খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩
           

আইজিপির স্মৃতির জানালায় স্কুলজীবন, উজ্জ্বলতর আলোকে উদ্ভাসিত ‘মানবিক পুলিশ’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
আইজিপির স্মৃতির জানালায় স্কুলজীবন, উজ্জ্বলতর আলোকে উদ্ভাসিত ‘মানবিক পুলিশ’

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

একে তিনি পুলিশ প্রধান। নিজের গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও মননশীলতার আলোকে বাস্তবধর্মী কথা বলেন বরাবরই। আত্মার স্পন্দন ছোঁয়া কথামালায় নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগিয়ে তোলার সম্মোহনী প্রণোদনা দিতে পারেন। নিয়মতান্ত্রিকতার অক্ষরে পরিপূর্ণ থেকে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হতে বললেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)।

মাদক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকার নেশা যে একই; চরম অভিনব চমকের মাধ্যমে সে কথাই যেমন তিনি বুঝিয়ে দিতে পারেন তেমনি চমৎকার রূপক আর চিত্রকল্প দিয়ে নিজের স্কুল জীবনের সময়কার চাঁদপুর আর হাল সময়ের চাঁদপুরের জনপদের পার্থক্য, জীবনমানের পরিবর্তনও তুলে আনতে পারেন অকল্পনীয় সৃজনী ক্ষমতায়।

জীবন গড়ার পাঠ নিয়েছেন যে বিদ্যালয় থেকে সেই বিদ্যালয়ের ১২০ বছর পূর্তির উদ্বোধন করে শীত বিকেলের মিঠে রোদে স্মৃতির জানালা খুলে মাতিয়ে দিতে পারেন অনায়াসেই। প্রতিটি আখ্যানের ভাঁজে ভাঁজে বাস্তবধর্মী উদাহরণ টানতে পারেন।

আবার মানবিকতা, নৈতিক স্বাতন্ত্রিকতার অমল মাত্রায় অসুস্থ সামাজিকতার অচলায়তন ভেঙে মুক্তির দূয়ারে যেন কড়া নাড়াতে পারেন। নিজের বাহিনী পুলিশকে নিয়ে স্বপ্ন ও অধিকারের পদাবলী উচ্চারণ করতে পারেন। জাগ্রত চৈতন্যে আত্মবিকাশের অপরাজেয় প্রতীতি ও প্রত্যয়ে উজ্জীবিত করতে পারেন দেশপ্রেমিক বাহিনীকে।

বঙ্গবন্ধুর মানবিক পুলিশের স্বপ্ন উজ্বলতর আলোকে জাতির মানসে উদ্ভাসিত এই বার্তাও দিতে পারেন এ পুলিশ মহাপরিদর্শক। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন- ‘থানা হবে সেবার কেন্দ্রবিন্দু, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা’।

সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমেই পুলিশ দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করবে, প্রমাণ করবে পুলিশ জনগণের বন্ধু। পরিশ্রম, সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, ধৈর্য্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ‘গাইড লাইন’ দেওয়া পুলিশের এ সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে নিয়ে তাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নিজ জেলার নেতারাও।

চাঁদপুরের বাবুরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ১০ যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে গত শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) এমনভাবেই নিজেকে সমর্পণ করেন বিদ্যালয়টির সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী ও শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত বাহিনীটির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

কী ছিল আইজিপির বক্তব্য?
জীবন-নদীর বাঁকে বাঁকে কর্ম ও কীর্তিতে গোটা দেশকে আলোকিত করেছেন ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তেমনি এ উচ্চবিদ্যালয়টিও এগিয়ে যাচ্ছে সামনে, বড় গৌরবে মাথা উঁচু করে। ১৯৭৬ সালে এ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেছেন। বিদ্যালয় জীবনের বিচিত্র প্রতিচ্ছবিতে কখনও স্বপ্নিল, কখনও ধূসর, কখনও রঙিন স্বপ্নগুলো হয়তো এ পুলিশ প্রধানের মনের জানালায় উঁকি দেয়।

নিজের বক্তব্যের শুরুতেই আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিজয়ের বৈজয়ন্তী ওড়ানোর মাসে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন ইতিহাসের মহানায়ককে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে অনন্য সাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে আমাদেরকে এই বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডটি উপহার দিয়েছেন।

‘উপহার দিয়েছেন আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। আমি নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে গৌরবান্বিত বোধ করি। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ অবিচ্ছেদ্য ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজারবাগে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে পুলিশ।’

নিজের শৈশব স্কুলজীবনের স্মৃতিতে আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘বাবুরহাট স্কুল ও পুরো চাঁদপুরই বদলে গেছে। আজকে ঢাকা থেকে চাঁদপুর আসতে আমার দুই ঘণ্টারও কম সময় লেগেছে। আমি আসতে আসতেই চিন্তা করছিলাম এক সময় ঢাকা থেকে চাদঁপুর যেতে দীর্ঘ সময় লাগতো। সকালে রওনা দিলে আমরা বিকেলে বা সন্ধ্যায় গিয়ে পৌঁছতাম। এর মধ্যে রাস্তায় তিনটি ফেরি পড়তো এবং সারাদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হতো ফেরি পারাপারের জন্য। আর এখন কী অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে এই কয়েক বছরের মধ্যে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘উন্নয়নের ম্যাজিশিয়ান’ উল্লেখ করে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে আমূল বদলে দিয়েছেন। আমাদের গ্রামে-গঞ্জে প্রত্যেকটি বাড়িতে আগে সারাদিন কেউ না কেউ আসতো ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে। মাগো কিছু দেন। হাত পাততো। মাকে দেখতাম কিছু চাল রাখতেন এদের জন্য। কিন্তু আজকে কোথাও দেখবেন না কোন বাড়িতে কেউ এসে চাল ভিক্ষা চায়।’

‘আমার মনে আছে আমাদের বাড়ি বেশি দূরে নয়। মেইন রোড থেকে ডাকতে হতো এই কে আছো নৌকা নিয়ে আসো। আর আজকে আমাদের ঘরের উঠোনে গাড়ি ডুকে যাচ্ছে। এই যে পরিবর্তন নিজের চোখে দেখেছি। আপনারও যারা আছেন চোখের সামনে পরিবর্তনগুলো দেখেছেন। বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়কে। ভিশন ২০২১, ২০৩১, ২০৪১ নয় শুধু, আছে শতবর্ষব্যাপী ডেল্টা প্ল্যান। যে স্বপ্ন আমাদের দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সেই স্বপ্ন আর স্বপ্ন নয়; এই স্বপ্ন এখন অতি বাস্তব।’

মাদক থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে এবং অপরকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকারও করান আইজিপি। তিনি বলেন, ‘মাদক এমন একটি মরণনেশা যা শুধু একটি ব্যক্তিকে নয়, সে পরিবারকে সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক থেকে সবাই নিজেকে দূরে রাখবো এ হোক অঙ্গীকার। আমরা জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। জঙ্গিবাদে জড়িত না হওয়ার জন্য আমাদের যারা শিক্ষার্থী রয়েছো তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান- জঙ্গিবাদ একটি ভুল মতবাদ যা সমাজকে শুধু নয়; দেশকে কীভাবে ডুবিয়ে দিয়েছিল। তোমরা নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি ২০১৬ সালের সেই হলি আর্টিজানের ঘটনা।’

‘একটি ঘটনার জন্যে বাংলাদেশকে অনেক ভুগতে হয়েছে। জঙ্গিবাদের যে ছোবল থেকে এখন আমরা অনেকটাই মুক্ত হয়েছি। আমরা আশা করবো আমাদের সন্তানদের জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য আমরা সচেষ্ট থাকবো। আমাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, স্কুলে, কলেজে গিয়ে কার সাথে মিশছে, বন্ধুবান্ধব কারা এগুলোর খোঁজখবর আমাদের সকলেরই রাখতে হবে,’ যোগ করেন পুলিশ প্রধান।

স্যোশাল মিডিয়ার নেশায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমান প্রজন্মকে সারাদিন ঘাড় গুঁজে থাকার নেশা পেয়ে বসেছে- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ প্রজন্মের নামকরণ করা হয়েছে, ট্রিপল জি। অর্থাৎ, ঘাড় গোঁজা জেনারেশন। সব ঘাড় গুঁজে শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা পুরো পৃথিবীকে দেখছিনা এখন। আমার পৃথিবীকে নিয়ে আসছি আমার মোবাইলের মধ্যে।

‘ঘরের মধ্যে যাও-বাবা ফেসবুকে, মা ফেসবুকে, ভাই-বোন সবাই ফেসবুকে। নিজেদের মধ্যে কোনো আলাপচারিতা নেই, কথাবার্তা নেই। দয়া করে এই নেশা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। এই নেশা এবং মাদকের নেশা কিন্তু একই নেশা। দুটো নেশাই কিন্তু। মাদক খেলে ব্রেনের যে পরিবর্তন আসে, এই ইন্টারনেট/মোবাইলের নেশা; এই নেশাটিও সেইম। যখন তাকে না দেওয়া হয়, ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখা হয়, তখন তার মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো আসে তা ঠিক মাদক না পেলে তার মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো আসে সেই একই পরিবর্তন। এর ভালো দিকগুলো অবশ্যই নিবো আমরা তবে এতে বুঁদ হয়ে থাকবো না। সারা দিনমান এই নেশাতে ডুবে থাকবো না,’ বলছিলেন আইজিপি।

গুজবের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে, ছেলে ধরা গুজবে নিরীহ কিছু প্রাণ আমরা হারাতে দেখেছিলাম। সেই সময়ে আমরাই বুঝানোর চেষ্টা করেছি এবং খুব সহসাই মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, এটি নিছকই গুজব। সুতরাং আপনার ফেসবুকে কোনো কিছু দেখার সময় যাচাই করবেন তারপরে যদি কাউকে পাঠাতে চান ফরওয়ার্ড করবেন তার আগে নয়। আপনারা দেখেছেন সেই কক্সবাজারের রামুতে কি হয়েছিলো, আপনারা দেখেছেন ক’দিন আগে ভোলাতে কি হয়েছে? কীভাবে গুজব একটি দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে?’

‘এই ফেসবুক, স্যোশাল মিডিয়াকে যেমন ভালো কাজেও ব্যবহার করা যায় তেমনি খারাপ কাজেও ব্যবহার করা যায়। সুতরাং যাচাই বাছাই করবেন তারপরে ফেসবুকে শেয়ার করবেন। নিজে আগে নিশ্চিত হবেন যে তথ্যটি আপনি পেয়েছেন এটি সঠিক কিনা। আপনি হয়তো ইনস্ট্যান্টলি শেয়ার করেছেন তাতে কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আপনিও কিন্তু আসামি হয়ে যাবেন।’

ভাল ফলাফলে সাফল্য আসে না, ভালো মানুষ হওয়াই জরুরি বলে মনে করেন আইজিপি। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি বলবো আপনার সন্তানকে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিন। ভালো মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করুন। আমরা পৃথিবী বিখ্যাত অনেককেই জানি যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। আমরা অনেককেই জানি যারা কলেজে পড়াশোনা করতে পারেননি। অনেককেই বিদ্যালয়ের পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি, কিন্তু তারা পৃথিবী বিখ্যাত। সুতরাং ভালো মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দিবেন। শুধুমাত্র জিপিএ ফাইভ পাওয়ার জন্য সন্তানকে সারাদিন পড়ানোর পরেও সন্তানের কোনো সময় নেই।

‘কিন্তু বাবা মা বলছে, সন্তান তো পড়ে না। অথচ এই সন্তানটির কিন্তু নিজের জন্য কোনো সময় বরাদ্দ নেই। স্কুল কোচিং করে করে সন্তানকে সারাক্ষণ শুধু পড়ো পড়ো না বলে, শুধু ক্লাসের বইয়ের বাইরেও যে পৃথিবী রয়েছে সেটি দেখার জন্যেও অনুপ্রাণিত করবেন। সার্বক্ষণিকভাবে আপনি যখন মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন তখন আপনার চিন্তা শক্তি খুব বেশি বিকশিত হয় না। বইয়ে একটি গল্প যখন পড়ি আমরা তখন সেই গল্পের দৃশ্যপট আমার চোখে ভেসে উঠে। বই মানুষকে অনেক কিছু দেয়, সুতরাং বই পড়তে উৎসাহিত করবেন।’

উদাহরণ টেনে ড. জাবেদ বলেন, ‘মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়েছিলেন তার সহপাঠী পরবর্তীতে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ তিনিও কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে যাওয়া একজন। বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন তিনিও কিন্তু খুব ভালো ছাত্র ছিলেন না। আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আপনারা জানেন তিনি আটবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। সুতরাং, সন্তানকে শেখান সে যেন হতোদ্যম না হয়। যাতে সে লেগে থাকে, লেগে থাকলে জয় একদিন হবেই।’

আবারও বাস্তবধর্মী উদাহারণে তিনি বলেন, ‘‘আমরা অনেকেই জ্যাক মার নাম শুনেছি। তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনলাইন শপ ‘আলিবাবা’র মালিক। তিনি স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে ৫ বার ফেল করেছিলেন। আমি এজন্য বলছি যে- শুধুমাত্র পড়াশোনা, পড়াশোনা, পড়াশোনা, জিপিএ ৫, জিপিএ ৫, জিপিএ ৫। এরকম চিন্তাভাবনা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’’

জনগণের পুলিশ, মানবিক পুলিশ
‘আমরা জনগণের পুলিশ হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি’ জানিয়ে পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘দুইবছর হলো আমি আইজিপির দায়িত্ব নিয়েছি। আমার দুইবছরের মধ্যে চেষ্টা ছিলো পুলিশকে জনগণের কাছে নিয়ে আসার জন্য। আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছি, থানা হবে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা। আমি জানি কেউ বিপদে পড়লে প্রথমেই থানায় যায়। আপনারা যেন সেই থানায় নির্বিঘ্নে যেতে
পারেন। সেজন্য আমার কঠোর নির্দেশনা আমার পুলিশ বাহিনীকে প্রতিনিয়ত দিয়ে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘থানায় কোনো সেবা নেওয়ার জন্য কোনো পয়সা লাগে না। যদি কখনও আপনাদের জিডি করতে, মামলা নিতে অথবা কোনো সেবাগ্রহণ করার জন্য কোনো পয়সা দিতে হয়, সেটি আমাদের তাৎক্ষণিক জানাবেন। আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তারা আছেন, এসপি আছেন। এসপিসহ, ডিআইজিসহ যারা যারা আমরা উপরে আছি সবাইকেই আপনারা যেকোনো মুহূর্তে জানাতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন আমরা বদলে যেতে চাই, বদলে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষের কাতারে এসে মানবিক পুলিশ হওয়ার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে। আগামী বছর থেকে শুরু হচ্ছে মুজিববর্ষ। আমরা মুজিববর্ষের যে রকম অঙ্গীকার করেছি যেটা আপনারা শোনলেই বুঝতে পারবেন। ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার।’

‘‘আমরা জনতার পুলিশ হতে চাই। আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই। আমরা চাই আপনাদের পুলিশ হতে, জনগণের পুলিশ হতে। সে লক্ষ্যেই আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। ভুল ত্রুটি থাকলে তার সমালোচনা আপনারা অবশ্যই করবেন কিন্তু যদি আমার কোনো অফিসার অপরাধ করে, একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি হবে একজন পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে তারও সেই একই শাস্তি হবে’ ঘোষণা পুলিশ মহাপরিদর্শকের।’’

কোনো পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত অপরাধ করে থাকে তাহলে তার দায় দায়িত্ব তার নিজের। তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করবো। আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তা আমাদের জানাবেন। আমরা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবো।’

‘আইজিপির নিজের কোনো দিন নেই’
ব্যস্ততার শেকলে যেন ‘বন্দি জীবন’ পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীর। সেই তথ্যই স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) আমার এখানে আসার কথা ছিল। কিন্তু আসলে আইজিপি হিসেবে এখন আমার নিজের কোনো দিন নেই। প্রত্যেকটি দিন আমার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি দিন একেক জনের জন্যে বরাদ্দ করে রেখেছি। গতকাল ছিলো অন্যদের জন্য, আজকের সকাল আরও কিছু মানুষদের জন্য। এখন এখানে এবং সন্ধ্যার পরে আবার অন্যদের জন্য বরাদ্দ।এখন নিজের জন্য কোনো সময় নেই। এখন সবচেয়ে বেশি অবহেলিত আমার পরিবার। তাদের সঙ্গেই দেখা হয় না এখন। যতই সফল হবেন ততই কিন্তু সবচেয়ে বেশি পরিবার সাফারার হয়, সন্তানরা সাফারার হয় সবচেয়ে বেশি।’

পুলিশ প্রধানের সততার প্রশংসায় মন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই
বাবুরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ যুুগ পূর্তি অনুষ্ঠান। নবীন-প্রবীণের এ মিলন মেলায় চারপাশে হাসির ফোয়ারা। ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ। পুরনোদের চোখ-মুখে ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে অতীতকে ছুঁয়ে দেখার উচ্ছ্বাস। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বে থাকা পূর্বসূরীদের কাছে পেয়ে নতুনদের বিকেল কেটেছে যেন স্বপ্নের ঘোরে।

অগ্রজদের পাশে সমান আনন্দে মশগুল ছিলেন অনেকেই। আলিঙ্গনে বাঁধা হলে জমে উঠছে গল্প। হয়তো নানা রঙের মানুষ কৈশোরের হারানো সকাল-বিকেলগুলো খুঁজে ফিরেছেন। পুরোনো বন্ধুকে কাছে পেয়ে খুলে দিয়েছেন স্মৃতির জানালা। আচমকা মনের আঙিনা ভিজিয়ে দিয়েছে বন্ধুতার একপশলা বৃষ্টি।

এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি পুলিশ প্রধান ড. জাবেদ পাটোয়ারীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতে পুলিশ প্রধানকে তিনি উপস্থাপন করেছেন এভাবে- ‘বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের গর্ব, চাঁদপুরের গর্ব, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, যিনি সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দক্ষতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পুলিশ যেমন তাকে নিয়ে গর্বিত, চাঁদপুর জেলাবাসীও তাকে নিয়ে গর্বিত।’

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলালের ভাষ্যমতে, ‘দেশের মানুষের কাছে স্বচ্ছ ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ড. জাবেদ পাটোয়ারী।’

‘জাবেদ পাটোয়ারী সজ্জন, নির্লোভ ও নিরহংকারী মানুষ,’ বলছিলেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাসির উদ্দিন।

আবার চাঁদপুর বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি শহীদুল্লাহ মাষ্টার ডা. দীপু মনিকে সরকারের সেরা মন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস ছিল জাতির জন্য গলার কাঁটা। সেই প্রশ্নফাঁস বন্ধ করে সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শতভাগ সফল আমাদের সবার প্রিয় দীপু আপা।’

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নতুন চমক দিয়ে তৃণমূলে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের গল্প শুনলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

দেশের রাজনীতিতে এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করছেন। তরুণদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় মিলিত হচ্ছেন। পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার নতুন এক চমক দিলেন তারেক রহমান কন্যা। তিনি ছুটে গেলেন একেবারে তৃণমূলে। তৃণমূলে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের নানামুখী উদ্যোগ ও প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ওই প্রকল্প পরিদর্শন করতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপস্থিত হন তিনি। পরিদর্শনকালে জাইমা উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কালীবাজাইল গ্রামের মোতালেব ড্রাইভারের বাড়িতে ব্র্যাকের প্রথা অনুযায়ী চাটাইয়ে বসে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি একজন প্রতিবন্ধীসহ পাঁচ সদস্যের টিমের বক্তব্য শোনেন এবং ব্র্যাকের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন-এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই জাইমা রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হলেও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাইমা রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। পরে লন্ডনে ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন তিনি। গত ২৩ ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি আইন পেশায় কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডন চলে যান তারেক রহমান। ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ তৈরি হয়েছে গত বছরের ২৪ নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার পোস্টগুলোও প্রচার করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। তবে গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। দেশে ফেরার আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। তিনি আরও লিখেছেন, দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। গত ২৭ জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ছবি শেয়ার করেছেন। নির্বাচনের আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকা থেকে বাবা তারেক রহমানের জন্য গণসংযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান জাইমা রহমান। এরপর রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিআইএসএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে পলিসি মেকিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জাইমা বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত পাইপলাইনটা সৃষ্টি করা এবং ধরে রাখতে না পারলে সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। ফলে ভালো ভালো নেত্রীদের আমরা সুযোগ দিতে পারব না। তাই ধারাবাহিকতা তৈরির পাশাপাশি ধরেও রাখতে হবে।’

রাজধানীর ভাসানটেকে নারী ও এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারও করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি ও ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা ও হিফজ মাদ্রাসায় পুরো মাসজুড়ে ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সরবরাহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাইমা রহমান গত বৃহস্পতিবারের (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইফতারে যোগ দেন। এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশু ও বয়স্ক নারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় জাইমা রহমান শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে ইফতার মাহফিলে অংশ নেয়া নারীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তার বাবাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাইমা রহমান এসব কথা বলেন। সেইসঙ্গে দুটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার মা ডা. জুবাইদা রহমানও।

কালের আলো/এম/জেএন

১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর পিলখানার শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:

১৭ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন সেদিন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ। সেদিন পিলখানায় থাকা সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও চরম নৃশংসতার শিকার হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বিদ্রোহকে অন্যতম নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। এখন মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিচারিক আদালতে এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, ২০২৫ সাল থেকে শোকাবহ পিলখানা ট্র্যাজেডির এ দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে আর জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তাদের। পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন
২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শাহাদতবরণকারী সব ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান।’

একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে ভারী কণ্ঠস্বর
শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তিনি আরও বলেন, দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত
আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তারা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করবো। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস।

জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে গুরুত্ব
সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এর আগে পিলখানা ট্র্যাজেডির শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরবর্তীতে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে অগ্রাধিকার দিতে চান নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির

কালের আলো রিপোর্ট:

সরকার গঠন করেই পুলিশের শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ইউনূস সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করা আইজিপি বাহারুল আলমকে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী রোষানলের শিকার অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের নেতৃত্বে এসেই আইজিপি আলী হোসেন ফকির মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে নিজেদের কাজে অগ্রাধিকার দিতে চান। স্বাভাবিক রাখতে চান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে চান। এক্ষেত্রে তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে আইজিপির দায়িত্বভার গ্রহণ করে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে আইজিপি এসব বিষয়ে জোর দিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, মব জাস্টিস, সন্ত্রাস ও মাদক নিয়েও কথা বলেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চান। এক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যে মাদক ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে। আমরা এ কার্যক্রম আরও বেগবান করবো। যারা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম, তাদেরই কাজে লাগানো হবে।’

২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তাদের একজন ছিলেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার আলী হোসেন ফকির। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন।

 

  • নবনিযুক্ত আইজিপিকে স্বাগত জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা
  • পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বক্তারা
  • তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীতের আশাবাদ
  • নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন, মনে করেন বিদায়ী আইজিপি
  • নতুন পুলিশপ্রধান দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান।

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন আইজিপি হিসেবে এবার তাকেই বেছে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিন সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম এবং নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের সম্মানে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান হয়। দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে এই অনুষ্ঠান হয়। নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে স্বাগত জানিয়ে তাকে পেশাদার কর্মকর্তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে পুলিশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। নতুন আইজিপিকে একজন দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নবনিযুক্ত আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সক্ষম হবেন। নতুন পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব পালনকালে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যাতে কেউ রাস্তাঘাট বন্ধ করে মিছিল-মিটিং বা সমাবেশের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে। এক্ষেত্রে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মব জাস্টিসকে অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিকরা যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে জনসচেতনতা বাড়বে।’ বকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে মন্তব্য করে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যে কোনো রাজনৈতিক দল ডাক দিলে রাস্তায় লোকের অভাব হয় না। কারণ দেশে বেকারের সংখ্যা অনেক। বেকারত্ব বেশি থাকলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঝুঁকিও বাড়ে। সরকার শিল্প ও অর্থনীতি চাঙা করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান সরকার।’

কালের আলো/এমএএএমকে