খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

কিশোর অপরাধের বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন; সম্মিলিত প্রয়াসেই নির্মূলের অঙ্গীকার র‌্যাবের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কিশোর অপরাধের বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন; সম্মিলিত প্রয়াসেই নির্মূলের অঙ্গীকার র‌্যাবের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

দেশজুড়েই ভয়াবহ আকার নিয়েছে ‘কিশোর গ্যাং’ সংস্কৃতি। বড়দের ছত্রছায়ায় অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে টিনেজারদের। আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে, চাঁদাবাজি, মাদক, খুনাখুনিসহ হরেক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অকালেই ঝরে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় অনেক প্রাণ।

ভিনদেশী এই সংস্কৃতির রাশ টেনে ধরতে শুন্য সহিষ্ণুতার নীতি নিয়েই দীর্ঘদিন যাবত আভিযানিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ২০১৭ সাল থেকে এখন অবধি ৩৭৩ জন কিশোর অপরাধীদের নিয়ে এসেছে আইনের আওতায়। কিন্তু ভয়াবহ এই সমস্যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এককভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয় মোটেও।

জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতার মাধ্যমেই সম্মিলিতভাবেই কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমেই হালের বিষফোঁড়া এই গ্যাং কালচারকে সমূলে মূলোৎপাটন করার বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে র‌্যাব। জনসচেতনতামূলক প্রচারণার বার্তা দিতেই তৈরি করেছে মর্মস্পর্শী এক টিভিসি। নিজেদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার ফুটে উঠেছে ‘সবার হোক একটাই পণ, কিশোর অপরাধ করবো দমন’ শীর্ষক স্লোগানেও।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মধুবাগে অবস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এই টিভিসি উদ্বোধন করেন।

এই অনুষ্ঠানেই কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা উচ্চারিত হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) অকাট্য যুক্তি আর বস্তুনিষ্ঠতার আলোকচ্ছটায় দ্যুতিময় উপস্থাপন করেছেন প্রসঙ্গটির। বিষয়টি নিয়ে মোটা দাগে ভাবনা-চিন্তার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও।

কন্ঠ মিলিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন ও র‌্যাব ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন থেকে শুরু করে সবাই। একই সঙ্গে প্রত্যেক অভিভাবককেও নিজ নিজ সন্তানের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতনতার পরেও সুপথে না এলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন র‌্যাব ডিজি।

সময় এসেছে কিশোর অপরাধের বয়সসীমার ভাবনা-চিন্তার
১৮ বছরের নিচে সবাইকে শিশু হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন এসএসসি পাস করেছি তখন বয়স ছিল ১৫ বছর। বর্তমানে যারা নিয়মিত পড়াশোনা করে ১৮ বছর বয়সে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়। আমাদের মনে হয় ১৮ বছরের এই সময়সীমা চিন্তা-ভাবনা করার সময় এসেছে। আন্তর্জাতিক একটি আইনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় সমন্বয় করে এটি করা হয়েছে। কিন্তু এর ফলে কিশোর অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বেগ পেতে হচ্ছে, তাই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনার কথা বলেন মন্ত্রী।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে, এটি ধরে রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে নিরাপত্তা’
উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমাদের কিশোররা নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের শঙ্কার বিষয় ছিল কোভিডকালীন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে, সবাই বসে থাকবে। তবে এ সময়ে কিশোরদের নিয়ে যে শঙ্কাটা ছিল ততখানি হয়নি। আমাদের দেশ অনেক দেশের তুলনায় ভালো আছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ-র‌্যাব, শিক্ষক ও সমাজ তার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারপরেও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি কেন? তাই বিষয়টি নিয়ে খেয়াল না করলে আমাদের সন্তানকে হারিয়ে ফেলবো। দেশ-জাতির সবাই নিগৃহিত হবে। সমাজের শাসন যদি সুপ্রতিষ্ঠিত করতে না পারি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যতই কড়াকড়ি হোক আমরা হারিয়ে যাব।

তাই সময় থাকতে সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষা দিন, তাদের সঙ্গে কথা বলুন। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে খেয়াল করুন। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তবে আপনার সন্তানদের প্রতি যদি খেয়াল না রাখেন এটি আমরা কখনোই পারবো না।’

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদের মতো কিশোর গ্যাংও এই দেশ থেকে নির্মূল করা হবে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মা-বাবা যদি সন্তানের প্রতি খেয়াল না করে শুধু মাদক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অভিযানে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে যেই তরুণ প্রজন্ম, তারা যেন পথ না হারায়, এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

শিশু-কিশোরদের মনোজগতে প্রবেশ করতে হবে
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, ‘বাবা-মায়ের অতি আদর কিংবা সময় না দেওয়া বাচ্চাদের মনে প্রভাব ফেলে। শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের শারীরিক নির্যাতন করা বৈধ নয়, কাউন্সিলিংয়ে জোর দিতে হবে। শিশু-কিশোরদের মনোজগতে প্রবেশ করতে হবে।

আমরা কিন্তু বাবা-মারা সন্তানের বন্ধু হতে পারিনা। বন্ধু হতে পারলে তাদের যে সমস্যাটা সেটা যেন আমাদের কাছে শেয়ার করতে পারে সেরকম একটা সুযোগ তৈরি হলে কিন্তু এতো অঘটন ঘটবে না।

উদাহরণ টেনে বলেন, ‘আমরা যদি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব দেখি। তার শৈশব কিন্তু মানবিকতাপূর্ণ একটি জীবন ছিল। তিনি শৈশব থেকেই মানবাধিকারের চর্চা করেছেন। সারা জীবন মানবাধিকারের জন্য লড়াই করেছেন।

আমাদের ভেতরে কেন মূল্যবোধ জাগ্রত হবেনা। কেন পরিবার থেকে ছেলে, বাচ্চাকে শিক্ষা দেওয়া হবে না সৎ পথে চলতে। মিথ্যা কথা না বলতে। আমাদের প্রত্যাশা আগামী প্রজন্ম মানবিক চেতনায় বড় হয়ে উঠবে। আমরা যে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশকে তারা যেন বিশ্বের বুকে একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে তুলতে পারে।’

প্রত্যেক আইনে দরকার সমন্বয়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ দেশের আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এছাড়াও দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, আমাদের উপকূলীয় সুরক্ষা এবং আভ্যন্তরীণ যেকোন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্বে আমাদের মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, একটা রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। সেই লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) দক্ষতার সাথে তাদের কর্মকান্ড পরিচালিত করছে।

কিশোরের সজ্ঞা একেক জায়গায় একেক ধরনের, প্যানাল কোডে এক ধরনের। এক সময় ৯ বছর ছিল, এখন ১৪ বছর, শিশু আইনে আছে এক ধরনের ১৬ বছর পর্যন্ত; শ্রম আইনে আছে এক ধরনের ১৮ পর্যন্ত। এটাকে একটি সমন্বয়ের মধ্যে নিয়ে আসা দরকার। তথাপি বিভিন্ন আইনে ব্যঞ্জনা একেক রকম। আমাদের দেখতে হবে অপরাধটা কোন আইনে করেছে। প্যানেল কোড মতে যদি এখন ১৪ বছর হয় সেটা অনেক ভালো। কারণ এই বয়সে এখন সবাই বুঝে। আধুনিক যুগে টিভি, ফেসবুক, ইউটিউব দেখে এই বয়সে ম্যাচিউড হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় প্রত্যেকটা আইনের মধ্যে একটি সমন্বয় আনা দরকার।’

কিশোররা কেন অপরাধ করে তার উৎস খুঁজে বের করতে হবে উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘অপরাধ শুধু নিয়ন্ত্রণ করলে হবেনা; তাদের কারা অপরাধী বানাচ্ছে, কারা তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে, কারা তাদের দিয়ে মাদক বিক্রি করাচ্ছে সেসব লোকদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের সমাজ বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ের কিশোর অপরাধ দমন করতে হবে জানিয়ে মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, আমাদের সকলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অপরাধ দমন করা সম্ভব না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো, তবে সমূলে উৎপাটন করা যাবে না।

কিশোর আইন প্রসঙ্গ ও প্যারেন্টাল কন্ট্রোলে জোর আইজিপির
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘কিশোর গ্যাং’ গত তিন চার বছর ধরে আমাদের আইনশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দেশ উপযোগী, সময় উপযোগী আইন প্রণয়ন করছেন। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন।

উচ্চ আদালত, হাইকোর্ট আপিল বিভাগ বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক দেশের উপযোগী অনেক বিধান এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন। ফলে সভ্য দেশের সমস্ত লক্ষণ ফুটে ওঠার বিষয় অনেক স্পষ্ট। সেভাবেই আমাদের কিশোর আইন হালনাগাদ করা হয়েছে। কিশোর আইন হালনাগাদ করার ফলে যেটা হয়েছে যে এখন ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সের যে কেউ হচ্ছে শিশু।

যেটি ব্রিটিশ আমলের আইন এভাবে ট্রিট করে না। ব্রিটিশ আমলের আইন ছিল এরকম যে, শিশু আইন ছিল ৮ বছর মাত্র। তারপরেও যদি কোন অপরাধ করার ক্ষেত্রে ৮ বছরের শিশু এমন কোন আচরণ করতো যে সে বুঝে অপরাধটা করছে তাহলে তাকেও বয়স্ক অপরাধের সমান বিবেচনায় নিয়ে তার বিচার করা হতো। কিন্তু বর্তমান দেশে আইন পরিবর্তন করার ফলে যেটা হয়েছে ১৮ বছরের মত পূর্ণ যুবকের পর্যায়ে পৌঁছে যায় তাকেও কিন্তু এখন শিশু হিসেবে বিচার করা হয়। এই কারণে কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এখন সেভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এখন বর্তমানে আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়স পর্যন্ত বিচার পদ্ধতি, গ্রেফতার পদ্ধতি সব কিছু আলাদা। গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে প্রবেশন অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আবার মুশকিল হচ্ছে যে, বাংলাদেশে কোথায় কোন প্রবেশন অফিসার আছে আমরা জানি না। এই আইন বলবৎ করতে কত সংখ্যক অফিসার থাকতে হবে, বিস্তারিত বলা নেই।

এসব প্রবেশন অফিসাররা কাজ করে আবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমরা কাজ করি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। দু’টি ভিন্ন মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে সমন্বয়ের দরকার, আমরা সমন্বয়ের চেষ্টা করছি।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আইজিপি বলেন, যদি যথেষ্ট সংখ্যক প্রবেশন অফিসার না থাকে তাহলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সেই পরিমাণ প্রবেশন অফিসার নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। আবার বললেই কিন্তু নিয়োগ হয় না। এটা প্রাইভেট সেক্টর না। বর্তমানে সরকারিভাবে একজন পিয়ন নিয়োগ করতে হলেও ১৩ টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আর একধাপ যদি একমাস লাগে তাহলে ১৩ মাস। প্রচলিত পদ্ধিততে পিয়ন নিয়োগেও কোনোক্রমে দুই বছরের আগে আমাদের ক্ষমতা নেই। চাইলেও প্রবেশন অফিসার নিয়োগ হয়ে যাবে না।

বর্তমানে এসব চ্যালেঞ্জ আমাদের রয়েছে। বর্তমানে আইন অনুযায়ী একজন কিশোর অপরাধীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো যাবে না। পাঠাতে হবে কিশোর সংশোধানাগারে। আর সেগুলোর সংখ্যাও যথেষ্ট নয়। এখন বাংলাদেশে কত কিশোর অপরাধ বা অপরাধী আছে তাদের সংখ্য কত, কারেকশন সেন্টারের সংখ্যা কত, কার ক্যাপাসিটি কত এগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

নিজের সন্তানদের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, কিশোর ছেলে-মেয়েরা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে এখানে প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের বিষয়টাও রয়েছে। প্রতিটা পরিবারকে খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে এবং কী করছে। দেশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালের উন্নত ও ধনী বাংলাদেশের উপযোগী একটি জেনারেশন আমাদেরই তৈরি করতে হবে।

চলমান থাকবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা
র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে ছোটদের সঙ্গে বড়রাও থাকে। ছোট-বড় মিলে বিরোধ হয়, পরে আলাদা গ্রুপ সৃষ্টি হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি বা সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন আমাদের জন্য একটি অ্যাসেট। এই অ্যাসেট ধরে রাখতে পারলে সন্তানদের বিচ্যুতি থেকে ঠেকানো সম্ভব। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ার দায় সবার রয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে ধাবিত করতে সচেতনতা সৃষ্টিতেও তিনি আহ্বান জানান।

ডিজি বলেন, যেহেতু আমাদের সকলের দায় তাই আমরা চাই সকলে মিলে এই দায়বদ্ধতা থেকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকপথে পরিচালনা করতে পারি। আমরা যেন গর্ববোধ করতে পারি আমাদের সন্তানের জন্য সেইভাবেই তাকে গড়ে তুলতে হবে। উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সন্তানরা ভূমিকা রাখতে পারে এরকম দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই করোনা দুর্যোগেও জীবন এবং জীবিকার একটি সুষ্ঠু সমীকরণ রচনা করে আমরা উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখেছি। যে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখা হয়েছে সেই উন্নয়নের চাকাকে যেন কোন ক্রমেই কেউ যেন পিছনের দিকে ঠেলে দিতে না পারে সেদিকে সবার সতর্ক থাকার দরকার আছে।

যুব সমাজকে যদি ধ্বংস করা দেওয়া যায়, আমাদের এই শিশুদের যদি ধ্বংস করে দেওয়া যায় তাহলে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দেওয়া যাবে। যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমরা ২০৩০ সালে, ২০৪১ সালে। সে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। যদি আজকে আমাদের শিশুদেরকে সুপথে -সঠিকপথে পরিচালিত করতে আমরা ব্যর্থ হই, যোগ করেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

চৌধুরী মামুন বলেন, ‘কিশোর অপরাধীদের গ্রেফতার করলে প্রবেশন অফিসারের কাছে দিতে হয় উল্লেখ করে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে গ্রেফতারের পর প্রবেশন অফিসার পাওয়া অনেক কঠিন ও জটিল।’

কিশোর অপরাধ দমনে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে মানে এই নয়, আভিযানিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। যদি কেউ সচেতনতার মাধ্যমে সুপথে না আসে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা চলমান থাকবে, হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।

আশ্বাস দিতে হবে আমরা আছি তোমাদের পাশে
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, ‘সবার হোক একটাই পণ, কিশোর অপরাধ করবো দমন’ শীর্ষক টিভিসির মাধ্যমে শুরু হলো র‌্যাবের ‘কিশোর গ্যাং’ বিরোধী আনুষ্ঠানিক ক্যাম্পেইন।

‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের আকুন্ঠ সমর্থন, প্রেরণা ও ভালোবাসা নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার বজ্র কঠিন শপথ নিয়ে এগিয়ে চলছে র‌্যাব ফোর্সেস।’

তিনি বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানের মূল ফোকাস হচ্ছে কিশোর। এই কিশোর শব্দটা শোনার সাথে সাথেই আমাদের সবার মনে একটি প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। একদল তরুণ-তরুণী যারা হাস্যেজ্জ্বল, দুরন্ত, যারা জয় করতে পারে যেকোন বাঁধা, তাঁরা অজেয়।

আজকে আমরা ‘কিশোর গ্যাং’ কালচারের কথা বলছি। এটি মূলত আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমাদের কিশোররা বিদেশী কিছু অপসংস্কৃতি কিছুটা অনুসরণ করছে মাত্র। যা আমাদের পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতার জন্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৭ সালে উত্তরায় আদনান নামে একজন ছাত্রকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশে মূলত কিশোর গ্যাং আলোচনায় আসে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ এতে জড়িত অনেককেই আইনের আওতায় এনেছে র‌্যাব। কিশোর গ্যাং নামের এই অপসংস্কৃতি রোধকল্পে, এই সকল গ্যাং কালচারে জড়িত অনেক আসামিকে র‌্যাব ফোর্সের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গ্রেফতার করেছে। ফলে অনেকাংশেই বর্তমানে এই গ্যাং’কে অনুসরণ করা কিশোররা নিষ্ক্রিয় আছে।

তবে এটাকে এই মুহুর্তে একেবারেই শেষ বলা যাবে না। তাই র‌্যাব কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে বস্তুনিষ্ঠ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আজকের এই অবতারণা। আমরা চাচ্ছি আমাদের আভিযানিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন জনসচেতনতা ও বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছি।’

‘স্বাধীন বাংলাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের কোন অস্তিত্ব থাকবে না’ দৃঢ়কন্ঠে এমন উচ্চারণ করে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদ আরও বলেন, ‘গত মার্চ থেকে র‌্যাব ফোর্সেসের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন সারাদেশে অনেক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং বর্তমানেও অব্যাহত আছে। মার্চ থেকে এই পর্যন্ত ২৩৪ জনকে র‌্যাব বিভিন্নভাবে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।

আমরা মনে করি শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ নয়। আমরা তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে পরিবর্তন ঘটতে চাই। আমরা তাদের মধ্যে প্রবেশ করে কুলষিত যা আছে তা বের করে দিতে চাই। এজন্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি জনসমাজে যারা বসবাস করছি বয়োজ্যেষ্ঠ, শিক্ষক এবং আমাদের সমাজের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে এই পথ ভুল পথ। তাদের আশ্বাস দিতে হবে আমরা আছি তোমাদের পাশে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে