খুঁজুন
                               
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

ভাষণে মুগ্ধতা ছড়ালেন প্রধান উপদেষ্টা, জুলাই সনদে স্বাক্ষরে বাংলাদেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ভাষণে মুগ্ধতা ছড়ালেন প্রধান উপদেষ্টা, জুলাই সনদে স্বাক্ষরে বাংলাদেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

কালের আলো রিপোর্ট:

অবশেষে কাক্সিক্ষত জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর হয়েছে। এরই মধ্যে দিয়ে যেন বাংলাদেশে সূচনা ঘটলো নতুন এক অধ্যায়ের। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সনদে স্বাক্ষর করলেন। নানা মতভেদ পেরিয়ে প্রণীত জুলাই সনদে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪ দল স্বাক্ষর করেছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহুর্তে ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণের স্বাক্ষী হলো গোটা দেশ। জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরকে ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’ বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। নানা বিষয়ে মতানৈক্য পেরিয়ে জুলাই সনদে দলগুলোকে এক করতে পারার কৃতিত্ব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদেরও দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান।

এদিন ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের কাতারে থাকা তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। তারা অনুষ্ঠানেও যায়নি। অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও সনদে স্বাক্ষর করেনি গণফোরাম।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন, যে ঐক্যে জুলাই সনদে সই হলো, এই সুরই দেশকে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে এক থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা যেরকম সনদ করলাম, তেমনি রাজনীতির ব্যাপারে, নির্বাচনের ব্যাপারে আপনারা রাজনৈতিক নেতারা বসে একটা সনদ করুন- কীভাবে নির্বাচন করবেন। যেমন-তেমন করে নির্বাচন করলে তো আবার পুরোনো জায়গায় ফিরে যাওয়া। এতকিছু করে লাভটা কী হলো তাহলে? এই কথা লিখে আমার লাভ কী হলো? কথা লিখলাম, কথা মানলাম না, কাজের মধ্যে গিয়ে মানলাম না। কাজেই আমার অনুরোধ, আপনারা আবার ঐকমত্য কমিশন বলেন, কমিটি বলেন, নিজেরা বসুন-নির্বাচনটা কীভাবে সুন্দরভাবে করবেন, উৎসবমুখর করবেন, ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবেন।’

এর আগে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এতে যোগ দেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার আগে বেলা ১টার দিকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে একদল লোক অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এরপর পুলিশ ও ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ মধ্যে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সব বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে শুরু হয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।

যেন আমরা বলতে পারি যে আমাদের অনেক স্রোত, কিন্তু মোহনা একটি : অধ্যাপক আলী রিয়াজ
জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি হিসেবে ৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশের নানা ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করে নিজের বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের মতের পার্থক্য থাকবে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য না থাকলে তা গণতান্ত্রিক হয় না। মতের পার্থক্য থাকবে, পথের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু এক জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ সেই অভীষ্ট জায়গা গণতন্ত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি। অধ্যাপক আলী রীয়াজ নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘বহু স্রোত যেন মোহনায় এসে মেলে, যেন আমরা বলতে পারি যে আমাদের অনেক স্রোত, কিন্তু মোহনা একটি। সেটি হচ্ছে, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করা। আমাদের বহু স্রোত, আমরা সকলে এক জায়গায় যে আমরা যেকোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই দাঁড়িয়ে থাকব।’

  • এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা
  • ঐক্যের সুর, ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব
  • অন্য দেশ আমাদের কাছ থেকে শিখবে, সে সামর্থ্য আমাদের আছে
  • যেন আমরা বলতে পারি যে আমাদের অনেক স্রোত, কিন্তু মোহনা একটি : অধ্যাপক আলী রিয়াজ

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অভূতপূর্ব এবং অনন্য সময়। একটি ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি হচ্ছে আমাদের দীর্ঘ পথের যাত্রার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শের যে রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা তা, ৫৩ বছর ধরে বারবার হোঁচট খেয়েছে। এরপরও দেশের নাগরিকেরা গণতন্ত্র এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজকে এই জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় এক বছর ধরে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এই জাতীয় সনদে উপনীত হয়েছে। এই জুলাই জাতীয় সনদ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি নয়, এটা নাগরিকের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ও রাষ্ট্রের একটি সামাজিক চুক্তি বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অবদানের মধ্য দিয়ে এই সনদ তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সবার যে চেষ্টা, তা এক দিনে সাফল্য অর্জন করবে না এবং একটি দলিল কেবল সেই নিশ্চয়তা দেবে না বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে জাতীয় দলিল তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন ঘটবে। দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন ঘটবে। নাগরিকদের মতামতের মধ্য দিয়ে এই দিক দিশা নির্দেশক বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে পরিচালনা করবে।’

ভাষণে মুগ্ধতা ছড়ালেন প্রধান উপদেষ্টা, বললেন আমাদের জন্য আজকে নবজন্ম
নিজের দীর্ঘ ভাষণে আবারও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের নবজন্ম হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন। ঐক্যবদ্ধ শপথে দৃপ্ত পদক্ষেপে শাণিত করলেন সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার। তরুণরাই এদেশের নেতৃত্ব দিবে, তাঁরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে আশাবাদী উচ্চকিত কণ্ঠে জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান। নিজের ভাষণে তিনি বললেন বলেন, ‘আমাদের জন্য আজকে নবজন্ম। আমাদের নবজন্ম হলো আজকে। এই স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম। সেটা যেন সঠিকভাবে আমরা যেতে পারি। আমরা একমত হয়েছি সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

এই অগ্রযাত্রায় পথ দেখানোর ভার তরুণদের দিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘যেই তরুণেরা এই দিনটিকে সম্ভব করেছে, এ বাংলাদেশের আনাচকানাচে এই পরিবর্তনের জন্য যারা জীবন দিয়েছে তারা-এই তরুণেরাই আবার বাংলাদেশকে নতুন করে গড়বে। এই চিন্তাধারার আলোকে তারা এই দেশকে গড়বে। তারা এই দেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা আমাদের পথ দেখাবে।’ ভাষণের আগে জুলাই জাতীয় সনদে সই করেন মুহাম্মদ ইউনূস। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরাও সই করেন সনদে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যাত্রার শুরুটা ‘ভয়ে ভয়ে’ হয়েছিল মন্তব্য করে এই কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘সমস্ত জাতি একসঙ্গে হয়ে, সমস্ত রাজনৈতিক নেতা একসঙ্গে হয়ে তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করছেন। এ রকম ঘটনা ঘটবে, এ রকম কেউ আমরা চিন্তাও করতে পারিনি। যখন ঐকমত্য কমিশন গঠন করলাম, মনে মনে আশা ছিল যে হয়তো দুই-একটা বিষয়ে তাদের এক করতে পারব।’

নানা বিষয়ে মতানৈক্য পেরিয়ে জুলাই সনদে দলগুলোকে এক করতে পারার কৃতিত্ব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবেন। তাঁদের নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে। লোকে চিন্তা করবে যে তাঁরা কীভাবে এটা করেছিলেন!

জুলাই সনদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এখানে স্বাক্ষর করলাম সবাই মিলে, সেটা দিয়ে বাংলাদেশ পরিবর্তন হবে। এই পরিবর্তন সম্ভব হলো ওই গণ-অভ্যুত্থানের কারণে। এটা হলো দ্বিতীয় অংশ। সেটা তারা করেছিল বলেই আজকে আমরা এই সুযোগ পেলাম। আমরা পুরোনো কথাবার্তা সব ফেলে নতুন কথাগুলো আমাদের জীবনে নিয়ে আসলাম। আমাদের জাতীয় জীবনে নিয়ে আসলাম। আমাদের সংবিধানের পরিবর্তনের মধ্যে নিয়ে আসলাম। আমাদের অন্যান্য বিষয়ে সরকার চালানোর বিষয়ে নিয়ে আসলাম। অনেক বিষয় এসেছে পরিবর্তনের ভেতরে। এই পরিবর্তন এখন আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা সেই পথে অগ্রসর হব।’ আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা এরই মধ্যে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সেদিকে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঐক্যের সুর, ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের কথা বলেছি। যে সুর আজকে আমরা এখানে বাজালাম, সেই সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ঐক্যের সুর, ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং এই ঐক্য যেন বজায় থাকে। আজকে ঐকমত্যে আমরা যে রকম সনদ করলাম। রাজনীতির ব্যাপারেও, নির্বাচনের ব্যাপারেও আপনারা রাজনৈতিক নেতারা বসে, বিভিন্ন দলের নেতারা বসে একটা সনদ করেন, কীভাবে নির্বাচন করবেন। সবাই মিলে এমনভাবে নির্বাচন করব, দুনিয়ার কেউ এসে বলতে পারবে না এখানে ক্ষতি হয়েছে। বাইরের লোক এসে কেন আমাদের বলবে, তোমরা এটা ঠিক করো নাই, ওটা ঠিক করো নাই। আমরা কী জাতি হলাম যে বাইরের কথার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে?’

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, ‘আমার অনুরোধ, আপনারা আবার ঐকমত্য কমিশন বলেন, কমিটি বলেন, নিজেরা বসুন-নির্বাচনটা কীভাবে সুন্দরভাবে করবেন, ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবেন। বিশ্বের জন্য উদাহরণ হবে, আমরা সে রকম নির্বাচনটা করতে চাই। আমরা ইনশা আল্লাহ পারব। আজকে সেই পারার একটা চিহ্ন আমরা এখানে রেখে গেলাম।’ ঐকমত্যের মাধ্যমে যে ‘কঠিন কঠিন কাজ’ সমাধান করা যায় মন্তব্য করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা এক বর্বর জগতে ছিলাম। যেখানে আইনকানুন ছিল না। মানুষের ইচ্ছায় যা ইচ্ছা তা করতে পারত। এখন আমরা সভ্যতায় আসলাম। এখন তো কাগজে আমরা প্রমাণ করলাম, সেই সভ্যতা আমরা নিয়ে আসলাম এবং কাজে প্রমাণ করতে হবে যে আমরা সেই সভ্যতা অর্জন করেছি।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নায়কদের স্মরণ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের তরুণেরা ছাড়া পৃথিবীতে এত তরুণ দিতে পারে, এত তাজা শক্তি দিতে পারে, এত সৃজনশীল মানুষ দিতে পারে, এত বিশ্বস্ত মানুষ দিতে পারে—খুঁজে পাওয়া যাবে না। কাজেই সে দেশকে গঠন করার দায়িত্ব আগামী সরকারকে নিতে হবে। পরবর্তী সরকারগুলোকে নিতে হবে। সেটার জন্যই প্রস্তুতি হচ্ছে এই আমাদের সনদ।’ জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তকে থাকবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কীভাবে ঐকমত্যে এসেছি, কী কী বিষয়ে বিবেচনা করেছি, কীভাবে এসেছে, তার জন্য যে তাঁরা বিতর্কগুলো করেছেন দিনের পর দিন এই সিদ্ধান্তে আসার জন্য, সেগুলোর ভিডিও ইস্যুভিত্তিক তৈরি করে করে ছাত্রদের হাতে দিয়ে দেওয়া হবে, তারা যেন অনুপ্রাণিত হয়।’

‘অন্য দেশ আমাদের কাছ থেকে শিখবে, সে সামর্থ্য আমাদের আছে’
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে উঠে আসে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মালিকানা ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়টিও। তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর আমাদেরই অঞ্চল। আমাদেরই বাংলাদেশের অংশ। এই অংশ অত্যন্ত সম্পদশালী অংশ। আমরা পূর্ণ ব্যবহার করতে চাই সম্পদকে। আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা তর্কবিতর্কের মধ্যে যেতে চাই না। সে জন্যই আজকে সনদ হলো। এই সনদ তর্কবিতর্কের অবসান করবে।’ জুলাই জাতীয় সনদ সই করার অনুষ্ঠান থেকে গোটা জাতি অনুপ্রাণিত হবে মন্তব্য করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘অন্য দেশ আমাদের কাছ থেকে শিখবে, সে সামর্থ্য আমাদের আছে। আজকে যেই সনদ সই করল, এটা বহু দেশ শিখতে আসবে, এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে আপনাদের বলে রাখলাম। এই যে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করলেন, এ রকম আরও বহু উদাহরণ আমরা সৃষ্টি করতে পারি। সেই পথে আমরা যেন যাই।’

সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নেয়ামূল বশির, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম ও মিডিয়া সমন্বয়ক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, আমার বাংলাদেশ পাটির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ও মহাসচিব মোমিনুল আমিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ও সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) সভাপতি নুরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, জাকের পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ভুইয়া ও গাজীপুর জেলা ছাত্র ফ্রন্টের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হাসান শেখ, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আরেফিন লিটু বিশ্বাস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়্যারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম (বাবলু) ও মহাসচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ (সেলিম), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের ও মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী এবং আমজনতার দলের সভাপতি কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে