার দাবি করেন। পাশাপাশি নারী পুলিশের জন্য আলাদা দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করার কথা বলেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার করারও প্রস্তাব করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, ‘‘নারী পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। নারী পুলিশ ভালো কাজ করছে; তাদের প্রশিক্ষণ আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ থাকা উচিত। তাদের জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থাও করতে হবে।’

ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ডাম্পিং স্টেশন নয়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের একটি দাবি এসেছে, ট্রেনিং ইন্সটিটিউটগুলোতে ভাতা বৃদ্ধি। ইতোমধ্যে সারদা ও পুলিশ স্টাফ কলেজে সেটি ৩০ শতাংশ হারে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য জায়গায় কিন্তু আমরা যেহেতু ৩০০ ভাগের ওপর বেতন বৃদ্ধি করেছিলাম এজন্য ভাতার পরিমাণ পার্সেন্টিজে রাখিনি।

কারণ ভাতা পূর্বের বেতনের যে সংখ্যা ছিল সেই সংখ্যায় রেখে দিয়েছিলাম। সেই অনুপাতে কিন্তু আপনারা ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন। এরপরেও আমরা বলেছি, অন্ততপক্ষে ট্রেনিং ইন্সটিটিউটগুলোতে যেখানে ট্রেনিং দেওয়া হয় সেখানে যাদের পাঠানো হয় তারা মনে করে আমাদের বুঝি ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে দিলো।

আসলে অত্যন্ত মেধাবীদের সেখানেই দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। বাকী জায়গাগুলোতেও ভাতা বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, আমি সরকারে আসার পর রাজারবাগে প্রথম ১০ তলা ভবনের হাসপাতাল করে দিয়েছি। বিভিন্ন বিভাগে ৫ টি হাসপাতাল করে দিয়েছি।

আলাদা মেডিকেল কোরের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুলিশে কিন্তু মেধাবীরা আসে। ব্যারিষ্টার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ অনেক মেধাবীরা আসে। আমি মনে করি, পুলিশের জন্য একটি মেডিকেল কোর আলাদা করা প্রয়োজন। পুলিশ হাসপাতালে যখনই কোন ডাক্তার নিয়োগ দিতে চাই, সেখানে তারা আসতে চায় না।

পুলিশের মধ্যে কে ডাক্তার আছে তাকে খুঁজে সেখানে দায়িত্ব দিতে হয়। আপনারা যদি ডাক্তারদের জন্য আলাদা ইউনিট করে ফেলেন সেটা আপনাদের নিজস্ব চিকিৎসার জন্য সুবিধা হবে। একটি নিজস্ব ইউনিট করে দিতে পারলে ভাল হবে। এই প্রস্তাবের দাবি কিন্তু আপনারা করেননি আমি করেছি।’

এ কথা বলেই হেসে উঠেন প্রধানমন্ত্রী। হাসির রোল পরে যায় শাপলা হলের পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝেও।

প্রধানমন্ত্রীকে শুনতে হয় না পুলিশের দুর্নামের কথা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি দুই টার্মে ৮২ হাজারের ওপরে পুলিশ সদস্য বৃদ্ধি করেছেন। গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির সংকট নিরসন করে দিয়েছেন সুপার নিউমারি পদের মাধ্যমে। পুলিশের জন্য অনেক করেছেন। ১১ বছর আগের পুলিশ আর সেই পুলিশ এক নয়। পুলিশ তাদের দক্ষতা ও বিচক্ষণতার মধ্যে দিয়ে কাজ করছে।

আপনাকে এখন আর হয়তো পুলিশের দুর্নামের কথা শুনতে হয় না। এখন পুলিশ যে এগিয়ে যাচ্ছে সেই কথাই হয়তো শুনেন। মাঝেমধ্যে দুই চারটি কথা অবশ্যই শুনেন। সেগুলো পুলিশের আইজিপি সরাসরি অ্যাকশন নেন বলেই এই বাহিনীতে শৃঙ্খলা অটুট রয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’

.
.
এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান
অ্যাকটিং এডিটর
কালের আলো.কম

.

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে