খুঁজুন
                               
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নবীনদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ, নির্বাচনে ৫ হাজার নৌ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
নবীনদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ, নির্বাচনে ৫ হাজার নৌ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছেন তরুণ কর্মকর্তারা। দীর্ঘ ৩ বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে চির কাক্সিক্ষত কমিশনপ্রাপ্তির আনন্দক্ষণ। দেশের সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃপ্ত শপথ চোখে-মুখে। অবারিত আনন্দের স্রোতধারায় ও ভাতৃত্বের সীসা ঢালা প্রাচীরের অবিচ্ছেদ্য এক বন্ধন। চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রবিবার (০৭ ডিসেম্বর) শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের মনোমুগ্ধকর আয়োজন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৩-এ ব্যাচের ২ জন নারীসহ ৩১ জন মিডশিপম্যান এদিন সাব লেফটেন্যান্ট পদে লাভ করেন কমিশন।

অদম্য পরিণত মেধাবী তরুণ কর্মকর্তাদের নিজের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা, পেশাদারিত্ব ও দূরদৃষ্টিতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নির্মোহ ও বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় বলেছেন, ‘তোমাদের মতো তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত সুবিধা এবং সুযোগের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আজকের এই বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি। এসকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দানে যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে তোমাদের প্রত্যেককে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। দেশের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মানসিকতায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে।’

প্রধান অতিথি হিসেবে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ৫ হাজার নৌসদস্যকে মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাস হতে সর্বসাধারণের জানমাল, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও নৌবাহিনী সদস্যগণ নিয়মিত উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত জনগণকে জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

  • নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে
  • নৌবাহিনী তার ভবিষ্যৎ অপারেশনাল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করছে
  • ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
  • সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হতে হবে অগ্রণী

আপনারা জানেন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা প্রদান করেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নৌবাহিনীর সদস্যগণকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাহাজ ও ক্রাফটসহ আনুমানিক ৫ হাজার নৌসদস্যকে এই নির্বাচনকালে মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে গৌরবময় পদক তুলে দেন। মিডশিপম্যান সৈয়দ তাহসিন আহমেদ, (এল), বিএন সকল বিষয়ে সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। মিডশিপম্যান এস এম আবরার ওবাইদ, (ই), বিএন প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। পরে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে নৌবাহিনী প্রধান ও প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মিডশিপম্যানদের অভিভাবকরা নবীন কর্মকর্তাদের এ্যাপুলেট পরিয়ে দেন। এছাড়াও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নেভাল এভিয়েশনের মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টারের বিশেষ ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।

নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০২৩ আলফা ব্যাচের এই মনোরম ও বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজ এই বিশেষ দিনে আপনাদের মাঝে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমার শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ। আজ ৭ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাস। আমি উপস্থিত সকলকে বিজয়ের মাসের বিশেষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই দিনে প্রথমে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। বিজয়ের মাসে আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা দেশের স্বাধীনতার লক্ষে আত্মোৎসর্গ করে আমাদের মাঝে অমর হয়ে রয়েছেন। আজকের অনুষ্ঠানের উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সদর আমন্ত্রণ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়’-এই মূলমন্ত্রকে উপজীব্য করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা, সমুদ্র সম্পদ আহরণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা প্রদান, শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নৌবাহিনী সদা তৎপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরই সাথে দেশের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্রমধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে নৌবাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। সাগর ভিত্তিক অর্থনীতি তথা ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে নৌবাহিনী সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি এতদ সংশ্লিষ্ট উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে যেকোন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমন, জেলেদের সুরক্ষা এবং সমুদ্র সম্পদ আহরণে কার্যকর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের জলসীমায় দেশি-বিদেশি সকল ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানে আমরা সর্বদা নিয়োজিত রয়েছি। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রম পরিচালনাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও উৎপাদনে উল্লেখজনক ভূমিকা রাখছে। এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গত ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতীয় মৎস্য পুরস্কার লাভ করে, যা দেশমাতৃকার জন্য নৌবাহিনীর নিবেদিত কার্যক্রমের বহিঃপ্রকাশ। এ সকল কার্যক্রমের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনস্থ চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডকে প্রদানের ফলে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সংখ্যা এবং সামগ্রিক কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নৌবাহিনী তার ভবিষ্যৎ অপারেশনাল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করছে
আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে নৌবাহিনী তার ভবিষ্যৎ অপারেশনাল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন এর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ সংযোজনের অংশ হিসেবে দেশীয় শিপইয়ার্ডে লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে দুইটি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, দু’টি আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেম ক্রয় করা হয়েছে। একই সাথে গভীর সমুদ্রে জরিপ কার্য পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে একটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ক্রয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হতে চারটি মাল্টিমিশন ইন্টারসেপটার বোট নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ সহায়তায় ব্যবহারের জন্য জাপান হতে পাঁচটি পেট্রোল বুট আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেশীয় তিনটি শিপইয়ার্ডে আমরা যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে তিনটি ডাইভিং বোট এ বছর নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে এবং তিনটি এলসিটি নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত ৩০ নভেম্বর আমাদের বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া সফলভাবে গভীর সমুদ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের চারজন উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এই মহড়া প্রত্যক্ষ করেছেন। সদ্য সমাপ্ত এই মহড়ায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফট হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মেরিটাইম সংস্থা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করেছে। এবারের সমুদ্র মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের মিসাইল সফলভাবে ফায়ার করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য আমরা এবারই প্রথমবারের মতো সদ্য সংযোজিত আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেল, ভিসেট ও ডেটা লিংকসহ বিভিন্ন সেন্সরভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহার করেছি। এসব প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিটি মিসাইল সুনির্দিষ্ট টার্গেটে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যা উপস্থিত অতিথিগণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন।’

ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি
ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বানৌজা পতেঙ্গা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১৫০ থেকে ২৫০ এ উন্নীতকরণের কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘একই সাথে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনী কর্তৃক একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে হতে এই মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা নৌ অঞ্চলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আশার আলো স্কুল এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নেভাল ইনস্টিটিউট অব হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর প্রায় ৮০০ কর্মকর্তার জন্য ঢাকায় নেভাল অফিসার্স হাউজিং সোসাইটির কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া অফিসার ও নাবিকদের জন্য ইতোপূর্বে নির্মিত সাভার কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গৌরবময় অবদানের কথা তুলে ধরে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার গর্বিত অংশীদার হিসেবে সারাবিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে লেবাননে একটি জাহাজ এবং সাউথ সুদানে একটি রিভারাইন কন্টিনজেন্ট সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এতে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত হয়েছে এবং দেশের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও কাতার এবং কুয়েতে ডেপুটেশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার জন্য আমরা আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

প্রাণবন্ত প্যারেড ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করেছে
প্রিয় প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজ তোমাদের চমৎকার কুচকাওয়াজ দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি। তোমাদের প্রাণবন্ত প্যারেড ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করেছে। তোমাদের স্মরণ রাখতে হবে সমুদ্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের মূল লক্ষ্য। সঠিকভাবে সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে সামুদ্রিক অর্থনীতি ও তথা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। ক্রমবর্ধমান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য তোমাদেরকে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের সেবায় ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে তোমরা আত্মনিয়োগ করবে এটাই আমার প্রত্যাশা।’

সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হতে হবে অগ্রণী
কমিশনপ্রাপ্ত মিডশিপম্যানদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘তোমাদের সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজ তোমরা ৩১ জন সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী একাডেমির সীমানা পেরিয়ে নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। তোমাদের মনে রাখতে হবে যে কঠোর প্রশিক্ষণ তোমরা সফলভাবে সমাপ্ত করে চলেছো তা তোমাদের ভবিষ্যৎ উৎকর্ষতা অর্জনে সূচনা মাত্র। সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে তোমরা সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। আমি আশা করবো তোমরা দেশপ্রেম, শৃঙ্খলাবোধ এবং কর্তব্যনিষ্ঠায় হবে দৃষ্টান্তমূলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশের প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে ও আত্মোৎসর্গ করতে তোমরা সদা প্রস্তুত থাকবে।’

আজ থেকে তাঁরা শুধু আপনাদের সন্তানই নয় তারা প্রত্যেকে এদেশের অমূল্য সম্পদ
নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানেরা আজ দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়ে নৌবাহিনীর একেকজন গর্বিত কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে। এই গৌরবময় সাফল্যের অংশীদার আপনারাও। আমি আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনারা দোয়া করবেন, আপনাদের সুযোগ্য সন্তানেরা প্রত্যেকে যেন দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শ উদাহরণ হয়ে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনাদের সন্তানেরা হবে এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যত কর্ণধার। আজ থেকে তারা শুধু আপনাদের সন্তানই নয় তারা প্রত্যেকে এদেশের অমূল্য সম্পদ।

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে