খুঁজুন
                               
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

কনস্টেবল নিয়োগে স্বচ্ছতায় তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তায় প্রধানমন্ত্রী, টিমওয়ার্কে সফল আইজিপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
কনস্টেবল নিয়োগে স্বচ্ছতায় তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তায় প্রধানমন্ত্রী, টিমওয়ার্কে সফল আইজিপি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :  

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নিয়ে এতোদিন কথা উঠলেই শ্লেষ ও বিদ্রুপাত্মক উপমার কোন শেষ ছিল না। প্রতিবারই দায়িত্বশীলদের স্বপ্রণোদিত অন্ধত্ব ও উদাসীনতায় এ কনস্টেবল নিয়োগে দুর্নীতির কলঙ্ক কালিমা লেপে যাওয়ায় বঞ্চিত হতে হয়েছে যোগ্য ও মেধাবীদের। ফলে এ পরিস্থিতি উত্তরণের পাশাপাশি নীতিহীনতার মূলোৎপাটনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন: কনস্টেবল পদে মেধাবীদের জয়জয়কার, প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছ নিয়োগ উপহার আইজিপির

বঙ্গবন্ধু কন্যার কঠোর নির্দেশে গতবারের মতো এবারো পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগকে ঘিরে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা দুর্নীতির লাগাম শক্ত হাতে টেনে ধরেন বাহিনীর প্রধান ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)। স্বয়ং পুলিশের আইজির কঠোর তৎপরতায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় গত ২২ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ৯ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল।

এবারের নজিরবিহীন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের খবর এখন দেশের মানুষের মুখে মুখে। অর্থ বা তদবির নয়, মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে কে কতটুকু স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল নিয়োগ উপহার দিতে পারেন এ নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) মধ্যে।

আরও পড়ুন: আইজিপির অ্যাকশনে ভেস্তে যাচ্ছে তদবিরবাজদের মিশন

জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতি বিরোধী মূল্যবোধ জেগে উঠায় বন্ধ হয়ে যায় কয়েকশ’ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য। আর দুর্নীতি দমনে সময়োপযোগী এমন পদক্ষেপে তুঙ্গস্পর্শী, বিরল ও অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উজ্জ্বল হয়েছে সরকারের ভাবমূর্তিও।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ও শ্বাশত চেতনায় জ্ঞানালোকিত এ প্রজন্মের দারিদ্র্য জর্জর জীবনে নতুন স্বপ্নযাত্রায় দু:খের গভীর-গহন থেকে আবিষ্কার হয়েছে অনাবিল উচ্ছ্বাস! মূলত টিমওয়ার্কের মাধ্যমেই কনস্টেবল নিয়োগে পুলিশের চিরায়ত ভাবমূর্তি সংকটই কাটিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করতে সক্ষম হয়েছেন পুলিশ প্রধান ড.জাবেদ পাটোয়ারী।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে শুরু থেকেই কঠোর ছিলেন ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। গত ১২ জুন পুলিশ সদর দপ্তরের ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় এ বিষয়ে ডিআইজি ও এসপিদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।  

আরও পড়ুন: পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে কঠোর আইজিপি, থাকছে নিজস্ব গোয়েন্দা টিম

নিয়োগ শুরুর দুই দিন আগে আবারো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রত্যেক জেলার এসপিদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নির্দেশনার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে স্রোতের প্রতিকূলের এ যুদ্ধ জয়ের জন্য নানা কৌশল ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সৎ ও ঝানু পুলিশের এ সর্বোচ্চ কর্মকর্তা।

নিয়োগের শুরুতেই পুলিশ সদর দফতর থেকে ৬৪ জেলায় একটি করে উচ্চপর্যায়ের টিম পাঠানো হয়। ছিল পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট ও রেঞ্জ ডিআইজির নজরদারি কমিটি।

পুলিশ সদরদপ্তর থেকে একজন পুলিশ সুপার (এসপি) ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে বিশেষ টিম ও সদর দফতরের মিডিয়া শাখার মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় গঠন করা কমিটিও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া উপহারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম), ডিআইজি (এইচআরএম) ও এআইজি (আরএন্ডসিপি-২)।

আরও পড়ুন: স্বচ্ছ ও মেধানির্ভর নিয়োগ চান আইজিপি, আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন এসপিরাও

জানা যায়, সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সব সময়ই পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছর পুলিশ সপ্তাহে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশ প্রধানকে। কনস্টেবল নিয়োগ শুরুর আগেও পুলিশ প্রধানকে ডেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে আগেই অ্যাকশন শুরু করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী। জঙ্গি নির্মূলের মতো মাদক ব্যবসায়ীদেরও সমূলে উৎপাটনের লক্ষে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে তাঁর নেতৃত্বাধীন পুলিশ।

এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধেও দিনবদলের পালায় পুলিশকে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান। প্রধানমন্ত্রীর আপত্য স্নেহ আর সততার শক্তিতেই পুলিশ প্রধান এ স্বপ্ন সফলভাবে বাস্তবায়নও করেন।

এবার তাঁর নির্দেশেই জেলায় জেলায় এসপিরা পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে বাড়তি কোন টাকার প্রয়োজন পড়ে না, দালালদের কাছে প্রতারিত হবেন না এমন ব্যাপক ভিত্তিক প্রচারণা চালায়। এতে উৎসাহিত হয়েই গতবারের চেয়ে এবার চাকরি প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ৫৫ হাজার ৪০৩ জন।

একই সূত্র জানায়, শুধু তাই নয়, এবার প্রতিটি জেলাতেই পুলিশ সুপাররা (এসপি) আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে চাকরির জন্য মনোনীত প্রার্থীদের মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করেছেন।

দারিদ্র্যের অন্ধকার ঘর থেকে উঠা আসা আলোকিত এসব মেধাবী তরুণ-তরুণীরা নিজেরাও গর্বের সঙ্গেই উচ্চারণ করেছেন বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি।

তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তাদের সৌভাগ্যবান অভিভাবকরাও। সবার চোখ থেকেই ঝরেছে আনন্দাশ্রু। চাকরি জীবনে নিজেরা ঘুষ বর্জনের যেমন অঙ্গীকার করেছেন তেমনি দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গ করারও কথা বলেছেন।

পুলিশের প্রথা বিরোধী এমন দৃষ্টান্ত দেশের গণমাধ্যমগুলোতেও গুরুত্ব দিয়েই প্রকাশিত হয়েছে। নিত্যদিনই পজেটিভ শিরোনাম হয়েছে পুলিশ।

সূত্র মতে, পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নয়নের সূচনা শুরু হয়েছে আইজিপি ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর হাত ধরেই। পুলিশ প্রধানের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বেই ক্রমশ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে পুলিশ। এবারের পুলিশ কনস্টেবল পদে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ কার্যত পুলিশের অগ্রগমনেরই অঙ্গীকারধ্বনি।

এ আইজিপির নেতৃত্বেই বাংলাদেশ পুলিশ সবক্ষেত্রেই পুরোপুরি দুর্নীতির কলঙ্কমুক্ত হতে পারবে এমন বিশ্বাসও অর্জিত হয়েছে জনমনে।  

একই সূত্র বলছে, মানুষকে বিপদগ্রস্ত বা জিম্মি করে অর্থ উপার্জনের জঘন্য মানসিকতার অধিকারী পুলিশকে আর দেখতে চান না আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী। ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা বৈষয়িক চিন্তাকে জলাঞ্জলী দিয়ে তিনি নেতৃত্বে শতভাগ সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশকে দুর্নীতির কলঙ্ক-কালিমা মুক্ত করতে ধাপে ধাপে প্রয়াস নিয়েছেন।

এক্ষেত্রে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতি ও আদর্শে অবিচল পর্বতের মতোন। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসের অন্তর্মূলে অনন্য ও অতুলনীয় কান্ডারী হিসেবে সততার প্রতীক হয়েই থাকবেন পুলিশের এ আইজি মত সদর দপ্তরের উচ্চ ও মধ্যম সারির একাধিক কর্মকর্তার।  

কী বলছেন আইজিপি?
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি করা এবারের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে এমন কৃতিত্বের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কালের আলোকে তিনি বলেন, কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এক্ষেত্রে দেশের সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও সার্বিক সহায়তা ছিল। সব জেলার জনপ্রতিনিধি ও এসপিদের প্রগাঢ় সহায়তার ফলেই বিতর্কমুক্ত একটি নিয়োগ উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় এসপিরা
৬৪ জেলায় নিজেদের মধ্যে এক প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন জেলা পুলিশ সুপাররা (এসপি)। তুমুল এ প্রতিযোগিতায় যেন কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান। প্রত্যেকেই নিজেদের সততা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ফলে চাকরি নিশ্চিত হয়েছে সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মেধাবী সন্তানদের। এ যেন বদলে যাওয়া এক পুলিশেরই প্রতিচ্ছবি।

যশোরের কেশবপুরের গৌরিঘোনা গ্রামের হাবিবুল বাশার সুমনের কথাই ধরা যাক না। খুলনা বিএল কলেজে অনার্স পড়ুয়া এ শিক্ষার্থী নিজের লেখাপড়া ও জীবিকার তাগিদে মাসের ১৫ দিন রাজমিস্ত্রির জোগালের কাজ করতেন। এখন পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। আবেগে আপ্লুত সুমন বলেন, মাত্র ১০৩ টাকা খরচে পুলিশে চাকরি পেয়েছি। আর বাড়তি কোন টাকা লাগেনি। স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হয়েছে বলেই চাকরি হয়েছে।

অভয়নগরের মুসলিমা খাতুন, কেশবপুরের মরিয়ম, মণিরামপুরের রুমা ও বাঘারপাড়ার সাইফুর রহমানসহ প্রায় সবাই একবাক্যে বলেছেন, ‘আমারা ভাবতেই পারিনি ঘুষ ছাড়াই পুলিশে চাকরি হয়।’

জানতে চাইলে যশোর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হক কালের আলোকে বলেন, ‘মাননীয় পুলিশ প্রধানের কঠোর নির্দেশনায় শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যশোর জেলায় ১০৩ টাকায় ১৯৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক, ভ্যানচালক, নরসুন্দরসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সন্তান। ইতোপূর্বে নারায়নগঞ্জেও আমি এভাবে পুলিশে নিয়োগ দিয়েছি।’  

রিকশা চালকের মেয়ে সুমি ও এতিম কাজলের মতোই ময়মনসিংহে মোট ২৫৭ জন তরুণ-তরুণী মেধা ও যোগ্যতায় মাত্র ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন কালের আলোকে জানান, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নজিরবিহীন ঘটনা।

মাননীয় প্রধামন্ত্রীর নির্দেশে আইজিপি মহোদয় শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে এ নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।’

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দক্ষিণ নাগরপুর এলাকার কৃষক পরিবারের বন্যা আক্তার। অভাবের সংসারের হাল ধরার মতো নেই কেউ। বন্যার স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরির। কিন্তু অভাবের সংসারে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়ার মতো সেই সামর্থ্য ছিল না তাঁর। ঘুষবিহীন পুলিশী চাকরির প্রচারণা দেখে স্বপ্নপূরণের আবেদন করেই বাজিমাত। চাকরি হয়েছে। বন্যার মতোই মাত্র ১০৩ টাকায় এভাবেই চাকরি হয়েছে আরো ১৩৫ জনের।

পুলিশ কীভাবে এমন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্চিত কুমার রায় কালের আলোকে বলেন, অনেক চাপ ছিল। কিন্তু কোন চাপের কাছে আমরা মাথানত করিনি। মাননীয় আইজিপি মহোদয় আমাদের সাহস জুগিয়েছেন। ফলে স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রকৃত মেধাবীরাই চাকরি পেয়েছে।’

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ইউসুফ আলী। বাবা মোখলেছ দিনমজুর। বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরির প্রচারণায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে আবেদন করেন। অবশেষে তিনি পেয়েছেন চাকরির নামের ‘সোনার হরিণ’। উচ্ছ্বসিত ইউসুফ আলী কালের আলোকে বলেন, ‘আমার একটা চাকরির খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ঘুষ ছাড়া কোথায় চাকরি পাবো, এমন চিন্তা মাথা থেকে দূর হচ্ছিল না। ব্যাংক ড্রাফট ও ফরমের ১০৩ টাকা খরচায় নিজের যোগ্যতাতেই চাকরি পেয়েছি।’

ঘুষ বা তদবির ছাড়াই সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এ জেলায় ২৩৯ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার রাবেয়া, শিবগঞ্জ উপজেলার শামীম, এরশাদুল, দুপচাঁচিয়া উপজেলার রিফাহ হোসেন, বগুড়া সদর উপজেলার বিথি খাতুনসহ অনেকেই ঘুষ ছাড়াই চাকরি পেয়েছেন। গতবারও একই রকম চমক তৈরি করেছিলেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভূঞা।

এ বিষয়ে কালের আলোকে এ এসপি বলেন, ‘মাননীয় আইজিপির কঠোর নির্দেশনায় কনস্টেবল নিয়োগে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়োগ পরীক্ষার আগে থেকে আমরা সতর্ক ছিলাম। দালালরা যাতে প্রার্থীদের প্রতারিত করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করেছে। ফলে প্রত্যেকেই নিজ নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে।’

কোন লেনদেন ছাড়াই মেধার দৌলতেই ৭৫ জন তরুণ-তরুণীকে বেছে নিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাত কালের আলোকে বলেন, ‘আমার চ্যালেঞ্জ ছিল ঘুষ ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা সফল হয়েছি। মাননীয় পুলিশ প্রধানের নির্দেশনাই আমাদের সফলতা অর্জনে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।’

নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল্লাহ আল মামুন কালের আলোকে বলেন, ‘মাননীয় আইজিপি মহোদয়ের কঠোর নির্দেশনা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমার জেলায় নিয়োগ পাওয়া ৬৯ জনের বেশিরভাগই দরিদ্র পরিবারের। যোগ্য হিসেবেই তাঁরা চাকরি পেয়েছে।’

নজিরবিহীন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে বলে মনে করেন নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। কালের আলোকে তিনি বলেন, ‘মাননীয় আইজিপি’র দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে পুলিশকে বদলে দিচ্ছেন। কোন রকম টাকা ছাড়াই নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যরা ঘুষ, দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকেই দেশের জন্যই নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করবেন।’  

অ্যাকশন শুরু টাঙ্গাইলে, সর্বোচ্চ মামলা বগুড়ায়
পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘুষ লেনদেনের চেষ্টাসহ নানা অভিযোগে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, কুষ্টিয়া, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় দায়ের করা ১৮টি মামলায় ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় ৫ টি মামলা করা হয়। খুলনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে হয়েছে দু’টি করে মামলা। অন্য জেলায় একটি করে।

কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে এবারই প্রথমবারের বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও পুলিশের বিভিন্ন কার্যালয়ে কর্মরত সিভিল স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টিও নজিরবিহীন। বিশেষ করে গত ২১ জুন টাঙ্গাইলে কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের এসআই মোহাম্মদ আলী এবং কথিত সাংবাদিকের স্ত্রী শাহানাতুল আরেফিন সুমিকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়ে কনস্টেবল নিয়োগে দুর্নীতি ঠেকাতে প্রথম পুলিশী অ্যাকশন দৃশ্যমান হয়।

রেহাই পাননি এসপিও, বদলি ও প্রত্যাহার শতাধিক
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগ-বাণিজ্যের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক পুলিশ সদস্যের সংশ্নিষ্টতার অভিযোগ উঠে। তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি ও প্রত্যাহারও করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে।

মাদারীপুরে রেহাই পাননি স্বয়ং কনস্টেবল নিয়োগে ‘নিয়োগকর্তা’ পুলিশ সুপার (এসপি) সুব্রত কুমার হালদারও। গত ২৪ জুন তাঁর দেহরক্ষী কনস্টেবল নুরুজ্জামান সুমনকে ঘুষ গ্রহণের নগদ টাকাসহ আটক করে পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ টিম।

এছাড়া পুলিশ লাইনের মেস ম্যানেজার জাহিদ হোসেন, টিএসআই গোলাম রহমান ও পুলিশ হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী পিয়াস বালার কাছ থেকেও ঘুষের ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ওই এসপি’র সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় কনস্টেবল নিয়োগে নজরদারি চালানো পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ টিম।

কালের আলো/এইকেআ/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে