খুঁজুন
                               
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

কনস্টেবল পদে মেধাবীদের জয়জয়কার, প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছ নিয়োগ উপহার আইজিপির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
কনস্টেবল পদে মেধাবীদের জয়জয়কার, প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছ নিয়োগ উপহার আইজিপির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

কনস্টেবল নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে কলঙ্কে ক্ষত-বিক্ষত ছিলো পুলিশ। কোটা আর মোটা অংকের অর্থের লেনদেনই এতোদিন ছিল যোগ্যতার মাপকাঠি। তলানিতে গিয়ে ঠেকা পুলিশের এ ভাবমূর্তি উন্নয়নে নজর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যদের চাকরি নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিলেন।

আরও পড়ুন: আইজিপির অ্যাকশনে ভেস্তে যাচ্ছে তদবিরবাজদের মিশন

হ্যাট্টিক প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশে সততার শক্তিতে ভর করেই আইজিপি নিজের বাহিনীর এসপিদের শেখালেন পরিচ্ছন্ন নিয়োগের মন্ত্র। ঘুনে ধরা একটি ব্যবস্থাকে বদলে দিতে গ্রহণ করলেন কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে ৯ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগে এবারো দুর্নীতির কোন কালিমা লাগেনি।

যোগ্যতার বলেই কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন অতি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানরা। আর প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছ এমন নিয়োগ উপহার দিয়ে দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)।

জানতে চাইলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার) কালের আলোকে বলেন, সাধারণত দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করতে আসে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন যাতে এ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় থাকে। আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি। যার সুফল হিসেবেই যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিতে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে কঠোর আইজিপি, থাকছে নিজস্ব গোয়েন্দা টিম

নড়াইলের সাকিবুর রহমানের কথাই ধরা যাক না। তাঁর মা স্থানীয় বরাশুলা গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা ইয়াসমিন সদর চার রাস্তায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন। কোনদিনও ভাবেননি তাঁর ছেলে সাকিবুর রহমান ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি পাবেন। একই জেলার বেতবাড়িয়ার সুপ্তিকণা বিশ্বাসের বাবা ছমির বিশ্বাস স্থানীয় একটি কাঁচাবাজারে রুটি বিক্রি করতেন।

বাবা-মা দু’জনের স্বপ্ন ছিল মেয়ে একদিন পুলিশে চাকরি করবে। কোন রকম তদবির বা অর্থ ছাড়াই তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেয়ে। সুপ্তিকনা বিশ্বাস সেই কথা জানিয়ে কালের আলোকে বলেন, ‘এসপি স্যার ফরম কেনার ৩ টাকা নেননি। অর্থাৎ, আমার চাকরি হয়েছে সরকারি কোষাগারে মাত্র ১০০ টাকা জমা দিয়ে। ঘুষ ছাড়াই চাকরি হয় এটা ভেবেই মা দুর্গা বিশ্বাস কেঁদেছেন অঝোরে।’

লতা খাতুন ও প্রিয়া খাতুনের চাকরি হয়েছে পুলিশে। অথচ ওদের মামা-চাচার জোর নেই। জো নেই কোন তদবির করারও। টাকা দেওয়ার জন্য বিক্রি করার মতো জমিজিরাত নেই। আর এসব হবেই বা কী করে? মেহেরপুরের মুজিবনগর সরকারি শিশু পরিবারে ওরা বেড়ে উঠেছেন। নিজের মেধার গরিমায় বিজয় বৈজয়ন্তী উড়িয়েছেন। তাদের খুশিতে হেসে উঠেছে পুরো শিশু পরিবার।

আরও পড়ুন: স্বচ্ছ ও মেধানির্ভর নিয়োগ চান আইজিপি, আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন এসপিরাও

সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা কিংবা ভাত জোটাতেই কষ্ট এমন বেশিরভাগ পরিবারের মেধাবী সদস্যদের মাঝেই এখন রাজ্যের সুখ। যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিতে পুলিশে চাকরি হওয়ায় এ আনন্দ অফুরন্ত। সময়ের গতিধারায় ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখরোচক কাহিনীও যেন অতীত!

আগে যেখানে তাঁরা শুনতেন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ঘুষ না দিলে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয় না এখন বাস্তবে ‘ঘুষ’ ছাড়াই নিজেদের চাকরি হয়েছে। তাঁরা হৃদয়ে বুনছেন নতুন স্বপ্ন। অঙ্গীকার করেছেন দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার।

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে ৯ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই বছরের পর বছর চলে আসা নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নন্দিত হয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যার নির্দেশেই ২০১৮ সালের মতোই এ নিয়োগেও ঘুষ লেনদেন বা উৎকোচ বন্ধ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেন পুলিশের সৎ ও পেশাদার এ সর্বোচ্চ কর্মকর্তা।

পুলিশ সদর দফতরের ৬৪ জেলায় একটি করে উচ্চপর্যায়ের টিম, পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট ও রেঞ্জ ডিআইজির নজরদারি কমিটি, পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একজন পুলিশ সুপার (এসপি) ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে বিশেষ টিম সবকিছু মিলিয়ে দুর্নীতির ‘কালোব্যাধি’ দূর করতে পুলিশের আইজির এসব পদক্ষেপই মূলত প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যদের চাকরি নিশ্চিত করে।

ঘুনে ধরা একটি ব্যবস্থাকে আমুল পাল্টে দিয়েছেন আইজিপি
পুলিশ প্রধানের ‘ফলোআপ অ্যাকশনে’ প্রবল ত্রাসের সঞ্চার হয় জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝেও। ত্রাহি ত্রাহি রব উঠে পাতি নেতা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের দূয়ারে! নিজের একাগ্রতা আর সাহস দিয়ে যে ঘুনে ধরা একটি ব্যবস্থাকে আমুল পাল্টে দেওয়া যায় এবং স্বচ্ছ আর নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় আবারো সেটি প্রমাণ করেছেন পুলিশের এ আইজি।

শুধু তাই নয়, তদবির বা চাপের মুখেও নীতিতে অটল থাকতে ‘নিয়োগকর্তা’ জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) মন্ত্র শিখিয়েছেন। নানা হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপের বার্তা পৌঁছে আইজিপি জানিয়ে দিয়েছিলেন পুলিশে চাকরির যোগ্যতাই হবে মেধা। যোগ্যরাই এখানে চাকরি পাবেন।

ফলে দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়তে বাহিনীর প্রধানের নির্দেশে জেলায় জেলায় প্রবল ঝাঁকি দিয়ে দেন এসপিরাও। তাঁরাই নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশ প্রধানের ‘শুন্য সহিষ্ণুতা’ নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘুষ ছাড়া চাকরির মতো অকল্পনীয়, অচিন্তনীয় ও অভাবনীয় চমক উপহার দিয়ে দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন।

জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মঈনুর রহমান চৌধুরী কালের আলোকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আইজিপি চেয়েছিলেন স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ। আমরা সেক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে।’

যোগ্য ও মেধাবীদের চাকরির যত উদাহরণ
মা হাজেরা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। বাবা জবদুল প্রামাণিক থেকেও নেই। পুলিশে আবেদনের জন্য তিন টাকা ফরমের মূল্য আর সরকার নির্ধারত পরীক্ষা ফি বাবদ ১০০ টাকা দিয়েছেন বোনের স্বামী। এরপর শারীরিক পরীক্ষার দিনে খরচা বাবদ ২০০ টাকা দিয়েছিলেন মা। সেই টাকায় যেন তাঁর জন্য হয়েছে আশীর্বাদ।

দারিদ্র্যের অন্ধকার গড়ে বেড়ে উঠা সাদিয়া সুলতানা এখন বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য। ঘুষ, তদবির বা সুপারিশ ছাড়া কেবলমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠিতেই তাঁর চাকরি নিশ্চিত হয়েছে।

জানতে চাইলে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল্লাহ আল মামুন কালের আলোকে জানান, আমার জেলায় নিয়োগ পাওয়া ৬৯ জনের বেশিরভাগই দরিদ্র পরিবারের। মাননীয় আইজিপি স্যারের কঠোর নির্দেশনা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। যোগ্যরাই চাকরি পেয়েছে।

পরিবারের দু:খ ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে পড়াশুনা করেছেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আরপি আক্তার। অটো রিকশা চালিয়ে নিজে, চার মেয়ে ও স্ত্রী’র ভরণপোষণ করা বাবা বাদশা কাজীর জন্য চরম কষ্টসাধ্য। এর মধ্যে একমাত্র আশার আলো এ মেয়েটি। তাঁর চাকরিতে সারা বাড়িতে অন্য রকম এক আনন্দ আবহ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে কাঁচামালের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন একই জেলার স্থানীয় কল্যান্দী গ্রামের শাহবুদ্দিন গাজী। তাঁর তিন সন্তানের একজন শাহনাজ আক্তার সম্প্রতি কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন। দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন শাহবুদ্দিন।

এ দু’টি কেস স্টাডি পুলিশ প্রধান ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর নিজের জেলা চাঁদপুরের। এসব বিষয়ে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির কালের আলোকে বলেন, ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ১০৩ টাকার বিনিময়ে চাঁদপুর জেলায় ১১৫ জনকে কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কথা দিয়েছিলাম। মাননীয় আইজিপি সাহস জুগিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখার চেষ্টা করেছি।’

মেধায় চাকরি হয় না এমনটিই বিশ্বাস করতেন মানিকগঞ্জের বকুল আক্তার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী বড় বোনের বাসায় থেকে পড়াশুনা করছেন। পুলিশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেই বাজিমাত করেছেন। ঘুষ ও তদবির ছাড়া কেবল মেধার জোরেই চাকরি হয়েছে তাঁর। জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রিফাত রহমান শামীম জানান, বকুল আক্তারের মতো বেশিরভাগ নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যরাই পুলিশে চাকরি পেয়েছেন।

নরসিংদীর সেই জান্নাতি আক্তারের কথা মনে আছে? মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় মাস তিনেক আগে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্থানীয় হাজীপুরের দশম শ্রেণীর ওই স্কুলছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ৪০ দিন দগ্ধ যন্ত্রণায় কাতরানোর পর গত ৩০ মে না ফেরার দেশে চলে যান।

সেই জান্নাতির বড় ভাই সাইফুল খান পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। তাঁর পরিবারে এখন আনন্দের বন্যা। বিনা পয়সায় চাকরি পেয়ে এখন দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান সাইফুল।

জানতে চাইলে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জান্নাতির ভাই সাইফুল তার মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁর মতোই সবাই শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন।

লালমনিরহাট জেলা শহরের খোচাবাড়ি এলাকার দিনমজুর আনোয়ার হোসাইনের ছেলে মনিরুল ইসলাম। যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে এমন মাইকিং শুনে চাকরির আবেদন করেন। পুলিশ কনস্টেবল পদে শারীরিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

দারিদ্র্য জর্জর পরিবারের এ সদস্য এখন নিজেদের ভাঙাঘরে চাঁদের আলো। জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম রশিদুল হক বলেন, পুলিশে চাকরি লাখ লাখ টাকার খেলার দিন শেষ। এবারের নিয়োগ তাঁরই একটি দৃষ্টান্ত।

পিরোজপুুরে কোনো ঘুষ না দিয়ে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন শাহজালাল শান্ত, আয়শা ও শ্রবণি ইসলাম। মেধার গরিমায় পুলিশ কনস্টেবল চাকরি নামের ‘সোনার হরিণ’ জুটেছে আয়শা ও শ্রবণিদের মতো ৩৩ জনের ভাগ্যে। তাদের বেশিরভাগই কৃষক এবং দরিদ্র পরিবারের। ঘুষ ছাড়া চাকরির যে দৃষ্টান্ত গোটা দেশে চলছে তাঁর আরেকটি উদাহরণ তৈরি করেছেন পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হায়াতুল ইসলাম খান।

এ বিষয়ে এ এসপি জানান, আমারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছি। এতে সাধারণ মানুষ খুশি। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের হাটবাড়ীয়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম। ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবা খোকন শেখ রাজধানী ঢাকার সাভার এলাকায় রিকশা চালান। ৫ সদস্যের ভারী সংসার চালানো তাঁর জন্য নিদারুণ কষ্টের। জীবনে চলার পথে তাকে দিশা দিয়েছে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার (এসপি) আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আইজিপি মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা ছিল পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগে সংসদ সদস্যসহ কারো তদবির না শোনতে। সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলেই যোগ্য ও মেধাবীদের চাকরি হয়েছে।

মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান কালের আলোকে বলেন, ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় কীনা তা আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ও আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশ আমরা সুচারুরূপে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এখন থেকে যোগ্য ও মেধাবীরা পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে আসবে।

নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন কালের আলোকে বলেন, ‘এবারের পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ ইতিহাস হয়ে থাকবে। মাননীয় পুলিশ প্রধান সব সময়ই আমাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। কোন রকম টাকা ছাড়াই নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যরা ঘুষ, দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকেই দেশের জন্য কাজ করবেন। জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ‘জনবান্ধব’ পুলিশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন
পুলিশ সম্পর্কে চিরায়ত ধারণাকে বিচূর্ণ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অসীম প্রাণশক্তি নিয়ে অভিনব গতি এবং সীমাহীন দু:সাহস নিয়ে কাজ করছেন পুলিশের আইজি ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের অনেক সুকৃতি জনগণের সামনে সমাদৃত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিটি শাখার ওপর তিনি কঠোর নজরদারি শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপারস্নেহ এবং আশীর্বাদ তাকে শক্তি জুগিয়েছে।

এতে করে চিহ্নিত ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সৎ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পুলিশ প্রধান এবারের কনস্টেবল নিয়োগেও ‘শুন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি ঘোষণা করেন। এ নিয়োগে দুর্নীতির কোন কালিমা চাননি তিনি।

এজন্য শুরু থেকেই কেবলমাত্র নির্দেশনা দিয়েই দায় এড়াননি পুরো নিয়োগের বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে কয়েক স্তরে নজরদারিও করেছেন। এর মাধ্যমে নিয়োগের অধিকর্তারাও হিসাব কষে পথ চলছেন।

তাঁর এসব দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেশের সাধারণ মানুষকে আশান্বিত করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ একটি মাইলফলক অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য হচ্ছে- এমনটি সম্ভব হলেই কেবলমাত্র পূরণ হবে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জনবান্ধব’ পুলিশের স্বপ্ন।

কালের আলো/এইকেআ/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে